কীভাবে হয়ে উঠবেন কার্যকরী মুসলমান?

dreamstime_s_130678340

আল্লাহর সেবক হিসাবে আমাদের সৎ পথে থেকে সঠিকভাবে ইসলামের পথে এগিয়ে যেতে হবে। আল্লাহর নির্দেশিত পথ অনুসরণ করে প্রত্যেক মুসলমানের উচিৎ চেষ্টা করা সমস্ত কাজে নিজেদের সেরাটা দিয়ে সফল হওয়া। জীবনের সব মুহূর্তে সঠিক ও যুক্তিপূর্ণ ব্যবহার করা, তাহলেই আমরা আমাদের প্রিয় নবীজী (সাঃ)-এর আশীর্বাদ পাব।

আমাদের জীবন যখন শুরু হয় তখন আল্লাহর কৃপায় আমাদের লক্ষ্য স্থির থাকে, কিন্তু যাপনের পথে অজস্র প্রলোভন আমাদের দিশেহারা করে দেয়। ইসলামের পথ থেকেই সরিয়ে আনে এই প্রলোভন ও দুনিয়াদারি। আর একজন ইমানদার ও জিম্মাদার মুসলমানের জীবনে ভাল অভ্যাস, আল্লাহর প্রতি অবিচল আনুগত্য ও লক্ষ্য ছাড়া আর কিছু থাকা কাম্য নয় কখনোই। আমাদের প্রথম থেকেই উদ্দেশ্য থাকে সার্থক মুসলমান হয়ে ওঠার। 

সার্থকতা

এখন ‘সার্থক’ শব্দ শুনতে যত সহজ, সার্থকভাবে ইসলামের পথ পালন করা তত সহজ নয়। সার্থক মুসলমান সেই হতে পারবে যার নিজের উপর ও চারপাশের পরিবেশের উপর একটি সদর্থক ও গঠনমূলক প্রভাব থাকবে। যার সমাজের প্রতি কিছু দায়িত্ব থাকবে, এবং যে লক্ষ্য নির্ভর কাজ করবে। 

এর সঙ্গে আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ ভক্তি ও বিশ্বাস থাকার কথা তো বলাই বাহুল্য। সুরাহ আত তালাকে লেখা রয়েছে,এবং তাকে তার ধারণাতীত জায়গা থেকে রিযিক দেবেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্যে তিনিই যথেষ্ট। আল্লাহ তার কাজ পূর্ণ করবেন। আল্লাহ সবকিছুর জন্যে একটি পরিমাণ স্থির করে রেখেছেন।‘ [৬৫:৩]

কুর-আন আর সুন্নাহর শিক্ষার সঙ্গে আমাদের নৈতিক ও শাস্ত্রীইয়বোধের একাত্ম হয়ে যাওয়াই সার্থক মুসলমান হওয়ার উদাহরণ। আমাদের সকলের উচিৎ আল্লাহর উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা, আল্লাহ আমাদের খেয়াল রাখবেন। 

নিম্নলিখিত সাতখানা পদ্ধতি অনুসরণ করলে হয়ে ওঠা যাবে আদর্শ ও সার্থক মুসলমান, 

১। প্রবর্তক হতে শিখুন

কেউ কিছু বলল তখন আপনি তা করলেন, এটার বদলে কেউ কিছু বলার আগেই আপনি নিজে থেকেই কাজ করুন। সিদ্ধান্ত নিন। নতুন নতুন বিষয় খুঁজে বের করে শিখুন। কথায় বলে, তিন রকম মানুষ হয়… সেলফ স্টার্টার, কিক স্টার্টার, পুশ স্টার্টার। সেলফ বা কিক স্টার্টার হলে আপনি আস্তে-আস্তে সাফল্যের দিকে এগিয়ে যাবেন, উলটে পুশ স্টার্টার আপনার জীবনে হতাশা ছাড়া আর কিছু আনবে না।

২। সর্বশেষ ফলাফল মাথায় রেখে লক্ষ্য স্থির করুন

আল্লাহ বলেন, পৃথিবীতে যাই কাজ করি আমরা সব ঠিক করে আমরা জান্নাতে যাব না জাহান্নুমে। আমরা চেষ্টা করি জান্নাতে যাওয়ার, সেই অনুসারে কাজ করি। সেরকম ভাবেই নিজের জীবনে যে লক্ষ্যই স্থির করবেন তার অন্তিম ফলাফলের কথা মাথায় রেখেই করবেন। দেখবেন, কাজ খুব নিপুণ ভাবে সম্পন্ন হবে।

৩। অগ্রাধিকার দিতে শুরু করুন

 একজন সহি মুসলমানের জীবনে সর্বদা অগ্রাধিকার হওয়া উচিৎ ধর্মবিশ্বাস ও আল্লাহ। তারপর তার পরিবার। তারপর কাজ। এর বাইরে আর কিছুতে নজর দেওয়া উচিৎ নয় তার। সুতরাং, আপনার জীবনের অগ্রাধিকার সম্পর্কে যদি আপনার সম্যক ধারণা থাকে তাহলেই আপনি ইসলামের সার্থক অনুসরণকারী। 

৪। পরস্পরের পরিপূরক হয়ে উঠুন

একজন সহি ইমানদার ও জিম্মাদার মুসলমান আরেক মুসলমানকে সাহায্য করতে কিছু মাত্র ভাববে না। এভাবেই  পারস্পরিক সাহায্যের মাধ্যমে পুরো ইসলাম সমাজ হয়ে উঠবে পরস্পরের পরিপূরক। 

৫। বোঝার চেষ্টা করুন

সহজেই কনক্লুশনে পৌঁছ যাবেন না। সবসময় আশা করবেন না যে কেউ আপনাকে সবসময় বুঝবে।  বরং, আপনি উল্টোদিকের মানুষটিকে বোঝার চেষ্টা করুন। জীবন আসলে খুবই সহজ, অনর্থক জটিল করবেন না।

৬। ঐক্যবদ্ধ হোন

সমষ্টিগত ভাবে ঐক্যবদ্ধ হলে তবেই আমরা আমাদের মধ্যের বৈচিত্রকে উদযাপন করতে পারব। আমাদের সর্বদা এক হয়ে থাকতে হবে ও একে অপরকে সাহায্য করতে হবে। ইসলাম উম্মাতের উপরে এই জন্যই গুরুত্ব দেয়। 

৭। বিশ্বাস রাখুন

আল্লাহর উপর কখনও বিশ্বাস হারাবেন না। আত্মসমালোচনা করবেন কারণ একমাত্র আত্মসমালোচনাই আপনাকে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আল্লাহর কৃপায় নিজের সেরা ভার্শন বা সংস্করণ হওয়ার প্রয়াস বজায় রাখুন।

অতএব, সার্থক ইমানদার  মুসলমান হতে গেলে আমাদের বিবেচনা করে দেখতে হবে এর মধ্যে কোন কোন গুণ আমাদের রয়েছে এবং কোনগুলো আমাদের অর্জন করতে হবে। আল্লাহর ইচ্ছায় সার্থক মুসলমান হওয়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।