করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি যোগাবে এই ১০ খাবার

immunity providing foods
ID 148168652 © Avictorero | Dreamstime.com

আধুনিক বিশ্বের চালচিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে এক লহমায়। সদাব্যস্ত মানবসভ্যতার এই হঠাৎ থমকে যাওয়ার পিছনে মূল কারণ- করোনাভাইরাস। এই মারণ ভাইরাস দুইমাসেরও কম সময়ে সমগ্র বিশ্বকে গ্রাস করে ফেলেছে। এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার না হওয়ার ফলে, করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পাওয়ার আশ্বাস কেউই দিতে পারছেনা। যদিও ভ্যাকসিন নেই বলে মানুষ যে একেবারেই অসহায় তা বলা যায় না, যেহেতু করোনাভাইরাস প্রধানত অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের আক্রমণ করে, তাই বলা যেতে পারে যে দুর্বলতা না থাকলে এর থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এই বিশ্বব্যাপী ত্রাসের পরিস্থিতিতে, আমরা আপনাদের কাছে এমন দশরকম খাবারের তালিকা এনেছি যা আপনার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে শক্তি যোগাবে।

গাজর, কমলালেবু, ব্রকোলি

এই তালিকার শীর্ষেই আছে এই তিনটি খাবার। গাজর ও ব্রকোলিতে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, ভিটামিন A তে পরিণত হয় যা শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এই ভিটামিন- A আমাদের শরীরে থাকা অ্যান্টিবডিকে সবল করে বিভিন্ন টক্সিন ও ক্ষতিকারক পদার্থের বিরুদ্ধে লড়াই করে। অন্যদিকে কমলালেবুতে থাকে ভিটামিন- C, যা রক্তে শ্বেতরক্তকণিকার মাত্রা বাড়ায়। এই শ্বেতরক্তকণিকা শরীরের অনাক্রম্যতায় একটি বড় ভূমিকা পালন করে।

ডিমসেদ্ধ, মাশরুম

ভিটামিন- D শরীরের প্রোটিন উৎপাদন ও ব্যাকটেরিয়া-ভাইরাস জনিত ছোঁয়াচে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন- D এর অভাব মানবশরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পরে এবং শ্বাসযন্ত্রজনিত বিভিন্ন অসুখের সূত্রপাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা যায়। এক্ষেত্রে যদিও কোনো প্রমানিত সত্যতা নেই, তাও বলা যেতে পারে যে করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ভিটামিন- D  অপরিহার্য। ডিম-মাশরুমের মতো খাবারে থাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন- D, তবে খেয়াল রাখতে হবৄ যেন খাবার গুলো ভাজা বা প্রসেস করা না হয়, সেদ্ধটাই সবচেয়ে ভালো।

বিন্স, কলা, টকদই

আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে মাইক্রবায়োম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই মাইক্রোবায়োমের শক্তি বৃদ্ধি করে, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিক যুক্ত খাদ্য। নামগুলো বেশ কঠিন হলেও, এদের খুঁজে পাওয়া খুবই সহজ। টকদই একটি উল্লেখযোগ্য প্রোবায়োটিক। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ প্রিবায়োটিকযুক্ত খাবার পাওয়া যায় বিন্স ও কলাতে।

জল, মধু, স্যুপ

শরীরে জলের অভাব অসংখ্য সমস্যা নিয়ে আসতে পারে এবং পরোক্ষ ভাবে ক্ষতিকর হয় দেহের পক্ষে। তাই যথেষ্ট পরিমাণে জল পান করা খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়া বিভিন্ন রকম ফল ও সব্জী সহকারে স্যূপও খুব উপযোগী। প্রতিদিন এক চা-চামচ খাঁটি মধু পান করলেও শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

আদা, রসুন

রসুনের উপকারীতা গুণে শেষ করা যায় না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রসুনকে গোটা বা বেটে খাওয়া যেতে পারে। আদা ও রসুনকে এক চামচ খাঁটি মধুতে ডুবিয়ে রেখে প্রতিদিন এককোয়া করে খেলে, শরীরের জীবাণুনাশক ক্ষমতা বাড়ে।

আমন্ড, তুলসী

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আমন্ড ও তুলসী থাকা প্রয়োজনীয়। আমন্ডে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন- E, আয়রন ও প্রোটিন। ভিটামিন- E, মানবশরীরের অনাক্রম্যতায় বিশেষ প্রয়োজনীয়। তুলসীর রোগপ্রতিরোধ করার সাথে সাথে রক্তে শ্বেতরক্তকণিকার পরিমাণও বাড়ায়। তুলসী পাতার বা পাতার রস, যে কোনো পানীয়তে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।

আমলকি, ক্যাপসিকাম

আমলকি একটি সর্বগুণসম্পন্ন আয়ুর্বেদিক ফল। এর মধ্যে থাকে ভিটামিন- C, যা রোগপ্রতিরোধ করার সাথে সাথে শরীরে বিপাক প্রক্রিয়া চালনায় সাহায্য করে। এর জীবাণুনাশক ক্ষমতার জন্য করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উপযোগী খাদ্য হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে। ভিটামিন- C যুক্ত আর একটি খাবার হলো ক্যাপসিকাম। হলুদ বা লাল, যে কোনো ক্যাপসিকামই রোগপ্রতিরোধ করতে সক্ষম।

রেজভেরাট্রল জাতীয় খাবার

ফাঙ্গাস জাতীয় সংক্রমণ, দুর্বলতা ও শারীরিক ক্লান্তি দূর করতে এই ধরণের খাবার গুরুত্বপূর্ণ। চিনাবাদাম, আঙ্গুর, ব্লুবেরি, স্ট্রবেরি, ডার্ক চকোলেট থেকে রেজভেরাট্রল(Resveratrol) পাওয়া যায়।

উপরে উল্লেখিত খাবার সাধারণভাবে মানুষের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। করোনাভাইরাস যেহেতু অপেক্ষাকৃত দুর্বলদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, সেহেতু এই খাবার গুলি উপযোগী।