কষ্টের মুহূর্তে সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কটি পুনরায় আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন

ID 179490226 © Chamaiporn Kitina | Dreamstime.com

আপনি কুরআনে এমন কোনো আয়াত খুঁজে পাবেন না যেখানে আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদের সাথে আছেন যারা প্রচুর সালাত আদায় করে অথবা যারা প্রচুর রোজা রাখে অথবা যারা ক্ষমা প্রার্থনা করে…”

তবে আপনি দেখতে পাবেন কুরআনে আছে,

“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে আছেন।” (২:১৫৩) (৮:৪৬)

এই কথাটিই হাফিজ ইবনে রজব বলেছেনঃ

“আমি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত এবং রাসুলুল্লাহর অনেক হাদীস অধ্যয়ন করেছি যেখানে আল্লাহ তাঁর মা’ইয়্যাহ (কোনো ব্যক্তির সাথে তাঁর উপস্থিতি) উল্লেখ করেছেন এবং প্রতিটি আয়াত বা হাদীস যেখানে আল্লাহ কোন ব্যক্তির সাথে তার থাকার কথা উল্লেখ করেছেন সেখানে সে ব্যক্তির কথাই বলা হয়েছে যে কিছু না কিছু হারিয়েছে।”

এবং তাই তিনি বলেছেন যেঃ

“আল্লাহ আপনার কাছ থেকে ততক্ষণ কিছু দূরে সরিয়ে নেন না যতক্ষণ না তিনি আপনাকে কিছু দান করেন। আর যখন আল্লাহ আপনার কাছ থেকে কিছু দূরে সরিয়ে নেন তখন তিনি আপনাকে যা দিবেন তার ভিতর সর্বোত্তম জিনিস হল স্বয়ং তিনি নিজেই।”

আল্লাহ কখনও আপনাকে খালি হাতে ছাড়বেন না, তিনি আপনাকে কিছু না কিছু অবশ্যই দিবেন, আর এর ভিতর সর্বোত্তম জিনিস হল স্বয়ং তিনি নিজেই।

সুতরাং, প্রতিটি সময়ই আল্লাহ তাঁর মা’ইয়্যাহ (কোনো ব্যক্তির সাথে তাঁর উপস্থিতি) উল্লেখ করেছেন, এমনকি হাদীসেও নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম কেয়ামতের দিবসে আল্লাহর সাথে এক ব্যক্তির কথোপকথন উল্লেখ করেছেন যেখানে আল্লাহ বলবেনঃ

“আমি অসুস্থ ছিলাম কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে আসোনি”

(আপনি কল্পনা করতে পারেন!)

এবং তখন সেই ব্যক্তি বলবেঃ

“হে আল্লাহ, আমি কীভাবে আপনাকে দেখতে যেতাম যেখানে আপনি বিশ্বজগতের মালিক?”

তাহলে এর অর্থ কী?

শেষ বিচারের দিন সবকিছুই বেশ সোজাসাপ্টা হবে; কিন্তু এটি সেই কথোপকথনের মধ্যে একটি যেখানে কোনো ব্যক্তি হতবাক হবে।

আল্লাহ বলবেনঃ

“তুমি কি জানতে না যে অমুক ব্যক্তি অসুস্থ ছিল? তুমি কি তাকে দেখতে গিয়েছিলে? তুমি তাকে দেখতে গেলে সেখানে আমাকে পেতে।”

সুতরাং, আল্লাহ আপনার কাছ থেকে ততক্ষণ কিছু দূরে সরিয়ে নেন না যতক্ষণ না তিনি আপনাকে কিছু দান করেন। আর এর ভিতর সর্বোত্তম জিনিস হল স্বয়ং তিনি নিজেই। ।

যদি, আপনি কোনো কষ্টের মধ্যে থাকেন তবে আল্লাহর সাথে আপনার অর্থপূর্ণ সম্পর্কটি পুনরায় আবিষ্কার করার চেষ্টা করুন; এরপর আপনি আরও ভালভাবে বিশ্বাস করতে পারবেন যে, এই কষ্টটিই হল আপনার সাথে ঘটে যাওয়া সর্বকালের সেরা ঘটনা।

যে সমস্যার ভিতরেই আপনি থাকুন না কেন তাতেই আপনি আল্লাহর প্রতি ভরসা রাখুন আর বলুন, ‘আলহামদুলিল্লাহ’। বিশ্বাস রাখুন, কেয়ামতের দিন এ কারণে হয়তো আপনি আফসোস করবেন না।