এভারেস্ট শৃঙ্গে ৫-জি পরিষেবা, প্রশ্নের মুখে পরিবেশ

Avalanche
Top of the World. Everest Himalayan Range, view from Khumbu valley, Sagarmatha National park, Everest region, Eastern Nepal

বর্তমানে বিশ্বের প্রতিটা জায়গা করোনার আতঙ্কে কম্পিত, কোনোমতেই তাকে বশে আনতে পারছে না উন্নত দেশগুলি। আর এই ভয়ংকর অবস্থায় দেশের অর্থনীতি বহুল ভাবে  ভেঙে পড়ছে। কিন্তু এই অবস্থাতেই এক নতুন উদ্যোগ দেখা দিয়েছে।বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট এর চূড়ায় চালু হচ্ছে 5G পরিষেবা। প্রতিবছর পর্বতরোহীরা এভারেস্ট জয়ের উদ্যোগে বেড়িয়ে পড়ে। তাদের বাঁচা মরা হাতে নিয়ে এগোতে হয়, দুর্গম অবস্থায় তাদের সাহায্যের জন্য প্রযুক্তি ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। চিনের দুটি সংস্থা যৌথ উদ্যোগে কাজ চালাচ্ছে। জানা যাচ্ছে যে, চিনের অন্যতম টেলিকম  সংস্থাচায়না টেলিকমহুয়ায়েইএভারেস্টের চূড়ায় 5G পরিষেবার নতুন উদ্যোগ সামিল হয়েছে।

আপাতত সূত্রের খবর যে এভারেস্ট এর দুটি বেস ক্যাম্পে নতুন করে আধুনিক পরিষেবা চালু হয়েছে। নানান প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে ওই দুটি বেস ক্যাম্পে। চায়না টেলিকম থেকে জানা গেছে, শুধুমাত্র ৬৫০০মিটার উচ্চতায় কয়েকটি যন্ত্রপাতি বসানোর কাজ চলছে।এই কাজ শেষ হলেই চালু হয়ে যাবে 5G পরিষেবা। আশা করা যাচ্ছে যে কিছুদিনের মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে। অ্যান্টেনা গুলির মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে এক গিগাবাইট স্পিড পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।যেখানে আগে বেস ক্যাম্প গুলোতে 2G,3G 4G ছিল, সেখানে আরোও তিনটি ফাইজি যোগ করা হয়েছে।

এভারেস্টের দুটি উচ্চতায় বেস ক্যাম্পে এর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বেস ক্যাম্প ছাড়া একটি ৫৩০০ মিটার উচ্চতায় আর একটি ৫৮০০ মিটার উচ্চতায় 5G পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত গৃহীত হচ্ছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে রাস্তায়।করোনার মতো পরিস্থিতেও ১৫০জন কর্মী  এই কাজ করার উদ্যোগ সামিল হয়েছে। ৪টন ওজনের মধ্যে থাকা সব যন্ত্রপাতিই পাঠানো হচ্ছে। ওখানকার সংস্থার লোকেরা মনে করছেন যে এতে পর্বতরোহীদের সুবিধা বাড়বে। পর্বতরোহীদের আরোহন উন্নত হবে আগের থেকে এবং অনেকাংশেই তা সুরক্ষিত। এছাড়াও চূড়ায় গিয়ে তারা নানা রকম ভিডিও ফটো তুলতে পারবে এবং তা শেয়ার করতে পারবে।

প্রশ্ন উঠছে এর ফলে প্রকৃতিকে কতটা ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছি আমরা। প্রাকৃতিক সম্পদ বিশ্বের উচ্চতম শিখরে এমনিতে অতিমাত্রায় পর্বতারোহণ ক্রমাগত ঝুঁকি ও দূষণ সৃষ্টি করছে। নেপাল সরকার গত বছর গ্রীষ্মে রেকর্ড সংখ্যক অভিযাত্রীকে শৃঙ্গে চড়ার অনুমতি দিয়েছিল। অভিযাত্রী তো বটেই তাদের সঙ্গে থাক গাইড এবং কর্মকর্তা মিলে চুড়ার আগে লম্বা লাইন সৃষ্টি করেছিল। গত বছর বসন্তে দশজন পর্বতারোহী মারা গিয়েছিলেন। বিশিষ্ট মহল থেকে এর জন্য অনভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের  ভিড়, ব্যবসার জন্য অপারেটরদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রতিযোগীতা এবং বায়ু এবং পরিবেশ দূষণের কারণে পর্বতশৃঙ্গে বৃদ্ধি পাওয়া খারাপ আবহাওয়াকে দায়ী করছেন। এর মধ্যে প্রযুক্তির এই অগ্রগতি এবং পৃথিবীর উচ্চ শিখরে বেড়ে চলা মোবাইল টাওয়ার স্থাপন কতটা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের দিকে আমাদের ঠেলে দিচ্ছে, সেটাই দেখার।