কীভাবে উদ্বেগমুক্ত হবেন? ভবিষ্যতের চিন্তা বাদ দিন

sebastian-unrau-sp-p7uuT0tw-unsplash
Fotoğraf: Sebastian Unrau-Unsplash

আমরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভবিষ্যতে কী হবে তা নিয়ে চিন্তিত হই। তবে ভবিষ্যতের বিষয়ে অত্যধিক চিন্তাভাবনা করা এমন, যেমন কোনো বাড়ি তৈরির পূর্বেই তার আসবাবপত্র ক্রয় করা। ভবিষ্যতের চিন্তা মানুষের বর্তমানের কাজকে ব্যহত করে।

অন্য কথায়, আমরা আমাদের দিনগুলি এমন চিন্তাভাবনা, উদ্বেগ ও প্রত্যাশার মাধ্যমে অতিবাহিত করি যা আমরা এখনও দেখিনি।

আমরা ভালো কিছু পাওয়ার জন্য ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি

শিশু অবস্থায় আমরা বড় হওয়ার স্বপ্ন দেখি। কিশোর অবস্থায় আমরা অপেক্ষা করি যে, কবে যুবক হব আর পিতামাতার আরোপিত সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাব। চাকরিরত অবস্থায় আমরা ভাবি যে, কবে অবসরপ্রাপ্ত হব আর মুক্ত সময় কাটাতে পারব।

মানুষ হিসেবে ভবিষ্যতের দিকে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা আমাদের প্রবল। কিন্তু আগামিকাল পর্যন্ত আমরা পৌঁছাতে পারব কিনা সেই নিশ্চয়তাই আমাদের নেই।

আমরা আগামীকাল নিয়ে যখন খুব বেশি আশা রাখি তখন আমরা বিপজ্জনক ফলাফলের ঝুঁকি নিয়ে থাকি। আর এ কারণে ভবিষ্যতে আমাদের আশানুরূপ ফলাফল যখন আমরা পাই না তখন আমরা হতাশ ও বিরক্ত হয়ে উঠি।

আল্লাহ কুরআনে খুব স্পষ্টভাবে বলেছেনঃ

“আল্লাহর নির্দেশ এসে গেছে। অতএব এর জন্যে তাড়াহুড়া করো না। ওরা যেসব শরীক সাব্যস্ত করছে সেসব থেকে তিনি পবিত্র ও বহু উর্ধ্বে।” (আল কুরআন-১৬:১)

এই আয়াতটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ভবিষ্যতে কি হবে তা নিয়ে যেন আমরা অধৈর্য্য না হই। 

যদি ভবিষ্যতের চিন্তা করতেই হয় তবে এটা মনে রাখা উচিত যে, আজকে আমরা যেরূপ কাজ করব সেরূপ ফলাফলই আমরা ভবিষ্যতে পাব। তাই ভবিষ্যতকে সুন্দর করতে বর্তমানের পদক্ষেপগুলিকে সুন্দর করতে হবে। সুতরাং আসুন আমরা আল্লাহর রহমতের আশা করি এবং এই জীবনের ভবিষ্যতকে আল্লাহর ইচ্ছায় ছেড়ে দিই।

ভবিষ্যতের দুর্ভাগ্য নিয়ে আমরা ভয় করি

মানবীয় গুণাবলি হিসেবে ভবিষ্যতে আমাদের উপর খারাপ কিছু আসতে পারে ভেবে উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা অনেক সময় ব্যয় করি।

শিশুকালে আমরা রাতের অন্ধকারে কোনো দানবের ভয় করি। কিশোর অবস্থায় আমাদের ক্যারিয়ার নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি। আর বৃদ্ধ অবস্থায় দারিদ্র, অসুস্থতা ইত্যাদি নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকি।

কিন্তু আমরা এটা ভুলে যায় যে, দুশ্চিন্তা করে আর উদ্বিগ্ন হয়ে আমরা কখনই আমাদের ভবিষ্যতকে পরিবর্তন করতে পারব না।

এমনকি হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর ভবিষ্যত জানতেন না এবং পরিবর্তন করারও ক্ষমতা রাখতেন না। আল্লাহ কুরআনে বলেছেনঃ

“আপনি বলে দিন, আমি আমার নিজের কল্যাণ সাধনের এবং অকল্যাণ সাধনের মালিক নই, কিন্তু যা আল্লাহ চান। আর আমি যদি গায়বের কথা জেনে নিতে পারতাম, তাহলে বহু মঙ্গল অর্জন করে নিতে পারতাম, ফলে আমার কোন অমঙ্গল কখনও হতে পারত না। আমি তো ঈমানদারদের জন্য শুধুমাত্র একজন ভীতি প্রদর্শক ও সুসংবাদদাতা” (আল কুরআন-৭:১৮৮)

শয়তান আমাদের উদ্বেগকে আমাদের বিরুদ্ধেই ব্যবহার করে

শয়তানের কৌশল সম্পর্কে আল্লাহ কুরআনে বলেনঃ

“শয়তান তোমাদেরকে অভাব অনটনের ভীতি প্রদর্শন করে এবং অশ্লীলতার আদেশ দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে ক্ষমা ও বেশী অনুগ্রহের ওয়াদা করেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সুবিজ্ঞ” (আল কুরআন-২:২৬৮)

প্রায়শই, এটি একটি কার্যকর কৌশল। কতজন এমন আছে যারা হারাম কামাই করেছে কারণ তারা আল্লাহর উপর আস্থা না রেখে ভবিষ্যতে দারিদ্র্যের আশঙ্কা করছে।

সকল ক্ষেত্রে আমাদের উচিত আল্লাহর উপরই তাওয়াক্কুল করা। তবে তাওয়াক্কুলের অর্থ এই নয় যে, আমরা উপায় অনুসন্ধান না করে বসে থাকব।

এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে-

“একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লক্ষ্য করলেন একজন বেদুইন তার উটটি না বেঁধে রেখেই চলে যাচ্ছে। তিনি বেদুইনকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ

“তুমি তোমার উটটি বেঁধে রাখলে না কেন?”

বেদুইন উত্তর দিলঃ

“আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেছি।”

তখন নবীজি তাকে বললেনঃ

“আগে তোমার উটটি বাঁধ, তারপরে আল্লাহর উপর ভরসা কর।” (জামে তিরমিযী)

আমাদের জীবনকে সহজতর করার উপায় খুঁজতে হবে। ভবিষ্যতকে তার মত রেখে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, আমাদের পরিকল্পনা করা ঠিক নয়। বরং সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু পারা যায় প্রথমে সেই চেষ্টা করতে হবে এরপর আল্লাহর উপর ভরসা করতে হবে।

যখন আমরা ভবিষ্যতের জন্য আমাদের মনকে ব্যস্ত রাখি তখন আমরা আল্লাহর জ্ঞান এবং চূড়ান্ত সামর্থ্যকে ভুলে যাই; আমরা বর্তমানের নিয়ামতগুলিকে হারিয়ে ফেলি; আমরা সময় নষ্ট করি এবং আখেরাতের জন্য প্রস্তুত গ্রহণের সুযোগ হারিয়ে ফেলি।