কীভাবে বুঝবেন আপনি “সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিক্ট” কি না

e-niaga guna media sosial © Bigtunaonline | Dreamstime.com

আজকের দুনিয়ায় ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া পৌঁছে গেছে মানুষের ঘরে ঘরে। হাতের মুঠোয় দুনিয়াকে পাবার আনন্দে ছেলে ছোকরা বা তথাকথিত মিলেনিয়ালরা তো বটেই মধ্যবয়স্ক বা বৃদ্ধদের মধ্যেও এর প্রচলন ব্যাপক হারে ছড়াচ্ছে। এর ভালো দিক তো আছে বটেই তবে বেশ কিছু খারাপ দিকও আছে। ভালো দিকের কথা বললে বলতে হয় বন্ধুত্বের কথা। ফেসবুকের মাধ্যমে যেমন পুরোনো বা অনেক দূরের বন্ধুদের সাথে নিত্য যোগাযোগ রাখা যায় ঠিক তেমনি নতুন বন্ধুও করা যায়। এছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন ধরনের খবর, ট্রেন্ড এমনকি চাকরি বা ব্যাবসার ক্ষেত্রেও সোশ্যাল মিডিয়া বেশ কার্যকরী।

তবে এর অন্ধকার দিকটাও ভয়াবহ। অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার নিয়ে আসে অবসাদ, একাকীত্ব, অসামাজিক কার্যকলাপ ও আচার আচরণ। এর ফলে শিশুমনের বিকাশ ব্যাহত হয়, কিশোর মন সহজেই আকৃষ্ট হয় অসুস্থ আনন্দের দিকে।

এই অত্যাধুনিক পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে যেমন সোশ্যাল মিডিয়াকে অস্বীকার করা মানে পিছিয়ে পড়া তেমনই অত্যাধিক ব্যবহার মানে ঘের সর্বনাশ ডেকে আনা। তাই আমাদের উচিত নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে একটু সুস্থ অভ্যাস তৈরি করা যা আমাদের প্রযুক্তির ফলও দেবে আবার সুস্থও রাখবে। এর জন্য প্রথমেই যা প্রয়োজন তা হলো নিজের সঠিক মূল্যায়ন, নীচের ৬ টা পয়েন্ট যদি আপনি নিজেকে খুঁজে পান তাহলে ধরে নিন আপনি একজন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিক্ট।

সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে হাঁফিয়ে ওঠেন?

এরকম ব্যক্তি অনেকেই আছেন যারা একঘন্টা ফেসবুক ঘাঁটতে না পারলে অস্থির হয়ে ওঠেন, কাজে মন বসাতে পারেননা। আপনার কি এরকম হয়? চেষ্টা করুন অন্তত কিছুক্ষণ ফোন বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকতে। কিছু নতুন শখ তৈরি করুন, বই পড়ুন অথবা সিনেমা দেখুন পারলে।

সোশ্যাল মিডিয়া আপনার কাজের সময় নষ্ট করছে?

আপনি অফিসে বসে আছেন কিন্তু কাজ না করে ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রামের ফিড স্ক্রল করে চলেছেন শুধু। এরকম কখনও হয়েছে? কখনও বস বা কলিগরা কথা শুনিয়েছে কাজ না হওয়ার জন্য? যদি হ্যাঁ হয়, তাহলে আপনি বিপজ্জনক ভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার কবলে পরেছেন।

নোটিফিকেশন এলেই ফোন হাতে তুলে নেন?

এটা খুবই সাধারণ ঘটনা। আমাদের প্রত্যেকেই এই কাজটা করে, এবং এক্ষেত্রে অনেক অজুহাতও উপস্থিত থাকে। আমরা নিজেকে বোঝাই কাজের জন্য ফোন হাতে নিয়েছি, হয়তো কোনো দরকারী খবর। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কিছু অদরকারী জিনিসে দিনের আধঘন্টা বা একঘন্টা নষ্ট হয়ে গেল। এটাকে সোশ্যাল মিডিয়া আডিকশনের প্রাথমিক পর্যায় বলা যেতে পারে।

মিনিটে মিনিটে পোস্টের লাইক-কমেন্ট দেখেন?

একটা খুব খারাপ বিষয় হলো যে আমরা সোশ্যাল মিডিয়ায় করা পোস্টের জনপ্রিয়তা দেখে নিজেদের বিচার করতে শুরু করি। সমাজের কাছ থেকে ভ্যালিডেশন বা বৈধতা পাওয়ার এই হিড়িক এর আগে কখনও চোখে পড়েনি। এতে শুধু সময় নষ্টই নয় নিজের আত্মসম্মানবোধ লোপ পায়। অন্যের মুখাপেক্ষি হয়ে বাঁচতে গিয়ে, অন্যের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য করতে গিয়ে আমার নিজেকে বদলে ফেলি। এর ফলাফল হয় মারাত্মক।

ঘুমোতে যাওয়ার আগে এবং চোখ খুলে সোশ্যাল মিডিয়া চেক করেন?

আপনার ঘুমের আগে ও পরের সঙ্গী কি সোশ্যাল মিডিয়া? যদি তাই হয় তাহলে বলতে হবে আপনি একাকিত্বের শিকার। আপনার নিজের প্রতি ভালোবাসা নেই। কারণ একটা দিনের শুরু এবং শেষ এই দুটো সময় আমাদের নিজের প্রতি সচেতন হতে হয়, সামনে থাকা দিনটার পরিকল্পনা করতে হয়। তা না করে যদি সবকিছু ফেসবুকে শুরু হয়ে ফেসবুকেই শেষ হয়, তাহলে জীবনের মূল্য কোথায় থাকল?

আপনার সঙ্গী ও বন্ধুবান্ধব আপনাকে অমনোযোগী বলে?

এই হাইটেক পৃথিবীতে কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কাছের মানুষদের থেকে দূরের মানুষদের মূল্য অধিক। আমরা তাদের সুখে হাসি, দুঃখে দুখী হয় কিন্তু বাড়ির লোক, স্বামী/স্ত্রী, বন্ধুবান্ধব যারা সত্যিই আপনার কাছে মূল্যবান তাদের বিষয়ে অনীহা দেখেই। আপনার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মাথাটা তুলুন স্ক্রীন থেকে।

এই প্রতিটা বিষয় কি আপনার সাথে মিলে গেল? তাহলে আপনি একজন সম্পূর্ণ সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাডিক্ট। উপরোক্ত ছয়টি প্রশ্নে আপনার স্কোর যত কম হবে তত বেশি সুখী আপনি ব্যক্তিগত জীবনে।