কী কী উপকার পাবেন বেদানা বা ডালিম খেলে?

pomegranate

বেদনার আদি উৎস

ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায় প্রাচীন ককেশাস প্রদেশে দীর্ঘসময় ধরে বেদানা বা আনার চাষ করা হত। অনেকেই মনে করেন এই ফলটির আদি উৎস হল মধ্যপ্রাচ্য। ইরাক এবং ইরান প্রদেশেই একসময়ে সবথেকে বেশি পরিমাণে এর চাষ করা হত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাণিজ্যিক সূত্রে ফলটির ফলন কৌশল পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও বিশেষ জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই প্রসঙ্গে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখ করা যেতে পারে। ডালিম বা বেদানা নামে পরিচিত হলেও ফলটির ইংরেজি নাম ‘পমেগ্রেনেট’ এবং হিন্দুস্তানি, ফারসি এবং পশতু ভাষাতে একে ‘আনার’ও বলা হয়ে থাকে। আজারবাইজাইনে একে ‘নার’ বলে। সংস্কৃত এবং নেপালিতে এটি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে ‘দারিম’ নামে। বাংলাদেশ এবং ভারতেরও কোনও কোনও অঞ্চলে ডালিম নামটির প্রচলন বেশি, সম্ভবত সংস্কৃত শব্দ থেকেই একপ্রকারের উৎপত্তি ঘটেছে এই শব্দের। অন্যদিকে আনার শব্দমূল সম্পর্কে আগেই বলা হয়েছে।

শুধুমাত্র অর্থগত উৎপত্তি কিংবা স্থানপ্রসঙ্গ বলার জন্য এত কথা নয়। আজকে আমরা আলোচনা করব, প্রাচীন এই ফলটির বিশেষ কিছু উপকারিতার কথা। আমরা প্রত্যেকের কাছেই এই ফলটি বেশ প্রিয়। খেতেও মন্দ নয়। উপকারিতাও রয়েছে বিশেষ।

ভিটামিনের উৎস

প্রথমেই যে বিষয়টি বলে নেওয়া প্রয়োজন ভিটামিনের উৎস। বেদানাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। যা আমাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। দেহে অ্যান্টিবডি তৈরি করতেও এটি বিশেষ সহায়ক এমনটা বলা যায়।

ক্যালশিয়াম এবং পটাশিয়াম

বেদানার রসে থাকে প্রচুর পরিমাণে ক্যালশিয়াম এবং পটাশিয়াম। ক্যালশিয়াম এবং পটাশিয়াম সমৃদ্ধ বেদানা হাড় মজবুত করতে এবং দাঁতের সমস্যা নিরাময়েও বিশেষভাবে উপকারি।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট

·বেদানাতে থাকে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কাজই হল শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থের নিঃসরণ। এই কাজটি বেদানার মাধ্যমে সম্ভব এমনটা বলতে পারি। বেদানাতে থাকে বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং একইসঙ্গে থাকে পি-অ্যানিসিক অ্যাসিড, যার ফলে আমাদের শরীরের রক্তচাপ বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

বেদানা সাধারণত আমাদের শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে, ফলে শরীরে ফ্যাট বা চর্বি জাতীয় উপাদান জমার সম্ভাবনা থাকে না। এই প্রসঙ্গে আরও একটা জিনিস বলা প্রয়োজন কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকার ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতাও ঠিক থাকে।

ত্বকে কিংবা দাঁতে বা দাঁতের মাড়িতে ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস ইনফেনশন হলে তা নিরাময় করতেও বেদানা বিশেষভাবে কার্যকরী।

পলিফেলন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উপস্থিতির কারণে আমাদের ত্বকে বা চেহারায় বাধর্ক্যজনিত বা বয়সের ছাপ রোধে সাহায্য করে এই বেদানা বা বেদানা থেকে প্রস্তুত রস।

ফাইবারের উপস্থিতি

বেদানার মধ্যে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ফাইবার একদিকে যেমন কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে, তেমনই অন্যদিকে পেটের সমস্যা এবং হজমের সমস্যা নিরাময়েও সাহায্য করে এই বেদানা।

বেদানাতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে আয়রন। যা শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। সুতরাং এমনটা বলতে পারি বেদানা রক্তাল্পতা নিরাময়েও কার্যকরী ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় বেদানা আমাদের শরীরে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহয়তা করে।

বেদানার মধ্যেকার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট জাতীয় উপাদান একদিকে যেমন আমাদের ত্বকের সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, তেমনই চুল পড়া নিরাময়েও বিশেষভাবে কার্যকরী হল এই বেদানা। সুতরাং, চুলপড়ার সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা অবশ্যই খাদ্য তালিকাতে এবং ফ্রুট স্যালাডের তালিকাতে একে রাখতে পারেন।

প্রয়োজনীয় শক্তি প্রদানে

বেদানার মধ্যে উপস্থিত কার্বোহাইড্রেট জাতীয় উপাদান আমাদের শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি প্রদান করতেও সাহায্য করে থাকে।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে বেদানা স্কিন ক্যানসার এবং প্রসেস্ট ক্যানসার রোধেও বিশেষভাবে কার্যকরী। সুতরাং, বহুবিধ গুণসমৃদ্ধ ডালিম বা বেদানাকে নিজ নিজ খাদ্য তালিকাতে রাখতে সম্ভবত কোনও সমস্যাই নেই। আর এটি খেতেও বেশ সুস্বাদু, কাজেই ছোট থেকে বড় সকলেরই পছন্দ হবে বিশেষ।

সুতরাং, পরবর্তী সময়ে ফ্রুট স্যালাড বানানোর সময়ে অবশ্যই রাখুন এই ফলটিকে….