কীভাবে বিতর্ক এড়িয়ে চলবেন

controversy
ID 120463576 © Artur Szczybylo | Dreamstime.com

যখন কোনো বিতর্ক দেখা দেয়, তখন এটিকে বড় আকারের দ্বন্দ্বের রূপ নিতে দিবেন না।

কুরআনে হুদায়বিয়ার সন্ধিটিকে ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ (আল কুরআন-৪৮:১) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হল আল্লাহর দৃষ্টিতে কোনো ইস্যুকে বিতর্ক এবং ঝগড়ার বিষয়ে পরিণত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

কুরআনে বলা হয়েছে, “তারা যেন এ বিষয়ে আপনার সাথে বিতর্কে লিপ্ত না হয়।” এই আয়াতটিতে বোঝানো হয়েছে, “অন্যকে আপনার সাথে বিতর্ক করার সুযোগ দিবেন না” অর্থাৎ, “তোমাদের জন্য বিতর্ক করা সমীচীন নয়।”

আয়াতটি মূলত ইঙ্গিত করে, “বিতর্ক শুরু হওয়ার পূর্বেই আপনার উচিত উত্তম পন্থায় বিতর্ককে এড়িয়ে চলা।” সূতরাং, শান্তিপূর্ণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমাদের উচিত কোনো বিতর্কিত সমস্যা সমাধান করা। 

৬২৮ খ্রিস্টাব্দে নবীজি সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ মদীনা ত্যাগ করে হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কার অভিমুখে যাত্রা করেছিলেন। তারা যখন মক্কা থেকে কয়েক মাইল দূরে হুদায়বিয়ার প্রান্তরে পৌঁছালেন, তখন মক্কাবাসীরা তাদের পথ অবরুদ্ধ করল। মক্কার মুশরিক নেতারা নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লামকে মক্কায় প্রবেশে বাধা দান করল। এই মুহূর্তে আরবের ঐতিহ্য ছিল যুদ্ধ করা। কিন্তু এর বিপরীতে, নবীজী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায় ১৫ দিন যাবত মক্কার নেতাদের সাথে আলোচনায় মশগুল থাকলেন।

পরিশেষে, উভয় পক্ষের সম্মতিতে একটি শান্তি চুক্তি করা হল, যার মধ্যে একটি শর্ত এই ছিল যে, নবীজী ও তাঁর সাহাবীগণ এ বছর হজ্জ না করে মদীনায় ফিরে যাবেন। নবী সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ এই শর্ত মেনে মদীনায় ফিরে গেলেন।

কুরআনে এই হুদায়বিয়ার সন্ধিকেই ‘সুস্পষ্ট বিজয়’ (আল কুরআন-৪৮:১) হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর অর্থ হল আল্লাহর দৃষ্টিতে কোনো ইস্যুকে বিতর্ক এবং ঝগড়ার বিষয়ে পরিণত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বরং, পূর্ব থেকেই বুদ্ধিমান পরিচালনা পদ্ধতি ও অ-বিতর্কিত পদ্ধতির মাধ্যমে যেকোনো বিষয় সমাধান করা উচিত।

সারা বিশ্বের মুসলমানদের এই নীতিটি অনুসরণ করা উচিত। যখনই কোনো বিতর্কিত সমস্যা দেখা দেয় তখন এটিকে বৃহত্তর বিরোধে পরিণত হতে দেবেন না, বরং এটিকে অপসারণ করুন এবং এটিকে প্রাথমিক পর্যায়েই নিঃশেষ করে দিন।

আল্লাহ আমাদেরকে আমল করার তওফিক দান করুন। আমীন।

-লিখেছেন মাওলানা ওয়াহিদুদ্দীন খান