কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্য রক্ষা করবেন কিভাবে?

james-fitzgerald-2XlWpFPzsdc-unsplash
Fotoğraf: James Fitzgerald-Unsplash

আজকের কর্পোরেট হাউসদের দৌরাত্মের জেরে চাকুরিজীবিদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করা দায় হয়ে গেছে। বেসরকারী সংস্থা গুলোতে মোটা টাকার আসা যাওয়ায়  কর্মীরা দিনান্তে শান্তির ঘুমটাকেও বিলাসিতা বলে মনে করে। ছুটির দিনে বাড়িতে থাকলেও ক্রমাগত আসা বসের ফোন আর কলিগদের মেল-এ ওই একটা দিনও বরবাদ হয়ে যায়। এর ফলে বহু মানুষের অসুস্থ ভাবে জীবনযাপন শুরু করে, ক্রমাগত স্ট্রেসের জন্য ডিপ্রেশনও অসম্ভব কিছু নয়। যেকোনো দেশে হয়তো হাতে গোনা কিছু এমপ্লয়ী খুঁজে পাওয়া যাবে যারা নিজের কাজ নিয়ে খুশী বাকি প্রত্যেকেই যেনতেন প্রকারে প্রতিটা দিনকে কাটায়।

এর কি কোনো সমাধান আছে? থাকলেও সেটা কতটা গ্রহণযোগ্য? আজ সে বিষয়ে নিয়েই আলোচনা করব। এমন কিছু ছোটো পদক্ষেপ যা বড় পরিবর্তন আনবে আপনার জীবনে।

পারফেকশনের পিছনে ছোটা বন্ধ করুন

আজকের দিনে কর্পোরেট হাউস বা এন্টারটেনমেন্ট মিডিয়ার দৌলতে ‘পারফেকশনিস্ট’ শব্দটা ঘরে ঘরে পরিচিত হয়ে গেছে। ছোটো থেকেই এই মানসিকতা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রত্যেকের মধ্যে যে সবচেয়ে সেরা হতে হবে। এই বিষয়টি ছোটোবেলায় স্কুল-কলেজে প্রযোজ্য হলেও কর্মজীবনে ‘পারফেকশনিস্ট’-এর তকমা পেতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়।

কালকের কাজটা আজ সাবমিট করা বা সবার চেয়ে সেরা প্রেজেন্টেশন দেওয়া, এগুলো করতে গেলে একটা মূল্য চোকাতে হয়।

প্রথম প্রভাবটা পরে পরিবারের উপর তারপর আসে ব্যক্তিগত ভালো লাগার জায়গা গুলো। পারফেকশনের পিছনে ছুটতে গিয়ে ব্যক্তিজীবন প্রাণহীন হয়ে পরে। তবে এই নয় যে পারফেকশনের পিছনে ছোটা খারাপ, অনেকেই আছেন যারা একবিন্দু পিছিয়ে পরতেও নারাজ। তাদেরকে একটা হিসেব করতে হবে, ঠিক করতে হবে যে তারা কতটা প্রস্তুত পারফেকশনিস্ট হতে। জীবনের অনেকটা অংশ এর পিছনে চলে যায়, কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের ভারসাম্যটা তাই ভেবেচিন্তে ঠিক করা উচিত।

স্বাস্থ্যসচেতন হন

স্বাস্থ্য থাকলে তবেই কাজ করতে পারবেন সুতরাং এমন ভাবে কাজ করবেন না যা আপনাকে অসুস্থ করে দেয়। কাঁটায়-কাঁটায় রুটিন মেনে চলতে না পারলেও ঘুম এবং খাওয়ার সময়টাকে বাঁধা ধরা রাখুন। এই দুটো জিনিস আমাদের কর্মক্ষমতা দেয়। যদি অসময়ে খান বা ঘুমোন তাহলে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন রোগের কবলে পরবেন।

এছাড়াও ধূমপান বা মদ্যপান থেকে বিরত থাকুন, এরা স্বাস্থ্যের সমূহ ক্ষতি করে।

পরিবারকে সময় দেওয়ার সময় কাজকে ভুলে যান

আপনি যখন অফিসে কাজ করেন তখন বাড়ির ফোন এলে কিছুটা বিরক্ত হন তো? তাহলে কেন পরিবারের সাথে থাকার সময় অফিসের ফোনে ঘন্টার পর ঘন্টা কাটাবেন? অফিসের কাজটা হয় অফিসে করুন অথবা বাড়িতে থাকলে কোনো একটা নির্দিষ্ট সময়ে করুন। আর যদি ওয়ার্ক-ফ্রম-হোম করেন তাহলে অফিসের মতোই নিজের একটা কিউবিকল বানিয়ে নিন যেখানে আপনার কাজের সময় কেউ বিরক্ত করবেনা। একটা নির্দিষ্ট সময় কাজ করুন। মাঝখানে একটা ব্রেক নিন প্রয়োজনে ২-৩ ঘন্টার, সেই সময় পরিবার ছেলেমেয়ের সাথে সময় কাটান তারপর আবার ফিরে আসুন।

এতে কাজের কোয়ালিটিও যেমন ভালো হয় তেমনই পরিবারও খুশী হয়।

ছুটি নিয়ে বেড়াতে যান

ভীষণ কাজের চাপের ফলে স্ট্রেস হওয়া খুব স্বাভাবিক বিষয়। এই স্ট্রেস কাটিয়ে সাধারণ জীবনে ফেরার সবচেয়ে ভালো উপায় বেড়াতে যাওয়া। পাহাড়, সমুদ্র বা জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে নিজেকে প্রকৃতির আর একটু কাছাকাছি নিয়ে আসুন। সঙ্গে স্বামী/স্ত্রী ছেলেমেয়ে, বন্ধুবান্ধবদের সাথে আনন্দ করে সময় কাটান। ফিরে এসে আবার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করুন, দেখবেন পরিবর্তনটা কত স্পষ্ট।

নিজের জন্য কিছু করুন

দিন আধঘন্টা বা একঘন্টা নিজেকে দিন, সেই পুরোনো ভালো লাগার বিষয়গুলোকে ফিরিয়ে আনুন যেগুলো কাজের চাপে চাপা পরে গিয়েছিলো। ছবি আঁকতে ভালোবাসলে ছবি আঁকুন, শরীরচর্চা করুন, অন্য যেকোনো কাজ যেটা একঘন্টার জন্য আপনাকে সব ভুলিয়ে দিতে পারে সেগুলো করুন।

এই ভাবেই আস্তে আস্তে কাজের সাথে ব্যক্তিগত জীবনের একটা মেলবন্ধন খুঁজে পাবেন। এই দুটো পরষ্পর সম্পর্কযুক্ত, একটা খারাপ থাকলে অপরটাও খারাপ হয়ে যাবে আবার উল্টোটাও হয়। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত আপনার, কিন্তু সেটাই করুন যেটা করতে আপনি ভালোবাসেন।