এবারের ঈদুল আযহাকে আলোকিত করার জন্য কয়েকটি পরামর্শ

ID 19790344 © Bgopal | Dreamstime.com

আপনি নিজের জীবনের প্রথম বা পঞ্চাশতম যেই ঈদটিই উদযাপন করছেন না কেন, ঈদ সর্বদাই আমাদের জীবনে অনেক আনন্দ এবং প্রত্যাশা নিয়ে আসে। তরুণ এবং বৃদ্ধ সবার জন্য, ঈদের নিখুঁত আবেগ অস্বীকার করা যায় না।

ঈদুল আযহা ‘ত্যাগের উত্সব’ হিসাবেও পরিচিত, এটি প্রিয়জনের সাথে পুনরায় সংযোগ স্থাপন এবং আপনার জীবনে আল্লাহর অগণিত নেয়ামত গণনা করার সময়।

এটি অতীত থেকে চলে আসা পারিবারিক ঐতিহ্যগুলিকে পুনর্বিবেচনা করার জন্য উপযুক্ত সময় এবং সম্ভবত আপনার নিজের মধ্যে কিছু আবিষ্কার করারও উপযুক্ত সময়! এই ঈদুল আযহাকে নিজের বানিয়ে নিন এবং নিকট ও দূরবর্তী, পরিচিত ও অপরিচিত সকলের মাঝে ইসলামী চেতনা বিকাশের চেষ্টা করুন।

ইবাদত দিয়ে দিন শুরু করুন

ঈদুল আযহার দিন শুরু হয় ঈদের নামাজের মধ্য দিয়ে। মুসলমানরা এ দিন খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে এবং সুন্নাহস্বরূপ গোসল সম্পাদন করে। ঈদের ময়দানে রওয়ানা হওয়ার আগে একজন মুসলিমকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ অনুসারে খেজুর খেতেও দেখা যায়।

কোনো যানবাহনে যাওয়ার পরিবর্তে সবচেয়ে উত্তম হল ঈদের ময়দানে পায়ে হেটে যাওয়া এবং যাওয়ার সময় উচ্চস্বরে তাকবীর বলতে বলতে যাওয়া। এরপর ঈদের ময়দানে গিয়ে যেখানে জায়গা পাওয়া যায় সেখানে বসা এবং দুর্বল ও অসুস্থ কেউ থাকলে তাঁর দিকে খেয়াল রাখা।

ত্যাগ স্বীকার

রমজান মাস শেষ হওয়ার পরে ঈদুল ফিতরের বিপরীতে ঈদুল আযহার স্বতন্ত্রতা হল হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম যখন আল্লাহর আদেশ পালন করে তাঁর পুত্র ইসমাইল আ’লাইহিস সালামকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়ে যে ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন তা স্মরণ করা।

তাঁর এই ত্যাগের মুহুর্তে, জিবরাঈল আ’লাইহিস সালাম উপস্থিত হয়েছিলেন এবং ইসমাইল  আ’লাইহিস সালাম এর পরিবর্তে একটি দুম্বা কুরবানি হয়েছিল যা প্রমাণ করে যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ ইব্রাহিম আ’লাইহিস সালাম এর আনুগত্যকে স্বীকার করেছেন যদিও তার পুত্রের এক ফোঁটা রক্তও ঝরেনি।

মুসলমানরা ঈদের নামাজের পরে একটি পশু কোরবানি দিয়ে এই গৌরবময় ঐতিহ্যকে সম্মান করে। অতঃপর কুরবানির মাংস পরিবারের জন্য এক-তৃতীয়াংশে রেখে বাকি দুই অংশ আত্মীয় এবং দরিদ্রদের মাঝে বন্টন করে দেওয়া হয়।

ছোটদের ঈদ

ঈদুল আযহার ছুটি পুরো পরিবারই উপভোগ করে। তবে যাইহোক ছোট শিশুরাই ঈদকে সবচেয়ে বেশি উপভোগ করে। নতুন পোশাক থেকে শুরু করে ঈদের বকশিস এবং খেলাধুলার মাধ্যমে মুসলিম শিশুরা ছুটির প্রতিটি মুহুর্তের স্বাদ গ্রহণ করে এবং আত্মীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত সমস্ত ভালোবাসা উপভোগ করে। ছুটির দিনগুলিত শিশুরা পরিবার থেকে দূরে যেসব সদস্যরা থাকেন তাদের সাথে পুনরায় সখ্যতা অর্জনের সুযোগ পায়।

বড়দের ঈদ

বড়রাও ঈদুল আযহার ছুটি দিনগুলোকে ছোট শিশুদের মতই উপভোগ করে থাকে! পরিবার ও প্রতিবেশীদের জন্য উপহার কিনতে অর্থ ব্যয় করা ছাড়া অনেকের কাছেই ঈদ সার্থকই হয় না। ঈদে উপহার দেওয়ার অনুভূতিটি অমুসলিমদের জন্যও প্রযোজ্য এবং এটি তাদের অন্তরকে নরম করার একটি উপায় হিসাবে কাজ করতে পারে, তাই তাদের প্রতিও উদার হন!

ঈদুল আযহা একজন নওমুসলিমের জন্য তাদের অমুসলিম পরিবারের সদস্যদেরকে ঈমানের সাথে পরিচয় করানোর জন্যও একটি উপযুক্ত সুযোগ।

সর্বস্থানে আপনার ঈদের অনুভূতিকে ছড়িয়ে দিন 

যদিও বেশিরভাগ মুসলমান ঈদের ছুটিতে বাড়ির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করেন, তবে আপনার গাড়ি নিয়ে রাস্তায় ঘুরতে যাওয়াও একটি ভাল ধারণা! এটি অবশ্যই এখনকার প্রতি দেশের বিধিনিষেধ মেনে আমাদের করা উচিত। প্রতিটি মুসলমানের চারপাশে সাধারণত একটি প্রেমময় পরিবার রয়েছে। তবে এমন আরও অনেক মুসলমান রয়েছে যারা ইসলাম গ্রহণের কারণে পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। তাদের সাথে সাক্ষাত করে তাদেরকেও আপনার আনন্দের মাঝে শরিক করে নিন।

সোশ্যাল মিডিয়াকে এ কারণে ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে, যেহেতু এটি মাধ্যমে এমন অনেক নওমুসলিমদের সাথে মিলিত হওয়া সহজ হয় যারা মুসলিম সংখ্যালঘু শহরগুলিতে বাস করে। আপনার ঈদের ছুটি এমন কোনো সহকর্মী মুসলিমের সাথে শেয়ার করুন যে কাউকে না পেয়ে একা এ ছুটি কাটাচ্ছে।

আরও অর্থপূর্ণ ঈদ

এই ঈদে, আপনার স্বাচ্ছন্দ্যের স্থান ছেড়ে বেরিয়ে আসুন এবং আপনার আশেপাশে থাকা দরিদ্র মুসলিমদের সাথে এই ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিন।

অন্যান্য বছর হলে হয়তো আমরা বলতাম, আপনার আশেপাশে কোনো নার্সিংহোম বা বৃদ্ধাশ্রমে যান এবং সেখানকার অসহায়, অসুস্থ ও বৃদ্ধদের সাথে সাক্ষাত করে তাদেরকেই আপনার ঈদের আনন্দের মাঝে তাঁদের অংশীদার করে নিন। কিন্তু এ বছরটা অন্যরকম। তাই সুরক্ষবিধি মেনে যতটুকু অপরের সহযোগিতায় নিজেকে নিবেদন করা যায়, সেটাই চেষ্টা করুন। 

ঈদ পালনের প্রতিটি মুহুর্তে রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহকে মেনে চলুন। এতে আপনার ঈদ হবে অনাবিল আনন্দে ভরপুর।