SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

এলাচের চা ডিপ্রেশন কাটাতে সাহায্য করে

স্বাস্থ্যকর খাদ্য ২২ জানু. ২০২১
জানা-অজানা
এলাচের
© Alexey Arzamastsev | Dreamstime.com

এলাচ দানা, আরবি ভাষায় যাকে বলে ‘হুবা অলহল’ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মশলা। সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত আরবি কফিই বলুন, কী সুস্বাদু বিরিয়ানি, কাবাব, রান্নায় স্বাদ আর গন্ধ যোগ করতে এলাচের জুড়ি নেই। ভারতীয় উপমহাদেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় পানীয় হল এলাচের গুঁড়ো সহযোগে মশলা চা। রোজকার রান্নাতে এলাচের ব্যবহার পৃথিবীর নানা দেশে খুব জনপ্রিয়। এটি পৃথিবীর অন্যতম দামি মশলাও বটে।

এলাচের ইতিহাস

এলাচ সম্ভবত পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন ব্যবহৃত মশলা। আজ থেকে চারহাজার বছর আগে এলাচ ব্যবহারের কথা জানতে পারা যায়। প্রথমে ভারতীয় উপমহাদেশে এলাচ উৎপন্ন হলেও পরে বণিকদের হাত ধরে তা ছড়িয়ে পড়ে পারস্য, আরব সহ গোটা মধ্য এশিয়া ও গ্রিসে। দ্বাদশ শতকের আরবি ভৌগোলিক মুহম্মদ আল-ইদ্রিসির লেখা থেকে জানা যায়, ভারত ও চিন থেকে এলাচ ইয়েমেনের আডেন বন্দরে রফতানি করা হত। ঔষধি গুণের জন্য মিশরে এলাচের কদর ছিল, ব্যাবিলনীয় ও আসিরীয় সভ্যতাতেও মানুষ একে চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করত।

এলাচ দানা কেন খাবেন?

এলাচ সাধারণত দু’ধরনের হয়ে থাকে। ছোট সবুজ এলাচ ও কালো বড় এলাচ। আজকের আলোচনায় আমরা ছোট সবুজ এলাচ নিয়েই আলোচনা করব। ছোট এলাচের বৈজ্ঞানিক নাম এলেটারিয়া কার্ডামোমাম। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, বি৬, এ, সি ইত্যাদি থাকে। এছাড়া থাকে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ছাড়াও এলাচে ক্যালশিয়াম, তামা, লোহা, ম্যাগনেসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস, জিঙ্ক। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর ঔষধি গুণের জন্য এলাচ বা এলাচের তেল আমরা এমনিও খেয়ে থাকি। নানা গবেষণায় জানা গিয়েছে, রোজ ২-৩ টে এলাচ দানা খেলে তার সুদূরপ্রসারী ফল মিলতে পারে।

এলাচ হজমে সহায়তা করে

এলাচের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্টের জন্য এটি খাবার পরিপাককে তরান্বিত করে, মেটাবলিজমের হার বৃদ্ধি করে। এছাড়া আমাদের পাকস্থলীতে পিত্তরসের ক্ষরণকে দ্রুত করে এলাচ হজমে ও ফ্যাট পরিপাকে সহায়তা করে। অ্যাসিডিটি, বুক জ্বালা, পেটখারাপ ইত্যাদি প্রতিরোধ করে শরীরকে ঠান্ডা করতেও এলাচের জুড়ি নেই। খাবারে অরুচি থাকলে এলাচ খিদে বাড়ায়। গোটা এলাচের পাশাপাশি এলাচের তেলও ক্ষুধাবর্ধক হিসেবে কাজ করে। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানের জন্য এলাচকে অনেকক্ষেত্রে আলসারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। গাড়িতে উঠলে বমির প্রবণতা থাকলে সঙ্গে এলাচ রাখতে পারেন।

হৃদযন্ত্রকে ভাল রাখে

এলাচের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণাবলী হৃদযন্ত্রকে ভাল রাখে। এতে থাকা ফাইবার রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়। তাই ডাক্তাররা হৃদযন্ত্র ভাল রাখার জন্য প্রতিদিন নিয়ম করে গোটা এলাচ খেতে বলেন। এছাড়া এলাচ রক্তে দূষিত পদার্থ দূর করে। রক্তচাপ কমাতে ও রক্তকে জমাট বাঁধা থেকে আটকাতে এলাচ কাজে লাগে।

এলাচের ক্যানসার প্রতিরোধ ক্ষমতা

আজকাল নানাকারণে পৃথিবী জুড়েই ক্যানসারের প্রকোপ বেড়ে চলেছে। তবে নিয়ম করে এলাচ খেলে কিন্তু সে সম্ভাবনা অনেকটা কমতে পারে। বেশ কিছু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, এলাচ ক্যানসার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সৌদি আরবের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, এলাচ গুঁড়ো টিউমারের সম্ভাবনা কমায়। সাধারণভাবে শারীরিক প্রদাহের কারণে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।  এলাচের অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি গুণ সেই প্রদাহ কমায়।  এবং যে-সমস্ত উৎসেচক ক্যানসার প্রতিরোধ করে, তাদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। ফলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত হয় এবং ধীরে-ধীরে ক্যানসার কোষ বিনষ্ট হয়।

এলাচের হাঁপানি দূর করার ক্ষমতা

আপনার যদি হাঁপানি, কাশি বা শ্বাসকষ্টের সমস্যা, ব্রঙ্কাইটিস ইত্যাদি থাকে, তাহলে এলাচ দানা উপকারে লাগতে পারে। এলাচ ফুসফুসে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি করে, ফলে শ্বাস নিতে সুবিধা হয়। তাছাড়া মিউকাস মেমব্রেনকে ঠান্ডা করে প্রদাহ কমাতেও এলাচ সাহায্য করে। গলাব্যথার ক্ষেত্রে এলাচ উপকারে লাগে।

যকৃতকে ভাল রাখে

এলাচের ডিটক্সিফায়িং ক্ষমতার জন্য একে নানা চিকিৎসায় কাজে লাগানো হয়। সেরকমই একটি হল যকৃত বা লিভারের সমস্যা। এলাচ শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে যকৃতকে ভাল রাখে। যাদের ফ্যাটি লিভার ও স্থূলত্বের সমস্যা আছে, তাঁরা প্রতিদিন এলাচ খেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনও বিশদ গবেষণার প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস কমায়

এলাচে প্রচুর পরিমাণে ম্যাঙ্গানিজ থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে এই বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন। তবে আপনার ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ম করে ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি ২টি করে এলাচ দানাও খেতে পারেন, উপকার পাবেন।

এলাচ ডিপ্রেশন দূর করে

স্ট্রেস ও নানাকারণে আজকাল ডিপ্রেশন বেড়েই যাচ্ছে। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকার কারণে এলাচ ডিপ্রেশনকে কাটাতে সাহায্য করে। নিয়ম করে এলাচ দেওয়া চা খেলে দেখবেন মন অনেক ভাল থাকছে।

মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভাল রাখে

এলাচ দানার জীবানু প্রতিরোধক গুণ মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। আমাদের মুখের মধ্যে স্ট্রেপটোকক্কি মিউট্যানস নামে একধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা দাঁতের ক্ষয় দ্রুত করে। এলাচ এই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার থেকে আমাদের বাঁচায় ও লালানিঃসরণ বৃদ্ধি করে, যার ফলে দাঁতের ক্ষয় ব্যাহত হয়। তাছাড়া মুখে ব্যাকটেরিয় ক্রিয়াকলাপের ফলে ও খাবার জমে থাকলে অনেকসময়ে দুর্গন্ধ হয়। এলাচ সেটি দূর করতেও সাহায্য করে।

ত্বকের জন্য উপকারী

এলাচের জীবানুনাশক ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য এটি ত্বকের নানা সমস্যার ক্ষেত্রেও সমানভাবে কাজে লাগে। এর অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বককে ঠান্ডা রাখে। ত্বকে অ্যালার্জি, র‍্যাশ ইত্যাদিকে দূর করে এলাচ ত্বকের ঔজ্জ্বল্য বাড়ায় ও ত্বককে পরিষ্কার রাখে। এর জন্য আপনি নিয়ম করে এলাচ দানা খাবার পাশাপাশি মধুর সঙ্গে মিশিয়ে মুখে মেখে নিতেও পারেন।

সুতরাং রোগ থেকে দূরে থাকতে এবার রোজ এলাচ দানা খেতেই পারেন।