SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

কী কী মনে রাখতে শিশুকে সাহায্য করবেন?

পুরুষ ১৪ সেপ্টে. ২০২০
dreamstime_s_100518148
© Yudhistirama | Dreamstime.com

কথায় বলে, শিশুরা খুব সহজে নতুন কিছু শিখতে পারে। কথাটা একেবারেই ভুল নয়। পরিণত মানুষের মতো মাথায় অতিরিক্ত চাপ না থাকায় মস্তিষ্ক থাকে সজাগ ও সতেজ। সহজেই সেই মস্তিষ্কে ছাপ পড়ে, এবং তাই শিশু খুব সহজে কিছু মনে করতে পারে, বা মনে রাখতে পারে। তাই বলা হয়, যা শেখানোর তা শিশু বয়সে শিখলে শিশু সারাজীবনেও তা ভুলবে না। তাই শিশুর এই ঐশ্বরিক ক্ষমতা সবসময় সঠিক পথে চালিত করতে হয়। প্রিয় নবী হজরত (সা.) বলেন, ‘প্রত্যেক শিশুই স্বভাবধর্মে (ইসলামে) জন্মগ্রহণ করে।’ (তিরমিজি)।

কিন্তু কথা হচ্ছে, সন্তানকে কী কী মনে রাখতে উৎসাহিত করা উচিৎ? 

বর্তমানের মুসলমান শিশুদের খেয়াল করলে দেখা যাবে শুধু টেলিভিশনের চটুল গান, কিংবা ফুটবল খেলোয়ারদের নাম তাদের মুখস্থ। পাঠ্যক্রম মুখস্থ হলেও পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কুরান বা হাদিস তাদের মনে রাখার ইচ্ছে নেই। এইক্ষেত্রে খানিক দোষ কিন্তু পিতা ও মাতার উপর বর্তায়। পিতা যদি সন্তানকে ইসলামের মহান পথের কথা না শোনায় তাহলে শিশু কোথা থেকে জানবে তা? পিতা মাতা যদি উপাসনা না করে টেলিভিশন বা ইন্টারনেটে মগ্ন থাকে তবে শিশুও তাই শিখবে। মস্তিষ্কের সঠিক ব্যবহার হবে না।

শিশুর মস্তষ্কের সঠিক ব্যবহারের জন্য কয়েকটি পদ্ধতি মেনে চললেই হবে

প্রথমত, কুর-আন পড়ার অভ্যাস তৈরি করাঃ সন্তানকে কুর-আন পড়ার অভ্যাস তৈরি করালে তাঁর উপকার শুধু সন্তানের হয় না, সে উপকার পিতা মাতার উপরেও বর্তায়। পিতা মাতা সন্তানকে কুর-আনের মাধ্যমে আল্লাহর সন্নিকটে নিয়ে আসেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আ লাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,  ‘সন্তানকে প্রথম কথা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ শেখাও এবং মৃত্যুর সময় তাদেরকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর তালকীন কর।’ (শুআবুল ঈমান ৬/৩৯৭-৩৯৮, হাদীস ৮৬৪৯)

শিশুকে অল্পবয়সে আল্লাহর পরিচয় শেখানো, নবী সাল্লালাহু আলাইহি ওয়ালাসাল্লামের কথা শেখানো। গল্পের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় ও আখলাক তুলে ধরা পিতা মাতার দায়িত্ব। এ পর্যায়ে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একটি হাদিস উল্লেখ করা যেতে পারে। তিনি ইরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক শিশু (ইসলামের) ফিতরতের উপর জন্মলাভ করে। কিন্তু পিতা-মাতা তাকে ইহুদী  বানায়, খৃষ্টান বানায়, অগ্নিপূজক বানায়। (সহীহ বুখারী ১/১৮৫, হাদীস ১৩৮৫; সহীহ মুসলিম ২/৩৩৬, হাদীস ২৬৫৮)

হাদিস পড়ানোর অভ্যাস

কুর-আন পড়ার অভ্যাস তৈরি করার পর হাদিস পড়ানোর অভ্যাস তৈরি করা উচিৎ। পিতা মাতার উচিৎ সঠিক সময়ে শিশুকে হাদিসের পাঠ দেওয়া। এই বিষয়ে ভারী সুন্দর একটি গল্প রয়েছে। ইমাম মালিক (রহঃ)-এর কন্যা খুব অল্প বয়স থেকে হাদিস মুখস্থ করেছিলেন। তাঁর পিতা যখন ছাত্রদের হাদিস নিয়ে শিক্ষা দিতেন তখন কেউ যদি ভুল উচ্চারণ করত তাহলে সেই কন্যা দরজায় ঠক ঠক শব্দ করে শুধরে নিতে বলতেন। 

শিশুর হাদিস পড়া নিয়ে পিতা মাতার সন্দেহ না করাই ভাল, কারণ, স্বয়ং নবী (সাঃ) বলে গিয়েছেন, 

“সাবধান! তোমরা সন্দেহ ও ধারণা করা থেকে বেঁচে থাক। কারণ, ধারণা করা হচ্ছে সবচেয়ে বড় মিথ্যা।” (বুখারী ও মুসলিম)

তৃতীয়ত, আযকার ও দু’আ-যিকির করতে শেখান সন্তানকে। আল্লাহর প্রতি যেন তার মিনতি থাকে। মূলত সকালে ও সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকির ও অন্যান্য সময়ের দু’আ  করলে শিশুর মনে রাখার ক্ষমতা ক্রমশ বাড়বে ও আল্লাহর প্রতি তার বিশ্বাসও অটুট হবে। 

ইসলামিক ইতিহাস, কাব্য ও সাহিত্য পড়ায় সন্তানকে উৎসাহিত করুন।

শিশু যদি ছোট থেকে এগুলি পড়তে শুরু করে এবং ভালবাসে তাহলে নিজের ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি তার আগ্রহ আরও বাড়বে। ইমাম আশ শফি, মুস্তাফা সাদিক আর রফি, ইউসুফ আল কিউয়ারাধায়ির সাহিত্য শিশুদের অবশ্যই জানা উচিৎ। 

শিশুকে মনে রাখার জন্য কীভাবে প্রশংসা করা যায়?

বিশেষজ্ঞরা বলেন শিশু তিন বছর বয়স থেকে মনে রাখতে পারে ও পাঁচ থেকে পনেরো বছর পর্যন্ত তার এই ক্ষমতা সেরা অবস্থায় থাকে। 

তাই এই বয়সে  রোজ সকালে শিশুকে ফজরের নমাজ ও ওজু করাতে হবে।

সন্তানকে ছোট খাটো উপহার দিন। কুর আনের একটা আয়াত মুখস্থ করলে তাকে উপহার দিন। সন্তান বুঝবে কুর-আনের গুরুত্ব ও অর্জন করার আনন্দ। নবী ইব্রাহিম ইবন আদমের পিতা তাঁকে বলেছিলেন , একটি হাদিস মনে রাখতে পারলে এক দিরহাম করে পুরস্কার পাবেন তিনি। 

সন্তানকে অতিরিক্ত আদর থেকে দূরে রাখুন। তার মনকে প্রস্ফুটিত রাখতে দিন। বেশি খাওয়া বা ঘুম ও আলস্য থেকে দূরে রাখুন। 

তাহলেই আপনার সন্তান অত্যন্ত ধারালো ও বুদ্ধিমান এক ব্যক্তি হয়ে উঠবে।