করোনা-পরিস্থিতি ক্রমেই তীব্র হচ্ছে অ্যামাজনে

বিশ্ব Tamalika Basu ২৫-জুন-২০২০

দিনের পর দিন ধরে ভয়ংকর দাবানলের আগুনে জ্বলেছিল অ্যামাজনের বিস্তীর্ণ জঙ্গল। পুড়ে গিয়েছিল কোটি গাছ-পশু-পাখি। ‘পৃথিবীর ফুসফুস’ নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন পরিবেশবিদরা। আলোড়ন পড়েছিল গোটা বিশ্বে। সেই দুঃসময় কাটতে না কাটতেই করোনা এসে থাবা বসিয়েছে সাত দেশজুড়ে থাকা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় রেইন ফরেস্টের আদিবাসীদের মধ্যেও। এপ্রিলের শুরুতেই করোনা ধরা পড়ে অ্যামাজনের অধিবাসীদের মধ্যে। যা ক্রমেই বাড়ছে বলে খবর। আর এই পরিস্থিতিতে টিকে থাকতে নতুন পথ ধরেছেন আদিবাসীরা।

মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও এর আগেও ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগের থাবা পড়েছিল অ্যামাজনের আদিবাসীদের মধ্যে। সেই ভাইরাসের বিরুদ্ধে বাকিদের মতো ওই আদিবাসীরাও লড়াই করতে পেরেছিল। কিন্তু করোনাকে এখনও কাবু করতে পারেনি বিজ্ঞান। ফলে করোনা নিয়ে বাকি পৃথিবীর মতো জঙ্গলের ওই আদিবাসীরাও দুশ্চিন্তায়। বাধ্য হয়ে তাই জনপদের এলাকাগুলি ছেড়ে আরও গভীর জঙ্গলে চলে যাচ্ছেন। অধিকাংশ গ্রামই এখন ফাঁকা। যদিও জঙ্গলের গভীরেও তাঁদের জীবন সংশয় ঘটতেই পারে।

অ্যামাজনে ক্রুজইরিনহো, মিজুরানা উপজাতিদের গ্রাম উমারিয়াকাও এখন জনশূন্য। করোনার সঙ্গে লড়াই করা কঠিন হবে ধরে নিয়েই আরও গভীর জঙ্গলে চলে গিয়েছেন তাঁরা। ব্রাজিল, পেরু সব দেশের অ্যামাজনের এলাকাতে এখন চূড়ান্ত সতর্কতা। যদিও অ্যামাজনের আদিবাসীদের করোনার থাবা থেকে বাঁচাতে সেখানে হাসপাতাল নির্মাণ করেছে পেরু। ব্রাজিল সীমান্ত ঘেঁষা দূরবর্তী উকাইয়ালি অঞ্চলের রাজধানী পুকালপাতে হয়েছে ১০০ শয্যার কোভিড-১৯ হাসপাতাল।

অ্যামাজনের জঙ্গলের বেশিরভাগ এলাকায় মূলত স্থল পথে কোন রাস্তা নেই। নদী পথেই যোগাযোগের একমাত্র উপায়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা সেবা দ্রুত সময়ে পৌঁছে দিতে আকাশপথে অক্সিজেন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু করোনায় ব্রাজিলের পরিস্থিতি পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে। আক্রান্ত ছুঁয়েছে ১১ লক্ষ, মারা গিয়েছেন প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজার মানুষ। ফলে শুধু অ্যামাজন নয়, গোটা লাতিন আমেরিকাতেই করোনা-পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।