SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

এমন একটি দু’আ যা কয়েকঘন্টা ব্যাপী ইবাদত অপেক্ষাও উত্তম

দু'আ ২০ ফেব্রু. ২০২১
ফোকাস
দু'আ ও যিকিরে
© Yudhistirama | Dreamstime.com

একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর স্ত্রী জুয়াইরিয়াহ বিনতে হারিস (রাযিঃ)-এর বাড়ি থেকে ফজরের নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হলেন। এসময় জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) নির্দিষ্ট একটি স্থানে বসে দু’আয় ও যিকিরে মশগুল ছিলেন।

এর বেশ কয়েক ঘন্টা পরে, ইশরাকের নামাজান্তে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বাড়ি ফিরে এসে দেখলেন যে, জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) পূর্বের সেই একই স্থানে বসে দু’আ ও যিকিরে মগ্ন আছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম এরকম দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, “আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় থেকে তুমি কি এইখানে বসেই যিকিরে মগ্ন আছো?” জুয়াইরিয়া (রাযিঃ) জবাবে ইতিবাচক উত্তর দিলেন।

তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁকে বললেন, “তোমাকে ছেড়ে যাওয়ার পরে আমি ৪ টি কালিমা ৩ বার করে পাঠ করেছি। তুমি এতক্ষণে যত যিকির করেছ, তা যদি একটি পাল্লায় রাখা হয় আর আমার পাঠকৃত কালিমাগুলি যদি আরেক পাল্লায় রাখা হয়, তাহলে আমার পাল্লাটিই বেশি ভারি হবে। সেই কালিমাগুলি হল-

“সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি আ’দাদা খালক্বিহি, ওয়া রিদ্বা নাফসিহি, ওয়া ঝিনাতা আ’রশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।” (মুসলিম)

এগুলিই হল সেই বরকতময় কালিমা, যেগুলি মাত্র ৩ বার পাঠ করে কয়েকঘন্টা ক্রমাগত ইবাদত অপেক্ষাও অধিক সওয়াব লাভ করা যায়

এই কালিমাগুলি কতটা শক্তিশালী তা পরিপূর্ণরূপে উপলব্ধি করতে আমরা পুরো দু’আ টিকে সংক্ষেপে বিশ্লেষণ করব।

সুবহানাল্লাহি

সুবহানাল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ পুতঃপবিত্র, সমস্ত গৌরব তাঁর জন্য।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, “সুবহানাল্লাহ শব্দটির অর্থ হল- আল্লাহ পবিত্র অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা যাবতীয় মন্দ ও সর্ব প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে সম্পূর্ণ পবিত্র।”

একবার ওমর (রাযিঃ) আলী (রাযিঃ)-এর নিকট প্রশ্ন করলেন, “আমরা তো ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর অর্থ ও তাৎপর্য জানি। কিন্তু সুবহানাল্লাহ’এর তাৎপর্য কি?” তখন আলী (রাযিঃ) জবাবে বললেন, “আল্লাহ তা’আলা এ শব্দটি নিজের জন্য পছন্দ করেছেন। তিনি এ শব্দ দ্বারা সন্তুষ্ট হন। এ শব্দটির যিকির আল্লাহ তা’আলার নিকট অত্যন্ত পছন্দনীয়।”

ওয়া বিহামদিহি

এরপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘ওয়া বিহামদিহি’। এর অর্থ হল, “হে আল্লাহ একমাত্র আপনিই সমস্ত প্রশংসার প্রাপ্য।”

এই প্রশংসার মাধ্যমে আমরা আল্লাহর একত্ববাদ, স্বাতন্ত্র্য, শক্তি, ক্ষমতা, তাঁর সুন্দরতম নাম এবং সমস্ত প্রকার প্রশংসার স্বীকৃত দিচ্ছি!

সুতরাং এই শব্দটির মাধ্যমে আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের ইতিবাচক মনোভাবকে তুলে ধরছি। আর বান্দা যখন আল্লাহর প্রশংসা করে, তখন আল্লাহ সর্বাধিক খুশি হন এবং বান্দার মনোবাঞ্ছনাকে পূরণ করেন।

আ’দাদা খালক্বিহি

অর্থঃ তাঁর সৃষ্টিকুলের সংখ্যার পরিমাণ!

এর দ্বারা কি বৃহৎ একটা সংখ্যা বোঝানো হয়েছে তা কি আপনি কল্পনা করতে পারছেন?

এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে প্রতিটি মানুষ, প্রতিটি জ্বিন, প্রতিটি ফেরেশতা, প্রতিটি প্রাণী, মরুভূমির প্রতিটি বালিকণা, সমুদ্রের প্রতি ফোঁটা জল, প্রতিটি তারকা এবং প্রতিটি উদ্ভিদ! প্রতিটি সৃষ্টি, আমরা যেগুলি সম্পর্কে জানি এবং আমরা যেগুলি সম্পর্কে জানি না! সকল কিছুই এর অন্তর্ভুক্ত! আল্লাহু আকবার!

ওয়া রিদ্বা নাফসিহি

অর্থঃ তাঁর সন্তুষ্টি পরিমাণ!

আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রতিটি বান্দার মূল লক্ষ্য। আর আল্লাহ যেই পরিমাণ আমলে সন্তুষ্ট হবেন সেই পরিমাণ এই দু’আয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে! আল্লাহু আকবার!

ওয়া ঝিনাতা আ’রশিহি

অর্থঃ তাঁর আরশের ওজন সমপরিমাণ

জাবের বিন আবদুল্লাহ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমাকে আল্লাহর আরশ ধারণকারী ফেরেশতাদের সম্পর্কে বলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তাঁরা এত বিশাল যে, তাঁদের কানের লতি থেকে গর্দানের শেষ সীমানার মধ্যবর্তী স্থানে দ্রুতগামী ঘোড়ার ৭০০ বছরের দূরত্ব রয়েছে।” (আবু দাউদ)

আরশ বহনকারী একেকজন ফেরেশতা যদি এত বিশাল হয় তাহলে আল্লাহর আরশ না জানি কত বড়! আর এই আরশের ওজনের সমপরিমাণ এই দু’আয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে! আল্লাহু আকবার!

ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি

অর্থঃ এবং তাঁর শব্দাবলি লেখার জন্য প্রয়োজনীয় কালি এবং কলমের সমপরিমাণ

আল্লাহর সকল জ্ঞান তাঁর কথার অন্তর্ভুক্ত। আর আল্লাহর জ্ঞানের যে কোনো সীমা পরিসীমা নেই তা তো সকলের নিকটই বোধগম্য। আর এই কথার কালি ও কলমের সমপরিমাণ এই দু’আয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে! আল্লাহু আকবার!

আল্লাহ বলেন, “দুনিয়ার সব গাছ যদি কলম হয় আর সমুদ্রের পানি যদি কালি হয় আর তার সাথে আরোও সাত সমুদ্র যুক্ত করা হয়, তবুও আল্লাহর (প্রশংসার) কথা (লিখে) শেষ করা যাবে না। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, মহাপ্রজ্ঞার অধিকারী।” (আল কুরআন-৩১:২৭)

এই বর্ণনা থেকে আমরা একটু হলেও বুঝতে পেরেছি, এই কালিমাগুলি কতটা মাহাত্ম্যপূর্ণ। এমনি তো আর মাত্র এই ৪টি কালিমাকে কয়েকঘন্টার অনবরত ইবাদত থেকেও উত্তম বলা হয় নি। আল্লাহ আমাদেরকে এই কালিমাগুলির উপর আমল করার এবং অপর মুসলিম ভাই-বোনের নিকট পৌছে দেওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।