SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

কুমড়া পাতা উপকারী বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায়

স্বাস্থ্য ২৬ জানু. ২০২১
ফোকাস
কুমড়া পাতা
© Billed | Dreamstime.com

মিষ্টি কুমড়া খেতে আমরা সকলেই ভালবাসি। কুমড়ার উপকারিতার কথাও আমাদের অজানা নয়। বাংলাদেশ বা ভারতের গ্রামেগঞ্জে গেলে টালি বা টিনের চালে, বাগানে মাচা করে কুমড়াগাছ দেখতে পাওয়া যায়। কুমড়াগাছ জন্মায় সহজে, এর বৃদ্ধি হয় দ্রুত। কুমড়াগাছের ফল, ফলের বীজ থেকে শুরু করে ফুল, পাতা, শাক, ডাঁটা সবই খেতে উপাদেয়। তবে কুমড়ার পাশাপাশি কুমড়া পাতা-ও যে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, এ সম্পর্কে অনেকেই ওয়াকিবহাল নন। আজ আমরা কুমড়া পাতার উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করব।

স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারী কুমড়া পাতা

যে-কোনও সবুজ শাকপাতারই অজস্র পুষ্টিগুণ থাকে। কুমড়া পাতাও তার ব্যতিক্রম নয়। এতে প্রচুর পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্য পরিপোষক বা নিউট্রিয়েন্টস থাকার পাশাপাশি কুমড়া পাতায় ক্যালোরির পরিমাণ কম। সেইসঙ্গে এতে থাকে এ, সি, বি৬, ই-র মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন। এছাড়া ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজের মতো খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ এই পাতা।

ক্যানসারকে দূরে রাখে

‘হু’ (ওয়র্ল্ড হেলথ অরগানাইজেশন)-এর তথ্যানুযায়ী, পৃথিবীতে মানুষের মৃত্যুর কারণে ক্যানসারের স্থান দ্বিতীয়। অনেকেই জানেন না, কুমড়ার পাতা ক্যানসারকে দূরে রাখতে সাহায্য করে। এতে অ্যালকালয়েড, রেসিন, হাইড্রোসায়ানিক অ্যাসিড, ট্যানিন, ফ্ল্যাভোনয়েড ইত্যাদি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সাধারণত শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ও প্রদাহের কারণে অনেকসময় ডিএনএ-তে পরিবর্তন ঘটে ক্যানসার কোষ সৃষ্টি হয়। কুমড়ার পাতায় উপস্থিত অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এই ক্যানসার কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। এছাড়া এতে থাকা ক্লোরোফিল, ফেনলিক যৌগ, স্যাপোনিন গ্লাইকোসাইড, ফাইটোস্টেরলের মতো উপাদান ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করে।

হজমে সাহায্য করে কুমড়া পাতা

কুমড়া পাতায় প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে যা পরিপাক ক্রিয়াকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই ফাইবার পেটখারাপ, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস থেকে শরীরকে রক্ষা করে। হজমের সমস্যার সমাধানে ডাক্তাররা পাতে সবুজ শাক রাখতে বলেন। কুমড়া পাতা কিন্তু সেক্ষেত্রে আপনার অপশন হতে পারে। এতে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট আলসারের সম্ভাবনা কমায়।

রক্তে শর্করা, কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়

কুমড়া পাতা নিয়ম করে পাতে রাখলে তা ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা কমায়। এতে পলিস্যাকারাইড ও ইথাইল অ্যাসিটেট থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়। এছাড়া এইসমস্ত উপাদান রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রক ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। কুমড়া পাতায় থাকা বিপুল পরিমাণ ফাইবার পরিপাকের সময় রক্তে কোলেস্টেরলের শোষণ হ্রাস করে, যার

ফলে হৃদযন্ত্র সুস্থ থাকে। লিভার বা যকৃতে কোলেস্টেরলের উৎপাদন কমাতে কুমড়া পাতা সহায়তা করে। এতে থাকা পটাশিয়াম অনিয়মিত হৃদস্পন্দন প্রতিহত করে এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা কমায়।

দেহে রক্তের পরিমাণ বাড়ায়

মেয়েরা অনেকেই রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ায় ভোগেন। এছাড়া বিভিন্ন রোগের ফলেও অনেকের ক্ষেত্রে রক্তহীনতা দেখতে পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে কাজে দিতে পারে কুমড়া পাতা। কারণ এতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন এবং অন্যান্য খনিজ থাকে যা মানবদেহে রক্তের উৎপাদন বৃদ্ধি করে এবং অ্যানিমিয়ার সম্ভাবনা কমায়। এরজন্য আপনি কুমড়া পাতা থেঁতো করে সেই রস ছেঁকে নিয়ে নিয়ম করে খেলে উপকার পাবেন।

দেহকোষ ও কলাকে সুস্থ রাখে

কুমড়ার পাতায় প্রোটিন থাকে। এই প্রোটিন শরীরে সংযোগকারী কলা, পেশি ও স্নায়ুতন্ত্রকে সুস্থ রাখে, শরীরে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়া এতে উপস্থিত ভিটামিন দেহকোষ, কলা ইত্যাদিকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি ত্বক ভাল রাখে। কুমড়ার পাতায় থাকা ভিটামিন সি শরীরের কাটা-ছেঁড়া, ইনফেকশন দ্রুত সারাতে সহায়তা করে।

হাড় ও দাঁতের যত্ন নিতে কুমড়া-র পাতা খান

কুমড়ার পাতায় ক্যালসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে যা শরীরে হাড় ও দাঁতের অপরিহার্য উপাদান। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম হাড় ও দাঁতকে শক্ত করে। মনে রাখবেন, হাড়ে ক্যালসিয়াম শোষণের ক্ষেত্রে ম্যাগনেসিয়ামের ভূমিকা বিপুল। বয়সজনিত কারণে হাড়ে ব্যথা, অস্টিয়োপোরোসিস ইত্যাদি হাড়ের রোগ থাকলে কুমড়া পাতা নিয়ম করে খান।

খিঁচুনির ক্ষেত্রে কাজে লাগে

বাচ্চাদের অনেকসময়েই খিঁচুনির প্রবণতা থাকে। তাছাড়া হঠাৎ করে পেশির সংকোচনে এবং রক্তে নানা দূষিত পদার্থের উপস্থিতি, জ্বর ইত্যাদির কারণেও খিঁচুনি হয়। সেক্ষেত্রে কুমড়ার পাতা কেটে সামান্য লবণ দিয়ে নারকেলের পানির সঙ্গে আপনার বাচ্চাকে খেতে দিলে তা ওষুধের মতো কাজ দেয়। একে আপনি একবার বানিয়ে বোতলে রেখে দিতে পারেন। বহুবছর ধরে খিঁচুনির ক্ষেত্রে এই টোটকাটি ঘরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

ফার্টিলিটি বাড়াতে সাহায্য করে

নারী এবং পুরুষ, উভয়ের ক্ষেত্রেই বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় কুমড়া পাতা বহু আগে থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। এতে প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ পরিপোষক, যেমন ওলেয়িক অ্যাসিডের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, অ্যালকালয়েড, ট্যানিন ও লিনোলেয়িক অ্যাসিড থাকে যা পুরুষের শুক্রাণু সংখ্যা বাড়ায় এবং টেস্টিকলের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। মহিলাদের ক্ষেত্রে কুমড়া পাতা ফার্টিলিটি বাড়ায় এবং গর্ভাবস্থার পরে শরীরকে সুস্থ রাখে। সদ্য মায়েদের ক্ষেত্রে বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতেও কুমড়া পাতার কার্যকারিতা প্রমাণিত।

ওজন কমায়

কুমড়া পাতা নিয়ম করে খেলে আপনাকে আর কষ্ট করে ডায়েট করে ওজন কমাতে হবে না। কারণ এতে থাকা ফাইবার পরিপাক ক্রিয়া বৃদ্ধি করে এবং খিদে কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। কুমড়ার পাতায় ক্যালোরি প্রায় থাকে না বললেই চলে, ফলে ওজন কমাতে হলে এটি আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন।

স্মৃতিশক্তি ভাল রাখে

মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুতন্ত্র সতেজ ও কার্যকরী রাখতেও কুমড়া পাতার দারুণ কাজে লাগে। নানারকম ভিটামিনের পাশাপাশি এতে ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা এক্ষেত্রে কাজে দেয়। কুমড়া পাতা যুক্তিক্ষমতা বাড়ায়, ডিমেনশিয়া এবং অ্যালঝাইমার্সের মতো স্মৃতিশক্তিজনিত অসুখকে দূরে রাখে।

চোখের সমস্যায়, ত্বকের যত্নে, দেহে সার্বিকভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে কুমড়া পাতার জুড়ি নেই। কুমড়া পাতাকে বড়া, ঝোল, ভর্তা ইত্যাদি নানাভাবে রান্না করা যায়। এটি সহজলভ্যও বটে। ফলে স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে উপকারী এই পাতাকে এবার নিয়ম করে পাতে রাখতেই পারেন।