কর্মবিয়োগের কঠিন সময়ে ভেঙে পড়বেন না

Sad fired businessman sitting outside meeting room after being dismissed

বেকারত্ব বর্তমান বিশ্বের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। এর আর্থিক, সামাজিক, মানসিক এবং স্বাস্থ্যগত জটিলতা রয়েছে। অনেক সময় খুব কম আয়ের সাথে সামঞ্জস্য করতে গিয়ে গৃহহীনতা, বিবাহ বিচ্ছেদ, দীর্ঘস্থায়ী হতাশা, মাদকাসক্তি ইত্যাদির দিকে মানুষ ঝুঁকে পড়ে।

কিভাবে আমরা নববী জ্ঞানের(সুন্নাহ) আলোকে বেকারত্ব সমস্যার সমাধান করতে পারি?

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম এ জাতীয় পরিস্থিতিতে আমাদেরকে কী পরামর্শ দিয়েছেন?

কিভাবে একজন মুমিনকে এই স্রোতের মুখোমুখি হতে হবে?

কষ্টের সময় হতাশ হয়ে যাওয়া, মানসিকভাবে ভেঙে পড়া এবং মাদকাসক্ত হয়ে যাওয়া মুমিনের রীতি নয়। মুমিন সকল ক্ষেত্রে আল্লাহর দিকে ফিরে যায় এবং তাঁর করুণা ও সাহায্য প্রার্থনা করে।

সর্বোপরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ

“মুমিনের বিষয়টি আশ্চর্যজনক। সকল অবস্থাই তাঁর জন্য মঙ্গলজনক। সে যখন কোনো কল্যাণ লাভ করে আর আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে তখন এতে তাঁর মঙ্গল হয় অর্থাৎ সওয়াব লেখা হয়। এবং সে যখন কোনো কষ্টের সম্মুখীন হয় আর সবর করে তখনও তাঁর মঙ্গল হয় অর্থাৎ সওয়াব লেখা হয়। এবং এই অবস্থাটি শুধুমাত্র মুমিনের জন্যই।” (মুসলিম, ২৯৯৯)

তাওয়াক্কুল(আল্লাহর উপর নির্ভরতা) এবং তাওয়াকুল(অতিরিক্ত নির্ভরতা)

তাওয়াক্কুল এবং তাওয়াকুল এর মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। আপনি যদি বেকার হয়ে যান বা চাকুরী হারিয়ে ফেলেন তাহলে ইসলামী শিক্ষা অনুযায়ী আপনাকে প্রথম যা করতে হবে তা হল তাওয়াক্কুল(আল্লাহর উপর নির্ভরতা)

অর্থাৎ, সর্বপ্রথম এবং সর্বাগ্রে আল্লাহর দিকে ফিরে আসুন, আলাহর উপরই ভরসা করুন এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকুন। আল্লাহ বলেনঃ

“আকাশে রয়েছে তোমাদের রিযিক ও প্রতিশ্রুত সবকিছু। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের পালনকর্তার কসম, তোমাদের কথাবার্তার মতই এটা সত্য।” (আল কুরআন-৫১:২২-২৩)

অপরদিকে তাওয়াকুল অর্থাৎ অন্যের উপর নির্ভরশীলতার জালে আটকা পড়া থেকে সতর্ক থাকুন। নিজে অলসভাবে বসে থেকে অন্যের উপর নির্ভর করবেন না।

একদিন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লক্ষ্য করলেন যে, একজন বেদুইন তার উট না বেঁধে রেখে রেখে চলে যাচ্ছে। তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ

“তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখলে না কেন?”

বেদুইন উত্তর দিলঃ

“আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেছি”

তখন নবীজী বললেনঃ

“প্রথমে তোমার উট বাঁধো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো।” (তিরমিযী, ২৫১৭)

আপনি পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, সুতরাং আপনাকেই এটির মোকাবেলা করতে হবে। আপনার দক্ষতার বিস্তারিত বিবরণসহ বিভিন্ন কোম্পানীতে দরখাস্ত করুন এবং দু’আ করতে থাকুন।

উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম

কখনও কখনও বেকারত্ব সমস্যা চরম হয়ে দেখা দেয় যখন আপনি আপনার উপযুক্ত কোনো চাকুরী খুঁজে পান না। পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করুন, কোনো চাকরী না করে বসে থাকার চেয়ে পূর্ববর্তী চাকরী বা শিক্ষার স্তরের চেয়ে কম পদে চাকুরী করাও অধিক সম্মানজনক।

আবু হুরায়রা রাযিঃ হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেনঃ

তোমাদের মধ্যে কারও জন্য মানুষের নিকট হাত পাতার চেয়ে নিজে আত্মনির্ভরশীল হয়ে বনে কাঠ কেটে সেই কাঠ বাজারে বিক্রি করা ভালো। জেনে রাখো, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। (মুসলিম,১০৪২)

অবসর সময়?

ইবনে আব্বাস রাযিঃ থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ এমন দু’টি নিয়ামত আছে, যে দু’টোতে অধিকাংশ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। তা হচ্ছে, সুস্থতা আর অবসর। (বুখারী, ৬৪১২)

তাই অবসর সময় না কাটিয়ে আপনার উচিত আপনার যোগ্যতাকে আরও সমৃদ্ধ করা, পর্যাপ্ত চেষ্টা করা এবং আল্লাহর কাছে দু’আয় রত থাকা।

অবসর সময়গুলিতে নিজেকে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নীত করতে আপনি মসজিদে আরও বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন বা আপনার ধর্মীয় জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন। এতে আপনার মানসিক অবস্থারও উন্নতি ঘটবে।

ঈমানের সাথে কখনই কোনকিছু আপস করবেন না

অনেক সময় আপনার এটা মনে হতে পারে যে, আপনি মুসলিম হওয়ার কারণে বা আপনার দাড়ির কারণে বা আপনার সুন্নতি পোশাকের কারণে হয়ত আপনার চাকরী হচ্ছে না।

এটি সত্য হোক বা না হোক, আপনার লক্ষ্যে পৌঁছাতে আপনার ঈমানের সাথে আপস করার ফাঁদে পড়বেন না। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন এবং জেনে রাখুন যে সর্বশক্তিমান আল্লাহ অবশ্যই আপনার জন্য একটি রাস্তা খুলে দেবেন। আল্লাহ বলেনঃ

“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন” (আল কুরআন-৬৫:৩)