কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে পাতে রাখুন টমেটো

tomato

আমাদের খাদ্য তালিকায় স্যালাড প্রায়শই বেশিরভাগ প্লেটেই থাকে। স্যালাড যাকে ছাড়া ভাবাই যায় না তার নাম টম্যাটো। সুস্বাদু ও পুষ্টিকর হিসেবে টমেটোর বেশ খ্যাতি। এটি কার্য করে আবার বহুমুখী ভাবে। এই টম্যাটো কিডনির সমস্যা অব্যর্থ  ওষুধ, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণেও এর ভূমিকা দারুণ। এছাড়াও  এই ঘরোয়া টোটকা চোখের দৃষ্টিশক্তি যেমন বাড়ায় তেমনি বাড়িতে বসে ত্বক ক্লিনজার হিসাবেও ব্যবহৃত হয় টম্যাটো। আমাদের খাদ্যতালিকায় এই সব্জি ঝোল হোক কিংবা শেষপাতে চাটনি সব জায়গায় বিরাজ করে। ডায়েটের লিস্টে টমেটো বেশ খানিকটা জায়গা অধিকার করে থাকে তার গুণাগুণ  এর জন্য।

ওজন নিয়ন্ত্রণে ও ইমিউনিটি তৈরীতে টমেটো

এই টমেটো খেলে শরীরে কোলেসিসটোকিনিন নামে একধরনের হরমোন নিঃসৃত হয় যা পেটের এবং ইনটেস্টাটাইনের মধ্যে যে ভালভ রয়েছে তা সংকুচিত করে দেয়। ফলে পেট ভরা থাকে, খিদেও কম পায়। ওজনটাও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। অ্যন্টিঅক্সিডেন্ট মানেই আগে যার কথা মনে আসে সেটা হল টমেটো। প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এই সবজিটি, রান্নার স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরে ইমিউনিটি তৈরীতে সক্ষম।

কিডনি সমস্যায় টমেটো 

কিডনির রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে ওজন নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই জরুরি। নইলে চর্বি জমবে যা কিডনির জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিডনি ভালো রাখতে সবথেকে দরকারি ব্লাড প্রেসার নিয়মিত পরীক্ষা  করা। এই ব্লাড প্রেসার কিডনিতে চাপ সৃষ্টি করে যা কিডনির পক্ষে  ক্ষতিকারক । জল আমাদের শরীরের  আর একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস যা অনিয়মিত খেলে নষ্ট হতে শুরু করে কিডনি। খাদ্য হিসেবে টমেটো অত্যন্ত কম ক্যালোরিযুক্ত। কিডনির সমস্যায় বেশি ক্যালোরি একদমই চলবে না। এক্ষেত্রেও টমেটো বেশ উপকারী। কিডনি সমস্যার আরও একটি বিশেষ লক্ষন অতিরিক্ত রক্তচাপ। ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন -K তে সমৃদ্ধকারী টমেটো এই রক্তচাপ সহজেই কমিয়ে দেয়। এছাড়াও কোলস্টেরলও কমাতে সাহায্য করে। টমেটোর জুস খেয়ে সহজেই যেকোনো হার্টজনিত সমস্যা হার্টাটাক প্রভৃতি রোধ করা যায়। টমেটোতে রয়েছে ভিটামিন A ও ভিটামিন C,যা রক্তে জমা হওয়া টক্সিন কে বাইরে নিঃসৃত হতে সাহায্য করে। এছাড়াও নিয়মিত টমেটো খেলে  কিডনিতে স্টোন হবার ভয় থাকে না।

টমেটোর অন্যান্য গুণাগুণ

চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে টমেটো– চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে টমেটোর কার্যকারিতা বেশ। ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এই টমেটো রাতকানা রোগের দারুণ প্রতিষেধক।

ধূমপানের ক্ষতিকারক প্রভাব কমাতে টমেটো– যারা ধূমপান করে,তাদের পক্ষেও টমেটো উপকারী। ধূমপানের ফলে শরীরের যে মারাত্মক ক্ষতি হবার সম্ভাবনা থাকে,তার বেশ খানিকটা কমিয়ে দিতে পারে এই টমেটো।

ত্বকের ও চুলের যত্নে টমেটো– শুধু তাই নয়,ত্বকের ও চুলের  যত্ন নিতে টমেটো ব্যবহার করা হয়।বলা হয়,ত্বকের ভালো ক্লিনজার রূপে কাজ করে এটি।কাঁচা টমেটো থেঁতো করে মুখে  লাগিয়ে দশ মিনিট ম্যাসেজ করে ধুয়ে ফেলুন। রোদে পোড়া দাগ,বলিরেখা,চোখের নীচের কালি বা যেকোনো কালো দাগ দূর করতে সক্ষম হবেন।

হাড় রক্ষায় টমেটো– টমেটোতে ক্যালশিয়াম বেশি পরিমানে থাকায় এটি হাড় ভালো রাখে।

শর্করা নিয়ন্ত্রণে টমেটো– টমেটোতে থাকে প্রাকৃতিক শর্করা।যা “গ্লাইসেমিক ইন্ডেক্স “এ সমৃদ্ধ।তাই এটি রক্তে শর্করার পরিমাণ ঠিক রাখে।ফলে ইনসুলিন হরমোন নিঃসরন কমে যায় এবং যে হরমোন চর্বি সঞ্চয় করতে সাহায্য করে সেটিও নিয়ন্ত্রিত থাকে।