SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ওহুদের যুদ্ধ ঘিরে নবীজির স্বপ্ন

ইতিহাস ০৬ ফেব্রু. ২০২১
জানা-অজানা
Khawlah bint Al-Azwar
Author unknown/ Public Domain

নবীজি ওহুদের যুদ্ধ কে কেন্দ্র করে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এ যুদ্ধে কিছু সাহাবী নিহত হবে, আর তলোয়ারের ভঙ্গুরতার অর্থ হচ্ছে তার পরিবার থেকে কেউ শহীদ হবে, এবং সুরক্ষিত বর্মন অর্থ হচ্ছে মদিনা শহর। যুদ্ধ কৌশল নিয়ে এর ভেতরের দুটি মত ছিল। নবীজি সহ কারো কারো মতে শহরের ভেতর থেকেই প্রতিরোধ করতে চেয়েছিল। কারণ মদিনা শহর ওই সময় সুরক্ষিত ছিল এবং প্রতিপক্ষ কাছাকাছি চলে আসলে সহজে তাদের উপরে আক্রমণ করা যাবে। আবার নারীরা ছাদের উপর থেকেও ইটপাটকেল ছুড়তে পারবে।

ওহুদের যুদ্ধ বাহিনী 

অপরদিকে হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব সহ কিছু সাহাবীর ভিন্নমত ছিল। তাদের মতামত অনুসারে শহরের ভেতর থেকে যদি প্রতিরক্ষা করা হয় তবে শত্রুর মনোবল বৃদ্ধি পাবে। আর এগিয়ে গিয়ে খোলা ময়দানে লড়াই করলে ভবিষ্যতে শত্রুরা সহজে আক্রমণ করার সাহস পাবে না। মদিনার বাইরে গিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। যুদ্ধ করার জন্য মুসলিম বাহিনীতে মোট সেনা সংখ্যা ছিল ১০০০। এই বাহিনীর মধ্যে ৫০ জন ছিল অশ্বারোহী। আর ১০০ জন বর্ম পড়েছিল। নবীজি যুদ্ধের কৌশল হিসেবে মুসলিম বাহিনীকে মোট তিন ভাগে বিভক্ত করেন। বাহিনীগুলো হচ্ছে যথাক্রমে

১.মুহাজির বাহিনী

২.আউস বাহিনী

৩খাজরাজ বাহিনী।

এই তিনটি বাহিনীর সেনাপতি ছিলেন যথাক্রমে মুসআব ইবনে উমায়ের, উসাইদ ইবনে হুজাইর ও হুবাব ইবনে মুনজির। মদিনা থেকে প্রায় ১০০০ মুসলিম এর বাহিনী যুদ্ধের জন্য বের হয়। বাহিনীটি সাওত নামক স্থানে পৌঁছানোর পর আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই তার ৩০০ অনুসারী নিয়ে যুদ্ধে অস্বীকৃতি জানিয়ে দল ত্যাগ করে। এর ফলে দলটি ৭০০ মুসলিম নিয়েই ওদের দিকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে যাতে প্রতিপক্ষের মুখোমুখি না হতে হয় এজন্য কৌশল অবলম্বন করা হয়। মুসলিমরা ওহুদ পর্বতের শেষ প্রান্তে শিবির স্থাপন করে।

ওহুদের যুদ্ধ কৌশল 

যুদ্ধক্ষেত্রে পৌঁছানোর পর যুদ্ধ দলের সেনাবিন্যাস করা হয়। ৫০ জনের একটি দক্ষ তীরন্দাজের দলকে কানাত উপত্যকার দক্ষিনে মুসলিম শিবিরের পূর্ব-দক্ষিণে ১৫০ মিটার দূরে জাবালে রুমাত একটি ছোট পাহাড়ে আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের ইবনে নুমানের নেতৃত্বে অবস্থান এর নির্দেশনা দেয়া হয়। পেছনের গিরিপথের দিক থেকে আক্রমণের হাত থেকে মুসলিম বাহিনীকে তারা রক্ষা করবে এবং তাদের অবস্থানের কারণে বামপাশে ও ঝুঁকি কমে যাবে এই চিন্তাতেই তাদেরকে এই স্থানে অবস্থান নিতে বলা হয়। আর ওহুদপাহার যেহেতু ডান পাশে ছিল সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই এই দিকটি সুরক্ষিত ছিল।

এই কৌশলের ফলে মুসলিমরা প্রতিপক্ষের হাতে আবদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি ছিল না। নবীজি তীরন্দাজ দলটিকে নির্দেশনা দেন যে তিনি নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তীরন্দাজরা যেন কোনো অবস্থাতেই তাদের অবস্থান থেকে সরে না সে। তিনি নির্দেশনা হিসাবে বলেন, ‘তোমরা আমাদের পিছন দিক রক্ষা করবে। যদি তোমরা দেখ যে আমরা মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছি তবুও তোমরা আমাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসবে না। আর যদি দেখতে পাও যে আমরা গনিমতের মাল একত্রিত করছি তবে তখনও তোমর আমাদের সাথে যোগ দেবে না।’

পতাকাবহন 

বাকি সৈন্যদের বিভিন্ন ভাগে বিন্যস্ত করা হয়। বাহিনীর ডান ও বাম পাশের নেতৃত্ব যথাক্রমে দেয়া হয় মুনজির ইবনে আমর ও যুবাইর ইবনুল আওয়ামক। জুবায়েরের সরকারি হিসেবে মিকদাদ ইবনে আসওয়াদকে নিযুক্ত করা হয়। মক্কা বাহিনীর ডানপাশের নেতৃত্বে থাকা খালিদ বিন ওয়ালিদের অশ্ব রোগের প্রতিরোধ করার দায়িত্ব ছিল বামপাশের বাহিনীর। দক্ষ সৈনিকদের নিযুক্ত করা হয় সম্মুখযুদ্ধ করার জন্য। এদিকে আবু সুফিয়ান মক্কা বাহিনীর মূল ভাগের নেতৃত্বে ছিলেন। বাহিনীটির মাঝখানে তিনি নিজের জন্য কেন্দ্রস্থল তৈরি করেন। তার বাম ও ডান পাশের নেতৃত্বে যথাক্রমে ছিলেন ইকরিমা ইবনে আবি জাহল এবং খালিদ বিন ওয়ালিদ। সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া ও আবদুল্লাহ ইবনে রাবিয়াহ যথাক্রমে পদাতিক ও তীরন্দাজদের নেতৃত্বে ছিলেন। ওই সময়ের রীতি অনুযায়ী মক্কা বাহিনীর পতাকা বহন করছিল বনু আবদ আদ-দার গোত্রের একটি দল।