কিভাবে ওমরাহ করবেন? ওমরাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত গাইডলাইন

dreamstime_s_28605815
ID 28605815 © Sufi70 | Dreamstime.com

ওমরাহ অর্থ সাক্ষাৎ বা পরিদর্শন করা। ইসলামী পরিভাষায়, পবিত্র হজ্জ্বের সময় ব্যতিত অন্য যেকোনো সময় পবিত্র কাবাঘর তাওয়াফ করাকে ওমরাহ বলা হয়। পবিত্র হজ্জ্ব শুধুমাত্র যিলহজ্জ্ব মাসের ৯ থেকে ১৩ তারিখে পালন করা যায়। তবে আল্লাহর অশেষ রহমত যে, তিনি আমাদের বছরের যেকোনো সময় ওমরাহ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। বিশেষত রমযান মাসে ওমরাহ পালনে বিশেষ ফযিলত রয়েছে। অনেকে হজ্জ্বের পূর্বেও ওমরাহ করে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “এক ওমরাহ পরবর্তী ওমরাহ পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ে কৃত সকল গুনাহের জন্য কাফফারা স্বরূপ। আর কবুল হজ্জ্বের প্রতিদান হলো জান্নাত।” (বুখারী, মুসলিম)

ওমরাহ পালনের বেশ কিছু নিয়মাবলী আছে। এই নিয়মগুলি পালনে ত্রুটি হলে ওমরাহ কবুল না হবার সম্ভাবনা থেকে যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, আমাদের মধ্যে অনেকেই এ সমস্ত নিয়ম সঠিকভাবে জানেন না বা জানার ব্যাপারেও উদাসীন থাকেন। তাই এই নিবন্ধটির উদ্দেশ্য হল ওমরাহ পালনের আবশ্যক নিয়মাবলী সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা।

ওমরাহের ফরয ও ওয়াজিবসমূহ

 ওমরাহের দুটি ফরজঃ

১) ইহরাম পরিধান করা

ইহরাম অর্থ হল হারাম বা নিষিদ্ধ। ইসলামী পরিভাষায়, নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করার মাধ্যমে নিয়ত ও তালবিয়া সহকারে আপাত দৃষ্টিতে কিছু হালাল কাজকেও নিষিদ্ধ বলে মেনে নিয়ে হজ্জ্ব বা ওমরাহ পালনের নিয়তে হেরেমে শরীফে প্রবেশ করাকে ইহরাম বলা হয়। মহিলারা তাদের সাধারণ পোশাক পরিধান ও পুরুষরা ইহরামের জন্য প্রস্তুতকৃত সাদা দুটি চাদর পরিধানের মাধ্যমে ইহরাম বাধবেন।

ইহরাম বাধার পূর্বে বেশ কিছু অবশ্যকরণীয় কাজ আছে। যেমনঃ সব ধরনের শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা। যেমন হাত পায়ের নখ কাটা, গোফ, চুল ও নাভীর নীচের লোম পরিষ্কার করা ইত্যাদি। গোসল করা। পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন কাপড় ও মহিলাদের যেকোনো উপযুক্ত পোশাক পরিধানের মাধ্যমে ইহরাম বাধা। গোসলের পর অযু করে ২ রাকাত নফল নামায আদায় করা। মিকাত বা তার পূর্বে ওমরাহের নিয়ত করা। এরপর তালবিয়া পাঠ করা। পুরুষদের জন্য উচ্চ স্বরে এবং মহিলাদের জন্য অনুচ্চ স্বরে তালবিয়া পড়তে হবে।

২) পবিত্র কাবাগৃহ তাওয়াফ করা

তাওয়াফ অর্থ প্রদক্ষিণ করা। ইসলামী পরিভাষায় নির্দিষ্ট নিয়মাবলী মেনে, নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে পবিত্র কাবা ঘরের চারিদিকে প্রদক্ষিণ করাকে তাওয়াফ বলা হয়।

হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করে অথবা চুম্বন করা সম্ভব না হলে হাতের ইশারায় ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে তাওয়াফ শুরু করতে হবে। রুকনে ইয়ামানী থেকে হাজরে আসওয়াদ পর্যন্ত ‘রব্বানা আ-তিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাঁও ওয়া ক্বিনা আ’জা-বান্নার’ পাঠ করতে হবে।

হাজরে আসওয়াদ বরাবর হলে পুনরায় আগের নিয়মে ডান হাত তুলে ইশারা করে তাকবীর পড়তে হবে ও পরবর্তী প্রদক্ষিণ আরম্ভ করবে। এভাবে একই নিয়মে সাত চক্কর পূর্ণ করবে। এরপর তাওয়াফ শেষ হবে।

তাওয়াফ শেষ করে ডান কাধ ঢেকে ফেলতে হবে। এরপর মাকামে ইবরাহীমের পিছনে দুই রাকাত সালাত আদায় করতে হবে। এরপর যমযমের পানি পান করতে হবে।

 ওমরাহের দুটি ওয়াজিবঃ

১) সা’ঈ করা

সাফা এবং মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে দ্রুত হাটা হাটি করাকে সা’ঈ বলা হয়। সাফা পাহাড়ের নিকটে এসে নিয়ত করতে হবে। এটি দু’আ কবুলের অন্যতম স্থান। সাফা পাহাড় থেকে নেমে মারওয়ার দিকে কিছুদূর যেতেই দুই সবুজ বাতির মাঝে পুরুষদের দ্রুতগতিতে চলতে হবে (মহিলাদের জন্য প্রযোজ্য নয়)। সাঈ’র জন্য নির্দিষ্ট কোনো দু’আ নেই। মারওয়া পাহাড়ে পৌঁছে, সাফা পাহাড়ে যেভাবে তাসবীহ পড়া হয়েছে ঠিক একইভাবে দু’আ, তাসবীহ পড়তে হবে। এরপর মারওয়া হতে নেমে এসে আবার সাফায় পৌঁছার পূর্বে সবুজ বাতিদ্বয়ের মাঝামাঝি দ্রুতপদে চলতে হবে। এভাবে সাতবার করবে এনং সাত নম্বর সা’ঈ শেষ হবে মারওয়া পাহাড়ে।

২) মাথা মুন্ডানো বা চুল ছাটা

সর্বশেষে মাথা মুন্ডন করা বা চুল ছোট করা ওয়াজিব। ওমরাহের শেষ ধাপ হিসেবে এই ওয়াজিবটি পালন করতে হয়। সা’ঈ শেষে পুরুষরা তাদের মাথা কামিয়ে ফেলবে বা চুল ছোট করে ছেটে ফেলবে। মহিলাদের চুলের অগ্রভাগ থেকে আধ আঙ্গুল পরিমাণ কেটে ফেললেই হবে। এই কাজটির মাধ্যমে ওমরাহের সকল ফরয ও ওয়াজিব সহকারে ওমরাহ পালন সম্পন্ন হবে। এরপর থেকে স্বাভাবিক পোশাক পরিধান করা যাবে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে যাওয়া যাবে।

মহান আল্লাহ রব্বুল আ’লামিন আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে ওমরাহ পালনের তৌফিক দান করুন। আমিন।