করোনা ভাইরাসের প্রতিনিয়ত বিবর্তনে কতটা কার্যকরী হবে ভ্যাকসিন?

স্বাস্থ্য ২০ মার্চ ২০২১ Contributor
জ্ঞান-বিজ্ঞান
করোনা ভাইরাসের
Photo by Nataliya Vaitkevich from Pexels

২০১৯ এর ডিসেম্বরে প্রথম দেখা পাওয়ার পর COVID-19 এর করোনা ভাইরাস SARS-CoV-2 গোটা ২০২০ জুড়ে তান্ডব চালিয়েছে। এই দেড় বছরে এতবার বিবর্তিত হয়েছে ভাইরাসটি যে কোনো সুনির্দিষ্ট ভ্যাকসিন ১০০% সফল হবে এমনটা বিজ্ঞানীরা আশা দিতে পারেন নি। তবুও সারা বিশ্ব জুড়ে ভ্যাকসিন তৈরির প্রচেষ্টা চলেছে এবং বেশ কিছু ভ্যাকসিন ছাড়পত্র পেয়ে বিভিন্ন দেশে প্রয়োগও হচ্ছে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে এক আশংকাজনক খবর। করোনা ভাইরাসের এত দ্রুত বিবর্তনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করে চলেছে যে তাতে ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকাতে পাওয়া দুটি পৃথক স্ট্রেন বা নমুনার উপর ভ্যাকসিন তেমন সাফল্য পাচ্ছে না। এই মাসের ৮ তারিখে বিখ্যাত জার্নাল নেচারে প্রকাশিত এই গবেষণায় পাওয়া গেছে যে বর্তমান ভ্যাকসিন এবং দেহে তৈরী এন্টিবডি ওই দুটি নমুনা ভাইরাসকে নিউট্রালাইজ বা অকেজো করতে ততটা কার্যকরী নয়।

করোনা ভাইরাসের বিবর্তন ও ভ্যাকসিন

SARS-CoV-2 ভাইরাসটি ইতিমধ্যে অসংখ্য বার বিবর্তিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশে ভাইরাসটির এমনিতেই জিনগত কাঠামো একটু আলাদা, কিন্তু তারপর দ্রুত বিবর্তনের ফলে প্রতিনিয়ত নিজেকে আরও বেশি শক্তিশালী এবং দুর্ভেদ্য করে তুলেছে। এই মুহূর্তে যে কয়টি ভ্যাকসিনের প্রয়োগ হচ্ছে বিশ্ব জুড়ে তার মধ্যে কয়েকটি হল নোভাভ্যাক্স, ফাইজার আর মডার্না কোম্পানির বানানো ভ্যাকসিন। এই মুহূর্তের সবথেকে বিবর্তিত ও দুর্ভেদ্য এর রূপগুলির নাম হল B.1.1.7 (ইংল্যান্ড), B.1.351 (আফ্রিকা) এবং B.1.1.28 (ব্রাজিল)। এর মধ্যে ভ্যাকসিন গুলোর মানবদেহে পরীক্ষার সময় উঠে আসা তথ্যে দেখা গেছে নোভাভ্যাক্স এর বানানো ভ্যাকসিন ইংল্যান্ডে ৯০% কার্যকরী হলেও আফ্রিকায় তা মাত্র ৪৯% কার্যকরী। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে যে সমস্ত ভ্যাকসিন SARS-CoV-2 এর সবধরণের নমুনার ক্ষেত্রে একইরকম সফল নয়।

কী জানা গেল এই গবেষণা থেকে?

এরোন ডায়মন্ড এইড্স গবেষণা কেন্দ্রের নির্দেশক এবং এই গবেষণার সাথে জড়িত ডেভিড হো এর কথায়, “আমাদের গবেষণায় আমরা দেখতে পেয়েছি যে ভাইরাসটি বিবর্তিত হতে হতে যে দিকে এগোচ্ছে তাতে আমাদের ভ্যাকসিন এবং এখনকার সমস্ত চিকিৎসা পদ্ধতিতে আর কোনো সাড়া না পাওয়া যেতেও পারে।” গবেষণায় দেখা গেছে মডার্না এবং ফাইজারের ভ্যাকসিনের ইংল্যান্ডের এবং আফ্রিকার নমুনা অকেজো করার ক্ষমতা যথাক্রমে অর্ধেক এবং এক ষষ্ঠাংশ থেকে এক অষ্টমাংশ অব্দি কমে গেছে।

আরও জানা গেছে পূর্বে সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠা মানুষের প্লাজমা থেকে নেওয়া এন্টিবডিও আফ্রিকার নমুনাটিকে অকেজো করতে খুব একটা কার্যকরী হচ্ছে না। সেই প্লাজমা থেকে প্রাপ্ত এন্টিবডি আফ্রিকার নমুনার ক্ষেত্রে ১১ গুণ এবং ইংল্যান্ডের নমুনার ক্ষেত্রে ৪ গুণ কম কার্যকরী। তাই বিশেষ করে এই দুটি নমুনার ক্ষেত্রে সেরে ওঠা রোগীদের এবং ভ্যাকসিন নেয়া মানুষের দেহে পুনঃসংক্রমণের সমূহ সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। বিজ্ঞানী হো তাই সুরাহা দিতে বলেছেন, “আমাদের এই ভাইরাসকে বিবর্তিত হওয়া থেকে আটকাতে হবে আর তাই অতি দ্রুত ভ্যাকসিন বানিয়ে টিকাকরণ করে যেতে হবে সাথে মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলতে হবে। এই ভাইরাসের ছড়িয়ে যাওয়া বা সংক্রমণ কে রোখা গেলেই এটির বিবর্তনও রোখা যাবে। “