কিভাবে সত্যের বাণী প্রচারে রত হলেন মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

quran

পর্ব-০১ 

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) সত্যের সন্ধান লাভ করার পরে তিনি তা ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারে কাজ শুরু করলেন। কিন্তু ওই সময়ে তার আশেপাশের বেনিয়া শোষকদের কথা ছিল খাও দাও ফুর্তি করো, আয়েশ কর। জুলুম করো। লুট করো। শোষণ করো। প্রতারণা করো। ঠকাও। মাল কামাও। যত পারো ভোগ করো। জুয়া মাদকে ডুবে যাও। ফুর্তি করো। পরকীয়া করো। ব্যভিচার করো। তারা বলতো একবার মরে গেলে তো সব শেষ হয়ে যাবে। দেহের হাড় মাংস সব গলে পচে যাবে। পচাগলা হাড়মাংসে কেউ প্রাণ দিতে পারবে না। আর পরকাল ! সেটা তো সেকেলে কল্পকাহিনী। তাই একালে একালে শক্তিমানদের সাথে থাকো। মনে রেখো মনে রেখো, জোর যার মুল্লুক তার। ন্যায়-অন্যায় বলে কিছু নেই। যত আমাদের দালালি করবে, তোমরা তত মাল পাবে, তত ক্ষমতাবান হবে, তত ফুর্তিতে থাকবে।

মৃত্যুর  পরবর্তীকালের  ধারণা

কিন্তু আল্লাহ বাণী পাঠালেন- মরে গেলে সব শেষ নয়। বোকার মতো কেন ভাবছ, যিনি তোমাকে একবার সৃষ্টি করেছেন, তিনি তোমাকে পুনঃসৃজন করতে পারবেন না! আসলে তোমার পার্থিব জীবন ক্ষণস্থায়ী। আর মরে গেলে তুমি প্রবেশ করবে অনন্ত জীবনে। দুনিয়ার জীবনে যেমন কাজ করেছ তার পুরো ফল তোমাকে দেয়া হবে। ভালো কাজ করলে চিত্তহারী পুরস্কার পাবে। আর অন্যায় জুলুমের শাস্তিও পাবে যথাযথ। অতএব জুলুম শোষণ অন্যায় করবে না। চুরি করবে না। লুটপাট করবে না। প্রতারণা করবে না। পরকীয়া ব্যভিচার করবে না। খুন করবে না। আত্মঘাতীও হবে না। মানুষকে ভালবাসো। প্রতিবেশীকে ভালবাসো। অভাবীকে দান করো। দুর্বলকে মায়া করো। নিজের কল্যাণে ও অন্যের কল্যাণে কাজ করো। তোমাকে আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। তখন তুমি অনন্ত আনন্দলোকে থাকবে।

আসলে হেরা গুহার একটি ঘটনায় হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন পুরোপুরি পাল্টে গেল। তিনি বুঝলেন, যদি মানুষ আল্লাহতে সমর্পিত হয়, সকল কাজের জবাবদিহিতা অর্থাৎ আখেরাতে বিশ্বাসী হয়, তাহলেই সে জুলুম শোষণ থেকে দূরে থাকবে। অন্যের কল্যাণে আগ্রহী হবে। তাই কোমলমনা নির্বিরোধ ভালো মানুষটি শুরু করলেন আল্লাহতে সমর্পিত অকুতোভয় জীবন। শুরু করলেন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ বদলানোর কাজ। নির্দেশ পেলেন ফজর ও আসরে দুই রাকাত করে নামাজ পড়ার। জিবরাইল তাঁকে ওযু করতে ও নামাজ পড়তে শেখালেন। তিনি শেখালেন খাদিজাকে। একদিন তাঁরা দুজনই নামাজ পড়ছিলেন।

সত্য গ্রহণের ঘটনা

চাচাতো ভাই আলী (বয়স তখন ১০) হঠাৎ তাঁদের নামাজরত অবস্থায় দেখে বিস্মিত হলেন। আলীর কৌতূহলী প্রশ্নের উত্তরে মুহাম্মদ (স) বললেন, আল্লাহ আমাকে নবী হিসেবে প্রেরণ করেছেন মানুষকে সত্যপথে ডাকার জন্যে। এরপর নবীজি আলীকে আহ্বান জানালেন, প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা বাদ দিয়ে এক আল্লাহর ইবাদত করার পথে আসার জন্য। আলি নবীজির কাছে সময় চাইলেন, যেন তিনি তাঁর পিতা আবু তালিবের সাথে আলাপ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কিন্তু ততক্ষণে আলীর অন্তরে ঝড় বইতে শুরু করল। এবং আলী রাত শেষ হওয়ার সাথে সাথেই পিতাকে জিজ্ঞেস না করেই সত্যকে গ্রহণ করলেন।

নবীজীকে এসে বললেন, ‘আল্লাহ আমার পিতা আবু তালিবের সাথে পরামর্শ ছাড়াই আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তাহলে আল্লাহর ইবাদত করার জন্যে আমাকে কেন পিতার পরামর্শ নিতে হবে?’ আলীর পরই ইসলাম গ্রহণ করলেন পালকপুত্র জায়েদ ইবনে হারিসা। নবীজী ওয়ারাকার সাথে আলাপ করার পরই আঁচ করতে পেরেছিলেন ভবিষ্যৎ প্রবল বিরোধিতার। বুঝলেন, সত্যবাণীর প্রচার করতে হবে নীরবে গোপনে। প্রকাশ্যে সবার কাছে প্রচার করার আগে সমমনাদের কাছে এই বাণী নিয়ে যেতে হবে এবং নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তাদের নতুন বিশ্বাসে বলীয়ান করতে হবে। এবং এই নতুন বিশ্বাস এর জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে তাদেরকে প্রস্তুত করতে হবে। তবেই তারা যেকোন বিরোধিতার, নির্যাতন মোকাবেলায় অহিংস প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে। সহ্য করতে পারবে যেকোনো নির্যাতন।

(চলবে)