কিভাবে হজ পালিত হচ্ছে এ বছর?

বিশ্ব Tamalika Basu ১৫-জুলাই-২০২০
ID 148188451 © Chemmy14 | Dreamstime.com
ID 148188451 © Chemmy14 | Dreamstime.com
হজের আর বেশিদিন নেই। হজ শুরু হবে ২৮ কিংবা ২৯ জুলাই। তবে চাঁদের হিসেবে এই তারিখের হেরফের হতে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে চলতি বছর সৌদি আরবে সীমিতসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে হজের আয়োজন হচ্ছে। তবে শুধুমাত্র দেশটিতে বসবাসকারী বিভিন্ন দেশের অধিবাসী ও দেশটির নাগরিকরা হজ পালনের সুযোগ পেয়েছে। এবার সব মিলিয়ে হজযাত্রীর সংখ্যা ১০ হাজার। এই সীমিত আয়োজনের হজে সৌদি আরব ছাড়াও থাকছে ১৬০ দেশের নাগরিকদের অংশগ্রহণ। সৌদি আরবের হজ মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। এ বছর মোট হজযাত্রীর সংখ্যা ১০ হাজার। এরমধ্যে ৭০ শতাংশ থাকবেন সৌদি আরবে অবস্থান করা বিভিন্ন দেশের প্রবাসী মুসলিমরা। বাকি ৩০ শতাংশ সৌদি নাগরিক।
প্রতি বছর হজে বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশ থেকে অংশ নেন ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ পুণ্যার্থী। এ বছর  যাদের বয়স ৬৫ পার হয়ে গেছে এবং যাঁরা কোনও দুরারোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যাধিতে ভুগছেন, তাঁরা চলতি বছরের অনুমতি পাবেন না।
এ বছর সমস্ত হজযাত্রীকে হজ অধিক্ষেত্র বা মিকাতে প্রবেশ করা মাত্র তাঁদেরকে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা হবে এবং পবিত্র শহর মক্কায় প্রবেশ করার আগে তাঁদেরকে কোয়ারেন্টাইনেই থাকতে হবে। আর হজ শেষ হবার পর তাঁদেরকে নিজ নিজ বাসস্থানে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।
হজ প্রক্রিয়া চলার সময় এ বছর কাউকে কাবা শরীফ স্পর্শ কিংবা চুম্বন করতে দেওয়া হবে না। হাজরে আসওয়াদ বা কৃষ্ণপাথরেও চুম্বন করার অনুমতি থাকবে না।
হজে প্রত্যেককে অপরের সঙ্গে দেড় মিটার শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কাবা শরীফে এবং বিভিন্ন স্থানে নামাযের সময়ও একই নিয়ম প্রযোজ্য। এ ছাড়া পবিত্র কাবা তাওয়াফ বা প্রদক্ষিণের সময়ও এই একই নির্দেশ পালন করে চলতে হবে। এই মর্মে ঘোষণাটি দিয়েছে সৌদির ‘রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র’। জামাতে নামায পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে, কিন্তু প্রত্যেক উপাসনাকারীকে মুখে অবশ্যই মাস্ক পরতে ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কাবার মেঝেতে জাজিম বা কার্পেট থাকবে না। উপাসনাকরীদের প্রত্যেককে নিজ নিজ জায়নামায নিয়ে আসতে হবে।
যাঁদের ‘হজ পারমিট’ থাকবে, কেবল তাদেরই মিনা, মুযদালিফাহ এবং আরাফাতের ময়দানে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সীমিত হজে সহায়তা করার জন্য নিয়োজিত সমস্ত পুলিশ, গাইড, হজযাত্রী এবং অন্যান্য কর্মচারীদের শরীরের প্রতিদিন দু’তিনবার করে তাপমাত্রা পরীক্ষা করা হবে। আর ৫০ স্কোয়ার মিটারের প্রত্যেকটি তাঁবুতে থাকবেন মাত্র ১০ জন করে ব্যক্তি, যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা যায়। হজযাত্রীদের জন্য চিহ্নিত করে দেওয়া হবে নির্দিষ্ট রাস্তা। তাঁদের প্রত্যেক দলকে ওই রাস্তাই অনুসরণ করে চলতে হবে। জামারাতে (শয়তানকে পাথর মারার স্থান) মাত্র ৫০ জন হজযাত্রী তাঁদের জন্য চিহ্নিত নির্দিষ্ট সময়ে যেতে পারবেন এবং তাঁদেরকে জীবাণুমুক্ত ছোট পাথরের প্যাকেট সরবরাহ করা হবে। এ ছাড়া হজযাত্রীদের হাত ধোয়ার জন্য সাবান -পানি ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা থাকবে।