শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

কর্মব্যস্ত জীবনে ‘পেশাদারিত্ব’ বজায় রাখার ১০ ধাপ

Bekerja dari rumah © Naruemon Mondee | Dreamstime.com

আমাদের রোজকার জীবন এবং কর্মব্যস্ত জীবন এই দুইয়ের মধ্যে রয়েছে একটি সূক্ষ্ম বিভাজন রেখা। দুটি জীবনই অপরের সঙ্গে সংযুক্ত আবার একরকমভাবে বিচ্ছিন্নও বটে। তবে, কোনও একটি জীবনের খারাপ প্রভাব আপনার অন্য জীবনটিতেও পরিবর্তন ডেকে আনতে পারে। কাজেই আমাদের উচিত এই দুটি জীবনের মধ্যেই একধরনের সামঞ্জস্য বিধান করে চলা। কেরিয়ারে সাফল্য পাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো প্রফেশনালিজম বা পেশাদারিত্ব। এটি একক কোন গুণ নয়। বরং বেশ কয়েকটি গুণের সমষ্টি। আপনি যে ধরনের পেশাতেই যান না কেন, আপনার কাছ থেকে নিয়োগদাতা ও সহকর্মীরা প্রফেশনালিজম প্রত্যাশা করবেন। নিয়মিত চেষ্টা করলে এটি আয়ত্ব করা সম্ভব এবং ক্রমাগত চর্চার মধ্যে দিয়েই এই জাতীয় গুণের প্রকাশ ঘটে।

১। আপনার কথা বলা বা বক্তব্য পেশ করার ভক্তিমা অনেকাংশেই আপনার চরিত্রের ধারক। প্রথমেই আমাদের মনে রাখতে হবে যে, কথা বলার মধ্যে দিয়েই আমরা একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে থাকি। কথা বলার মাধ্যমে নিজের বক্তব্য পরিবেশিত হয়। তাই আমাদের প্রথমেই উচিত নিজেদের বক্তব্য পেশ করার প্রতি সচেতন হয়ে ওঠা। সচেতনতার মাত্রা ঠিক তখনই গড়ে উঠবে যখন আপনি আপনার বক্তব্যের প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারবেন, একইসঙ্গে আপনার মধ্যে প্রকাশ পাবে আত্মপ্রত্যয়ী মনোভঙ্গিমা।

২। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সবসময়েই তার অধ্বস্তন কর্মচারীদের কাছ থেকে অত্যধিক বেশি প্রত্যাশা করে থাকেন। নতুন নতুন আইডিয়া এবং বিষয়ের উল্লেখের ক্ষেত্রে তিনি অনেকাংশেই কর্মীদের উপর নির্ভরশীল হয়। সুতরাং, আপনার প্রফেশনালিজমের পন্থা এটাই বলে যে… নতুন কোনও কাজে আগ্রহী প্রকাশ করুন, কাজটিকে যত্নের সঙ্গে সম্পন্ন করার চেষ্টা করুন।

৩। আপনি অফিসে কাজ করুন বা বাড়িতে বসে ফ্রিল্যান্সিং করুন, কাজের জন্য একটি সময় নির্ধারিত থাকে। সে সময়ে আপনার উপস্থিতি নিশ্চিত করুন। এর অর্থ হল, আপনি অন্যদের সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই সময়ের কথা খেয়ালে রাখুন। প্রয়োজনে অ্যালার্ম ব্যবহার করুন।

৪। ইতিবাচক মনোভাবে আপনার কাজের পারফরম্যান্স ভালো করতে সাহায্য করে। তাই নিজের কাজ ও দায়িত্ব নিয়ে বিরক্ত না হয়ে যথাসম্ভব ধৈর্য সহকারে কাজ করুন। মাথা ঠাণ্ডা রাখতে প্রয়োজনে ছোট বিরতি নিন।

কর্মক্ষেত্র ছাড়াও আপনার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন থাকে। সেখানে কোন সমস্যা দেখা দিলে তা যেন আপনার কাজের উপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। সম্ভব হলে ছুটি নেবার চেষ্টা করুন।

৫। গোষ্ঠীবদ্ধ কোনও কাজের ক্ষেত্রে সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হল একে অপরের প্রতি সহযোগিতাপূর্ণ মনোভাব রাখা। একে অন্যের কাজের সমালোচনা না করে তাকে সহযোগিতা করলে বোধহয় কাজের উৎকর্ষতা বাড়তে পারে।

৬। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই নির্দিষ্ট কাজভিত্তিক কিছু কিছু স্পেশ্যাল স্কিল থাকে.. প্রয়োজনে সেগুলোকে ধীরে ধীরে রপ্ত করতে জানতে হবে। পেশাগত জীবনে তাঁর উপযুক্ত প্রয়োগ করাই হবে আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

৭। আমরা প্রতিদিনই নিত্যনতুন বিষয় এবং অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই। এই সকল অভিজ্ঞতাই আমাদের ব্যক্তিগতজীবনকে যেমন উন্নত করে, ঠিক তেমনইভাবে আমাদের কর্মজীবনেও গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। কাজেই এইসকল অভিজ্ঞতাগুলোকে সামনে রেখেই আমাদের আরও সমানের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

৮। আপনার বস ও সহকর্মীদের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের বিরক্তির উদ্রেক করে বা অস্বস্তিতে ফেলে দেয়, এমন কোন আচরণ এড়িয়ে চলুন।

কর্মক্ষেত্রে সব ধরনের আলাপ – বিশেষ করে ব্যক্তিগত জীবনের আলাপ – সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই অন্যদের সাথে কথা বলার সময় এ বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করুন। যদি কোন বিষয়ে দ্বিমত থাকে, তাহলে ভদ্রতার সাথে তা প্রকাশ করুন। তর্কাতর্কি কিংবা উঁচু গলায় কারো সাথে কথা বলা আপনার চাকরি বা ক্যারিয়ারে বড় ধরনের খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কোনভাবেই যেন এ ধরনের পরিস্থিতিতে না পড়েন, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকুন।

৯। যে কোনও ধরনের কাজেই ইংরেজি এবং গণিত শাস্ত্রের প্রতি বিশেষভাবে চর্চা রাখতে হবে। এই দুটি বিষয়ই কিন্তু আপনার প্রতিদিনের কর্মজীবনকে অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। তাই এগুলোর প্রতি যত্নশীল হতে চেষ্টা করুন।

১০। বৈচিত্র্য এবং পার্থক্য মূল্যবান সম্পর্কে অবহিত হওয়া। এটি পৃথক পৃথক ব্যক্তির বিভিন্ন প্রয়োজন সম্পর্কে বোঝার এবং বিবেচ্য বিষয়কেও অন্তর্ভুক্ত করে। আমরা বৈশ্বিক বৈচিত্র্যময় বিশ্বে বাস করি এবং প্রত্যেকের প্রতি যত্ন নিতে সক্ষম, একে অপরকে গ্রহণ করার মধ্যে দিয়েই আপনাকে নিয়োগকারীরা আরও সহজাত এবং আকর্ষণীয় কর্মচারী করে তোলে তাই নিয়োগকর্তারা এটির সন্ধান করেন। এটি বৈচিত্রময় না করার মতো বিষয় কারণ বৈচিত্র্যের মূল্যায়ন একে অপরকে সম্মান জানানো উচিত।

 

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন