কতটা ভিন্ন হবে এ বছরের রমজান?

Ilmu terangi kehidupan © Golib Tolibov | Dreamstime.com

রমজান মাস রহমতের মাস। মাগফিরাতের মাস। নাজাতের মাস। ইবাদতের বসন্ত কাল হচ্ছে মাহে রমজান। মুমিনের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার এ মাহিনা। সেহরি, ইফতারি, তারাবি তেলাওয়াত ও দান-সদকার মাধ্যমে অনন্য এক উৎসবময় ক্ষণ হয়ে উঠে রমজান।

এবারে আমরা পেতে যাচ্ছি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রমজান। কতটা দুর্যোগ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে আমরা জানি না। শুধু জানি অবস্থা যতই খারাপ হোক আমরা মুসলিম। আমাদের সবর করতে হবে।যে কোনো পরিস্থিতিতেই আমাদের অটল থাকতে হবে ইমানের পথে। বেশি বেশি প্রার্থনা করতে হবে বিপদ থেকে বাঁচতে। আর সতর্ক-সচেতন হয়ে চলতে হবে প্রাত্যহিক জীবনে।আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করেই আমাদের পার করতে হবে কঠিন সময়গুলো। আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা ইরশাদ করেন, ধৈর্যধারণকারীদের অপরিমিত পুরস্কার দেয়া হবে। [সূরা যুমার, আয়াত: ১০]

এ বছর অনেকেই আমরা আত্মীয় পরিজনদের নিয়ে একত্রিত হতে পারব না। বিশেষত, অমুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে উৎসবের এই দিনগুলি সাম্প্রদায়িক সম্মেলনের কারণ হয়। যারা বাস ছেড়ে বহুদূর অন্য দেশে পরি জমায়, রমজানের একত্র সম্মেলন খাওয়া দাওয়া আমাদের শৈশবে নিয়ে যায়। বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারবর্গ নিয়ে একত্রে উপবাসের এবং রাতের সময়গুলো মনে খুবই নাড়া দেয়।

ব্রিটেনে বার্মিংহামের সালমার কথায়, ‘প্রতি বছর রমজানে আমার নিকটাত্মীয়, বন্ধুবান্ধবগণ ইফাতারে, তারাবীহর সালাতে এবং বিভিন্ন বক্তৃতায় একত্রিত হতো। মাঝেমধ্যে রোজা রাখার সময়গুলো খুবই ক্লান্তিকর হয়ে উঠত। রমজানে মসজিদে ইফতার এবং তারাবীহর সালাত সকলকে এই সময়টায় একত্রিত করে তোলে। এ বছর অবশ্যই সেসব মিস করব। যদি আমরা এগুলোতে অংশ নিতে না পারি তাহলে এই পবিত্র মাসের গতানুগতিকতার পরিবর্তন দেখা দেবে। এটি হবে এমন একটি মাস যা হবে বাহ্যিকতা পূর্ণ।  আত্মমর্যাদা কিংবা ব্যক্তি সাধনার ক্ষেত্রে এই মাস আমাদের পরিবারের প্রতি মনোযোগী করে তুলবে। আর আমরা যদি এটা উদযাপন করতে চাই তাহলে এটি আমাদের নিজেদেরই করতে হবে, পারিবারিক অঙ্গনে।’

সামনের সময়গুলোতে মুসলিমদের জন্য এই হতাশা থেকে বেরিয়ে আসার একটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। আমাদের প্রত্যেকেরই উচিৎ রমজানের মূল উদ্দেশ্য স্মরণে রাখা। সবাই সবার সাথে দেখা করে সময়গুলো উপভোগ করা, গেট টুগেদার এসব কিন্তু রমজানের প্রকৃত উদ্দেশ্য নয়। আমরা এ লকডাউনে থেকেও আত্ম উন্নয়ন, রোজা, সদকা এসবে ব্যস্ত থাকতে পারি। সামাজিক দূরত্বে থেকেও আমরা বর্তমান পরিস্থিতিকে আশীর্বাদস্বরূপ এবং আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।

যদিও আজকের সমাজে এ আতংকের সমুদ্রে গা ভাসিয়ে দেয়াই সহজ। কিন্তু হতাশা কিংবা দুঃখে নিমজ্জিত না হয়ে আমাদের উচিত আল্লাহর সাথে আরও দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলা। শত দুর্যোগের ভেতরও আমাদের মনে রাখতে হবে আমরা মুসলিম। মুসলিম কখনও ঘাবড়ে যায় না। নিজের দায়িত্বের কথা ভুলে যায় না। বিস্মৃত হয় না পরকাল ও ধর্মের কোনো বিষয়। এই রমজান হবে অন্যরকম। এবং এই সময়েই দৃষ্টিগোচর হবে কারা প্রকৃতভাবে এই মাসের আত্ম উন্নয়ন, তাকওয়া, অথবা নিজেকে বিরত রাখার ব্যাপারে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এবং কারা এই সময় আসলেই কাজে লাগায়!