কিভাবে সঠিক জীবনসঙ্গী নির্বাচন করবেন?

dreamstime_s_181950440

মুসলিমদের সামনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামের চেয়ে শ্রেষ্ঠ কোনো স্বামীর উদাহরণ নেই।

তিনি ছিলেন তাঁর স্ত্রীদের জন্য সবচেয়ে প্রেমময়, দয়ালু, নম্র, করুণাময়, সহানুভূতিশীল, বিশ্বাসযোগ্য এবং উদার স্বামী; প্রকৃতপক্ষে তাঁর জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের উদাহরণই নিখুঁত এবং তাঁর গুণাবলীর তালিকা গণনা করার চেয়েও অনেক বেশি।

তাই একজন উত্তম স্বামী নির্বাচনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাহি ওয়া সাল্লামই হবেন উত্তম আদর্শ।

আর স্ত্রী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আদর্শ কি হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রাসূল সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদান করেছেন। তিনি বলেছেন, “চারটি গুণ দেখে নারীদেরকে বিবাহ করবে। সেগুলি হলো সম্পদ, বংশ মর্যাদা, সৌন্দর্য এবং দ্বীনদারি। তবে দ্বীনদারির দিকটিকে তোমরা প্রাধান্য দিবে; তাহলে তোমরা সফল হবে, নয়তো তোমাদের হাত ধুলি ধুসরিত হবে।” (বুখারি, মুসলিম)

স্ত্রী নির্বাচন

সাধারণত, স্ত্রী নির্বাচনের সময় হাদীসে উল্লেখিত বিষয়টির দিকে মানুষ খুব বেশি লক্ষ্য রাখে না। কিন্তু হাদীস থেকে জানা গেল, বিবাহের ক্ষেত্রে দ্বীনদার, ধার্মিক নারীকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। তোমার হস্তদ্বয় ধুলি ধুসরিত হোক কথাটি মূলত বদ-দু’আ মনে হলেও এখানে বদ-দু’আ করা হয় নি; বরং ধর্মিক নারীর প্রতি অধিক আগ্রহান্বিত করাটাই এখানে মূল উদ্দেশ্য।

নেককার স্ত্রী সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ, আর দুনিয়ার সকল সম্পদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ সম্পদ হলো নেককার স্ত্রী।” (মুসলিম)

কারণ, নেককার স্ত্রী দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ের ব্যাপারেই সাহায্যকারী হয়। তাই বিবাহের সময় দেখতে হবে যে, নারীটি নেককার কিনা।

এছাড়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “তোমরা বিবাহ করো অতি সোহাগিনী ও অধিক সন্তান প্রসবিনী নারীকে। কেননা আমি তোমাদের সংখ্যাধিক্যের দ্বারা অন্যান্য উম্মতের উপর গর্ব করব। (আবু দাউদ)

আলোচ্য হাদীস থেকে দুটি বিষয় প্রতিভাত হয়। প্রথমত, যার প্রকৃতিতে মহব্বত করার যোগ্যতা রয়েছে অর্থাৎ যে মন উজাড় করে ভালবাসতে পারে এবং দ্বিতীয়ত, যার বংশে বেশি সন্তান হওয়ার ধারাবহিকতা রয়েছে, বিবাহ করার জন্য এমন নারী অনুসন্ধান করা উচিত।

সুতরাং, বিবাহের ক্ষেত্রে এমন নারী নির্বাচন করবে, যার ধার্মিকতা ও আমল আখলাক স্বামীর চেয়ে উত্তম মনে হয়। এতে সে নারী অর্থ সম্পদের দিক থেকে স্বামীর সমতুল্য কিনা তাতে কিছু যায় আসে না।

স্বামী নির্বাচন

মানুষের পুতঃপবিত্র জীবন যাপনে বিবাহ অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। এ কারণে ইসলামে বিবাহের গুরুত্ব অনেক। আদর্শ পরিবার গঠনে স্বামীর জন্য স্ত্রী নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ তেমনি নারীর জন্য স্বামী নির্বাচনও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

তবে বতর্মান সমাজে শুধু পাত্রী নির্বাচন করা হয়। পাত্রীর পক্ষ থেকে পাত্রের গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণের বিষয়টি তেমন প্রাধান্য পায় না। কিন্তু পাত্রীর সকল গুণাগুণ বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়।

অথচ আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বেই ইসলাম স্বামীর জন্য স্ত্রী নির্বাচনে যেমন দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে ঠিক তেমনি স্ত্রীর জন্য স্বামী নির্বাচনেও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছে। স্বামী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারী যে বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিবে সে সম্পর্কে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনী যেমন একটি আলোকোজ্জ্বল উদাহরণ তেমনি এ বিষয়ে তিনি সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনাও প্রদান করেছেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের জন্য গ্রহণযোগ্য স্বামী নির্বাচনের জন্য সুস্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে বলেছেন, “যখন তোমাদের নিকট এমন কোনো ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসা হয়, যার চরিত্র ও দ্বীনদারিতে তোমরা সন্তুষ্ট থাকতে পারো; তবে তোমরা তার সাথে বিবাহের ব্যবস্থা করে দাও। যদি তোমরা তা না করো, তবে তা পৃথিবীর মধ্যে বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং ব্যাপক বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।” (তিরমিযী, ইবনে মাজাহ)

সুতরাং, এই হাদিস থেকে ও পারিপার্শিক বিচারে যোগ্য স্বামী নির্বাচনে মানদণ্ড তিনটি। তাঁর দ্বীনদারি কেমন, সে কি চরিত্রবান কিনা এবং সে আকলবান, বিবেকসম্পন্ন কিনা।

হাদিসের নির্দেশনা অনুযায়ী যখন কোনো ব্যক্তির মাঝে এই তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখা যাবে বা পাওয়া যাবে, তখন পাত্রী ওই ব্যক্তিকে স্বামী হিসেবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গ্রহণ করতে পারে। দুনিয়ায় সৌভাগ্যময়, পবিত্র ও উত্তম জীবনযাপনে এবং আখিরাতের উত্তম পরিণতি উল্লেখিত মানদণ্ডের মধ্যে নিহিত রয়েছে।

কোনো ব্যক্তির মাঝে যদি দ্বীনের বুঝ না থাকে, সৎ চরিত্রবান না হয়, বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন না হয় তবে সে তার স্ত্রীর প্রতি সুবিচার করতে পারবে না। আর এক্ষেত্রে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ও বিপর্যয় নেমে আসাটাই স্বাভাবিক।

সুতরাং, জীবনসঙ্গী নির্বাচনে এই বিষয়গুলির দিকে আমাদের লক্ষ্য রাখা উচিত।