SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

করোনা ভাইরাস মহামারি: এখনই প্রতিবেশীর হক আদায় করার উপযুক্ত সময়

সমাজ ২৩ ডিসে. ২০২০
ফিচার
প্রতিবেশীর হক
Guagui | Dreamstime.com

প্রতিবেশী মানবজীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই কারণে ইসলাম প্রতিবেশীর হককে খুবই গুরুত্ব দিয়েছে। কিন্তু আজকাল আমাদের মাঝে প্রতিবেশির হকের বিষয়ে খুবই অবহেলা পরিলক্ষিত হচ্ছে। অথচ প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করা ও তাকে কষ্ট না দেওয়াকে ঈমানের অংশ সাব্যস্ত করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

“যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের দিবসের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদাচরণ করে এবং তাকে কষ্ট না দেয়।”

প্রতিবেশীর হক

প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর রাখা, বিপদে আপদে সাহায্য করা, একে অপরের সুখ-দুঃখের ভাগিদার হওয়া, হাদিয়া দেওয়া, অসুস্থ হলে সেবা করা, প্রতিবেশীর কেউ মারা গেলে সান্ত্বনা দেওয়া, কাফন দাফনে শরিক হওয়া, প্রতিবেশীর প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া, প্রতিবেশীর কষ্টের কারণ না হওয়া ইত্যাদি সবই একজন মুমিনের স্বভাবজাত বিষয় হওয়া উচিত।

আর করোনা ভাইরাসের এই মহামারিতে একজন প্রতিবেশী যে আমাদের কতটা সাহায্যের মুখাপেক্ষী তা তো আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,

“তোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো এবং কোনো কিছুকে তার সাথে শরিক করো না। এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, এতীম, অভাবগ্রস্থ, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, সঙ্গী, মুসাফির ও তোমাদের দাস-দাসীদের সাথে ভালো ব্যবহার করো। নিশ্চয় আল্লাহ অহংকারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (আল কুরআন-৪:৩৬)

উত্তম প্রতিবেশী

উত্তম প্রতিবেশী তো সে, যে তার প্রতিবেশীর সাথে ভালো আচরণ করে এবং প্রতিবেশীর সকল হক যথাযথভাবে আদায়ের চেষ্টা করে। ফলে প্রতিবেশী তার ওপর সন্তুষ্ট থাকে এবং আল্লাহও তার ওপর সন্তুষ্ট থাকেন।

প্রতিবেশীর খোঁজ-খবর নেওয়া ঈমানের দাবি

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “সেই ব্যক্তি মুমিন নয় যে নিজে তো পেটপুরে খায়; কিন্তু তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে।”

বর্তমানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়। দীর্ঘদিন ধরে চলা করোনা মহামারিতে আমাদের অনেক প্রতিবেশীই হয়ত এমন আছেন, যারা কর্ম হারিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আবার আত্মমর্যাদার কারণে তারা হয়ত আমাদের কাছে কখনো চাইবেনও না। তাই নিজ দায়িত্বে সাধ্যমত এসকল প্রতিবেশীর প্রয়োজন পূরণ করা এখন আমাদের সময় ও ঈমানের দাবি।

এক্ষেত্রে আমাদের কর্তব্য হল, নিজে থেকে তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া। এবং তাকে সাহায্য করার ক্ষেত্রে এমন পন্থা অবলম্বন করা, যাতে সে লজ্জা না পায়।

তরকারির ঝোল বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিবেশীকে খানায় শরীক করো

রাসুল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আবু যর (রাযিঃ)-কে বলেন, “হে আবু যর! তুমি তরকারি রান্না করলে তার ঝোল একটু বাড়িয়ে দিও এবং তোমার প্রতিবেশীকে তাতে শরিক করো।” (মুসলিম)

এছাড়া বাসায় ভালো কিছু রান্না হলে প্রতিবেশীকে না জানালেও রান্নার ঘ্রাণ তো তাকে জানিয়েই দেয়। সুতরাং, তাদের দিকে লক্ষ্য রেখে ঝোল বাড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে হোক বা নিজে একটু কম খাওয়ার মাধ্যমে হোক সামান্য কিছু যদি তাদের জন্য পাঠিয়ে দেয় তাহলে ঐ পরিবারের ছোট্ট শিশুদের মনের ইচ্ছা যেমন পুরো করা হবে তেমনি আল্লাহও খুব খুশি হবেন। এর কারণে আল্লাহ আমার রিযিকে বরকত দেবেন ইনশাআল্লাহ।

প্রতিবেশী যদি দরিদ্র হয়

প্রতিবেশী যদি দরিদ্র হয় তাহলে এ বিষয়ে তার হক আরও বেশি। কারণ দরিদ্রকে খানা খাওয়ানো যেমন অনেক সওয়াবের কাজ তেমনি দরিদ্রকে খানা না-খাওয়ানো জাহান্নামে যাওয়ারও একটি বড় কারণ। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, (জাহান্নামীকে জিজ্ঞেস করা হবে) ‘কোন বিষয়টি তোমাদেরকে ‘সাকার’ নামক জাহান্নামে ঠেলে দিয়েছে? (তারা উত্তরে বলবে) আমরা নামায পড়তাম না এবং দরিদ্রকে খানা খাওয়াতাম না।’ (আল কুরআন-৭৪:৪২-৪৪)

দু’নারীর দৃষ্টান্ত; কে জান্নাতী?

প্রতিবেশীর সাথে মন্দ আচরণ একজন ব্যক্তির সকল আমল বরবাদ করে দিতে পারে। একদা এক ব্যক্তি এসে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলল, এক নারীর ব্যাপারে প্রসিদ্ধ, সে খুব বেশি (নফল) নামায পড়ে, রোযা রাখে এবং দুই হাতে দান করে। কিন্তু যবানের দ্বারা সে তার প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয়। নবীজী বললেন, সে জাহান্নামে যাবে। আরেক নারী সম্পর্কে বলা হল, সে বেশি (নফল) নামাযও পড়ে না, খুব বেশি রোযাও রাখে না আবার তেমন দান সদকাও করে না। তবে সে যবানের দ্বারা প্রতিবেশীকে কষ্ট দেয় না।, নবীজী বললেন, ‘সে জান্নাতী।’

প্রতিবেশীর হকের বিষয়টি আরও অনেক বিস্তারিত আলোচনার দাবি রাখে। এখানে বর্তমান প্রেক্ষাপটের আলোকে কিছু কথা আরোজ করা হল মাত্র। এই মহামারীর মধ্যে আল্লাহ আমাদেরকে প্রতিবেশীর হক সম্পর্কে জেনে সেগুলি পুরোপুরি আদায় করার তাওফিক দান করেন। আমীন।