SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

কিভাবে ইসলামী আইন অনুসারে উত্তরাধিকারীদের মাঝে সম্পত্তি বন্টিত হয়?

পরিবার ২৪ নভে. ২০২০
dreamstime_s_20785131

উত্তরাধিকার সিরিজ(৩য় পর্ব)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম আজ থেকে প্রায় চৌদ্দশত বছর আগেই বলে গিয়েছেন, “উত্তরাধিকার আইন নিজে শেখো ও অপরকে শেখাও। সকল ইলমের অর্ধেকই হল এই ইলম।” মুসলিম হওয়া সত্ত্বেও আমাদের অনেকেরই উত্তরাধিকার আইন সম্পর্কে তেমন ধারণা নেই।

কিন্তু প্রত্যেক মুসলমানকেই এটি জানতে হবে। ইসলামে কুরআন, সুন্নাহ ও ইজমার ভিত্তিতে মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পত্তি তার উত্তরাধিকারীদের মাঝে বন্টিত হয়। এভাবে সম্পত্তি বণ্টন করাকে ফারায়েয বলা হয়।

উত্তরাধিকারের বিষয়টি অনেক বিস্তৃত হওয়ায় আমরা এখানে শুধু স্বামী-স্ত্রী, পিতামাতা ও পুত্র-কন্যার উত্তরাধিকারের প্রাপ্য অংশ নিয়ে আলোচনা করব।

কোনো মুসলিম মারা গেলে তার সম্পত্তি বন্টনের পূর্বে কিছু কাজ করতে হয়। এরপর বাকি সম্পত্তি ওয়ারিশদের মাঝে বন্টিত হয়।

আসুন জেনে নিই কী কী কাজ

-মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে প্রথমে তার দাফন-কাফনের যাবতীয় খরচ মেটাতে হবে।

-তিনি যদি জীবিত থাকা অবস্থায় কোন ধার বা ঋণ করে থাকেন তবে সেগুলিও রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে পরিশোধ করে দিতে হবে।

-মৃত ব্যক্তি স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করে গেলে বা আংশিক অপরিশোধিত থাকলে তা পরিশোধ করতে হবে।

-মৃত ব্যক্তি কোনো দান কিংবা অসিয়ত করে গেলে তা অসিয়ত বা উইলের প্রাপককে তা দিয়ে দিতে হবে।

এই কাজগুলি সম্পন্ন করার পর মৃত ব্যক্তির অবশিষ্ট সম্পত্তি ফারায়েয আইন অনুযায়ী তাঁর উত্তরাধিকারীদের মাঝে বণ্টন করা হবে।

কোন অনুপাতে এই সম্পত্তি বন্টিত হবে তা নিম্নে দেওয়া হল-

১) স্বামীর অংশ

স্বামী দু’ভাবে মৃত স্ত্রীর সম্পত্তির উত্তরাধিকার পেয়ে থাকে। স্বামী কখনোই তাঁর মৃত স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয় না। মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান থাকলে স্বামী স্ত্রীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। আর মৃত স্ত্রীর কোনো সন্তান না থাকলে স্বামী তার সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে।

২) স্ত্রীর অংশ

স্ত্রীও দু’ভাবে তাঁর মৃত স্বামীর সম্পত্তি পেয়ে থাকে। বিধবা স্ত্রীও কোনো ভাবে তাঁর স্বামীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয় না। মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা তাঁদের পুত্রের সন্তান থাকলে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৮ অংশ পাবে। যদি মৃত স্বামীর কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তান কেউই না থাকে তবে স্ত্রী, স্বামীর সম্পত্তির ১/৪ অংশ পাবে। স্ত্রী একাধিক হলেও সবাই মিলে ১/৪ অংশের সমান ভাগ পাবে।

৩) পিতার অংশ

যদি মৃত সন্তানের পুত্র, পুত্রের পুত্র বা নিচের দিকের কেউ বেঁচে থাকে, তবে মৃত সন্তানের পিতা পাবেন সম্পত্তির ১/৬ অংশ।

মৃত সন্তানের কন্যা থাকলেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে ক্ষেত্রে কন্যাদের ও অন্যান্যদের দেয়ার পর অবশিষ্ট যা থাকবে তাও পিতা পাবেন।

তবে মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান ও পিতা কেউ জীবিত থাকলে তাঁর সম্পত্তি তাঁর জীবিত ভাইরা পাবে। আর ভাই না থাকলে ভাইয়ের সন্তানেরা পাবে।

৪) মায়ের অংশ

মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, এভাবে নিম্নের দিকের কেউ থাকলে অথবা যদি মৃত ব্যক্তির আপন, বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় ভাইবোন থাকলে তবে মা সম্পত্তির ১/৬ অংশ পাবেন।

মৃত ব্যক্তির কোনো সন্তান বা পুত্রের সন্তানাদি, এভাবে নিম্নের দিকের কেউ না থাকলে এবং মৃত ব্যক্তির একজনের বেশি ভাই বা বোনও না থাকলে তবে মা ১/৩ অংশ পাবেন।

৫) পুত্র সন্তানের অংশ

মৃত ব্যক্তির পুত্র বা ছেলেরা সকল ক্ষেত্রেই সম্পত্তি থেকে অংশ পায়। যেক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ছেলে ও মেয়ে উভয়ই রয়েছে সেই ক্ষেত্রে ছেলেরা, মেয়েদের চেয়ে দ্বিগুন সম্পত্তি পাবে। মৃত ব্যক্তির সম্পত্তিতে মাতা-পিতা ও স্বামী-স্ত্রী নির্দিষ্ট সম্পত্তি পাওয়ার পর অবশিষ্ট সম্পত্তি ছেলে মেয়ের মধ্যে বন্টন করা হবে। তবে মেয়ে না থাকলে অংশীদারদের অংশ দেয়ার পর অবশিষ্টাংশভোগী হিসেবে বাকী সম্পূর্ণ সম্পত্তি ছেলেরাই পাবে।

৬) কন্যা সন্তানের অংশ

উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে কন্যারা তিনভাবে মাতাপিতার সম্পত্তি পেতে পারে। একমাত্র কন্যা হলে তিনি রেখে যাওয়া সম্পত্তির ১/২ অংশ পাবে। একাধিক মেয়ে হলে সবাই মিলে সমানভাগে ২/৩ অংশ পাবে। যদি পুত্র ও কন্যা উভয়ই থাকে তবে পুত্র ও কন্যার সম্পত্তির অনুপাত হবে ২:১ অর্থাৎ, কন্যা পুত্রের অর্ধেক অংশ পাবে। যাইহোক, ইসলামী আইনে কন্যা কখনো পিতামাতার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয় না।

এটিই হল ইসলামী আইনের আলোকে সম্পত্তি বন্টনের সংক্ষিপ্ত কিছু ধারা। উত্তরাধিকার সংক্রান্ত এসকল ধারা ও পূর্বরর্তী দুটি পর্ব থেকে আমরা দেখতে পারি যে, ইসলাম কিভাবে মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টনের ক্ষেত্রে একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।

 

(সমাপ্ত)