কাগজের টাকা কি সুদের অন্তর্ভুক্ত? ইসলামে এর বিধান কি?

ব্যবসা ১১ মার্চ ২০২১ Contributor
ফোকাস
কাগজের টাকা

ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সোনা এবং রুপা হল টাকার মূল উৎস। এবং সর্বযুগের বিদগ্ধ আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী উৎস এক হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র সোনা-রুপাতেই মূল্যমান সীমাবদ্ধ নয়। কাগজের টাকা-ই বর্তমানে অর্থের মূল্যমান হিসেবে প্রচলিত রয়েছে এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে সোনা-রুপার স্থান দখল করেছে। এমনকি কাগজের টাকা দিয়েই বর্তমানে প্রায় সকল লেনদেন চলে। মানুষ এই টাকা অর্জন ও সঞ্চয় করে তৃপ্তি পায়, অথচ নিছক কাগজ হিসেবে এর কোনো মূল্যই নেই।

মূল্যের কারণ হল, এর দ্বারা আস্থা অর্জন করা এবং লেনদেনের সময় বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে স্থির হওয়া। আর এটাই কাগজের টাকার মূল্যযোগ্য হওয়ার উদ্দেশ্য। এসকল কারণে ওলামায়ে কেরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, কাগজের টাকাও এক ধরনের স্বতন্ত্র মুদ্রা যার বিধান সোনা-রুপার বিধানের অনুরূপ। সুতরাং, কাগজের টাকার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে এবং এর উপর সোনা-রুপার মত সুদের উভয় প্রকার তথা ফদ্বল ও নাসিয়াহ খাটবে। এক কথায়, কাগজের টাকা শরিয়তের সকল লেনদেনের ক্ষেত্রে সোনা-রুপার স্থালাভিষিক্ত হবে।

সুতরাং, কাগজের নোটকেও সোনা-রুপা ও অন্যান্য মুদ্রার মতই স্বতন্ত্র মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তেমনি কাগজের নোটকেও বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করা হবে। এটা হবে দেশ ও স্থানের ভিন্নতা বিচার করে। অর্থাৎ, সৌদি রিয়াল এক শ্রেণী আর বাংলাদেশী টাকা আরেক শ্রেণী। এভাবে প্রত্যেক দেশের টাকা মুদ্রার একেক স্বতন্ত্র শ্রেণী হিসেবে বিবেচিত হবে। আর সে অনুযায়ী সোনা-রুপার মত কাগজের মুদ্রা বা নোটের উপরও সুদের বিধান খাটানো হবে।

কাগজের টাকা-র বিধান

১) কেবল নগদ ছাড়া বাকিতে কোনোভাবে কাগজের নোট একটার বদলে আরেকটা কিংবা মুদ্রার অন্য কোনো প্রকার যেমন- সোনা-রুপা ইত্যাদির বদলে বিক্রি করা বৈধ নয়। উদারণত, সৌদি রিয়াল অন্য কোনো দেশের কাগজের টাকার বদলে কমবেশি করে হস্তগত না করে বাকিতে বিক্রি করা বৈধ নয়।

২) একই ধরনের (একই দেশের) কাগজের মুদ্রার একটার বদলে আরেকটা কমবেশি করে বিক্রি করা বৈধ নয়; চাই তা নগদে হোক বা বাকিতে। সুতরাং কাগজের বাংলাদেশী ১০ টাকা কাগজের ১১ টাকার বিনিময়ে বাকিতে বা নগদে কোনোভাবেই বিক্রি করা বৈধ নয়।

৩) দুই ধরনের দুই কাগজের মুদ্রা একটার বিনিময়ে আরেকটা বিক্রি করা বৈধ। যদি তা হয় হাতে হাতে। সুতরাং, সৌদি রিয়াল দিয়ে বাংলাদেশী টাকা ক্রয় করা জায়েজ। তেমনি এক মার্কিন ডলার সৌদি তিন রিয়াল কিংবা তার কম বা বেশি দিয়ে বিক্রি করা এবং সৌদি রৌপ্য মুদ্রার বিনিময়ে সৌদি কাগজের মুদ্রা কমবেশি করে বিক্রি করাও জায়েয; যদি তা হয় নগদে। কারণ এটাকে এক জাতীয় মুদ্রার বিনিময়ে আরেক জাতীয় মুদ্রা বিক্রি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। আর বাস্তবতা এবং মূল্য ভিন্ন হলে শুধু নাম এক হওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।

৪) সোনা-রুপার মতো কাগজের মুদ্রার উপরও যাকাত ফরজ হবে যখন স্বর্ণ বা রৌপ্য যেকোনো একটার নেসাব পরিমাণ (৫২.৫ ভরি রূপা বা ৭.৫ ভরি স্বর্ণ) টাকা হবে।

৫) কাগজের টাকাকে বাইয়ে সালাম এবং অংশীদারি কারবারে মূলধন বানানো যাবে।