কিভাবে সত্যের বাণী প্রচারে রত হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) (পর্ব-০৪)

quran

পর্ব-০৪ 

কোরাইশরা প্রথমে আবু তালিব এর মাধ্যমে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে আল্লাহর সত্যের বাণী প্রচার থেকে বিরত করার চেষ্টা করলো। কিন্তু তারা ব্যর্থ হলো। এরপর তারা হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এ ধন-সম্পদের বিনিময় কিনে ফেলার চেষ্টা করলো। তারা প্রস্তাব দিলো যে, ‘তুমি যদি সম্পদ চাও, তবে আরবের শ্রেষ্ঠ ধনী না হওয়া পর্যন্ত তোমাকে সম্পদ দিতে থাকব।

যদি সম্মান ও ক্ষমতা চাও, তোমাকে আমাদের সর্বোচ্চ প্রধান মনোনীত করব এবং তোমার অনুমতি ছাড়া কোনোকিছুই হবে না।

যদি রাজা হতে চাও, তোমাকে রাজ-মুকুট পরাতে বিলম্ব করব না।

আর যদি নারী চাও, আরবের সেরা সুন্দরীরা তোমারই হবে।’

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘আমার এক হাতে সূর্য আর অপর হাতে চন্দ্র এনে দিলেও আমি সত্যে অটল থাকব’।

আবু তালিব ভ্রাতুষ্পুত্রের বিশ্বাসের অটলতায় মুগ্ধ হলেন। বললেন, ‘তুমি তোমার বিশ্বাসের কথা বলে যেতে পারো। আমি কখনো তোমাকে তোমার শত্রুদের হাতে তুলে দেবো না।’

এরপর কোরাইশরা শুরু করল তার উপরে সম্মিলিত নির্মম নির্যাতন । রাস্তায়, পথে-ঘাটে নবীজিকে হেনস্থা করা হয়ে ওঠে এক নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। আর যদি নবীজিকে তারা কাবার আশেপাশে পেত তবে তো কোন কথাই নেই । আবু লাহাব ও তার পত্নী এ-ক্ষেত্রে সবসময়ই ছিল এক ধাপ এগিয়ে। নবীজী ধর্মপ্রচার শুরু করার আগে আবু লাহাব উদ্যোগী হয়ে নবী-তনয়া রুকাইয়া ও উম্মে কুলসুমের সাথে তার দুই পুত্র উতবা এবং উতাইবার বিয়ের প্রস্তাব করেছিলেন। নবীজী প্রস্তাব গ্রহণ করেন। বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু ইসলামের বাণী প্রচারের পর আবু লাহাব দুই পুত্রকে বাধ্য করলেন নবী দুহিতাদের তালাক দিতে। স্বামীগৃহে গিয়ে দাম্পত্য জীবন শুরু করার আগেই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হলো। আবু লাহাব পুত্র উতাইবা নবী দুহিতাকে তালাক দেয়া ছাড়াও নবীজীকে দৈহিকভাবে লাঞ্ছিত করল। আবু লাহাবের স্ত্রী নিজ ঘরের সকল ময়লা আবর্জনা নবীজীর ঘরের দরজায় নিক্ষেপ করত। কেউ কেউ রাতে পালাক্রমে ঢিল মারত নবীজীর ঘরে।

আবু বকর একদিন নবীজিকে প্রস্তাব করলেন যে, এখন আমরা প্রকাশ্যেই কাবাব প্রাঙ্গণে আল্লাহর বাণী প্রচারের উদ্যোগ নিতে পারি। অনেকবার বলার পর নবীজি রাজি হয়ে গেলেন । প্রস্তাবনা এবং পরিকল্পনা অনুসারে কাবার চত্বরে মুসলমানরা প্রত্যেককেই তাদের নিজ নিজ গোত্রের লোকদের সাথে বসলেন। নবীজি বসেছেন এবং আবু বকর দাঁড়িয়ে উপস্থিত সবাইকে আল্লাহ ও আল্লাহর রসুলের ওপর বিশ্বাস স্থাপনের আহ্বান জানালেন। ব্যস! সত্য অস্বীকারকারীদের জন্য এতোটুকুই যথেষ্ট ছিল। তারা তখন পাগলের মত, উন্মাদের মত মুসলমানদের প্রহার শুরু করলো । নবীজী আহত হয়ে মূর্ছিত হলেন। উতবা ইবনে রাবিয়া দুই শক্ত জুতো দুই হাতে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল আবু বকরের ওপর। তার নাক ভেঙে গেল। জুতোর তীক্ষ্ণ আঁচড়ে মুখ কেটে গেল। রক্তাক্ত ও মৃতপ্রায় অবস্থায় তার গোত্রের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করল। তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলো। তখন তার জ্ঞান ছিল না। বিকেলের পর জ্ঞান ফিরে আসলো। জ্ঞান ফেরার পর তার প্রথম বাক্য ছিল, ‘আল্লাহর রসুল কেমন আছেন?’ নিজের গোত্রের যেসব লোকজন তার জ্ঞান ফিরে আনার জন্য চেষ্টা করছিল তারা আবু বকরের জ্ঞান ফিরে আসায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল, কিন্তু তার এই আচরণকে তারা বুদ্ধিহীন বলে ভর্তসনা করতে শুরু করলো। তার মাকে খাবার ও পানির ব্যবস্থা করার কথা বলে আত্মীয়রা চলে গেল। আবু বকরের মা খাবার ও পানি নিয়ে তার কাছে গেলেন। কিন্তু আবুবকর নবীজির খবর না জানা পর্যন্ত তা গ্রহণ করতে চাইলেন না। মা বললেন, তাঁর কোনো খবর আমি জানি না। আবু বকর তখন মাকে বললেন, তুমি উম্মে জামিলের কাছে যাও। তাহলে খবর পাবে।

(চলবে)