কুরআনের ৩ টি আয়াত যা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে

ID 144940022 © Hasbi Sahin | Dreamstime.com
Fotoğraf: ID 144940022 © Hasbi Sahin | Dreamstime.com

রমজান মাসে শুধু কুরআন নাযিলই হয়নি; বরং এই মাসে মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াত ও শ্রবণ করে থাকে।

প্রত্যহ তারাবিহর সালাতে কুরআন শ্রবণ এবং অন্যান্য সময় অধিক পরিমাণে কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই মাসে আমাদের আত্মা যেন এক নিবিড় প্রশান্তি খুজে পাই। এরই মাঝে এমন কিছু আয়াত আমরা শুনি বা তেলাওয়াত করি যেগুলি নিয়ে একটু চিন্তা-ভাবনা করাই আমাদের জীবনের মোড় পরিবর্তনের জন্য যথেষ্ট।

আজ আমরা এই নিবন্ধে এমনই তিনটি আয়াত নিয়ে আলোচনা করব যেগুলি আপনাকে জীবনে চলার পথে অনুপ্রাণিত করবে।

১-পৃথিবী আমাদের কল্পনার চেয়েও অনেক বড়

“যারা নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল এমন লোকেদের প্রাণ হরণের সময় ফেরেশতারা তাদেরকে জিজ্ঞেস করে- ‘তোমরা কোন্ কাজে নিমজ্জিত ছিলে’? তারা বলে, ‘দুনিয়ায় আমরা দুর্বল ক্ষমতাহীন ছিলাম’, ফেরেশতারা বলে, ‘আল্লাহর যমীন কি প্রশস্ত ছিল না যাতে তোমরা হিজরাত করতে’? সুতরাং তাদের আবাসস্থল হবে জাহান্নাম এবং তা কতই না নিকৃষ্ট প্রত্যাবর্তন স্থান!” (৪:৯৭)

যখন আমদের জীবন থমকে যাই তখন এই আয়াতটি আমাদের সামনে আশার আলো নিয়ে উপস্থিত হয়। হয়ত বা সবেমাত্র আপনি চাকরি হারিয়েছেন অথবা কোনও পরীক্ষায় ফেল করেছেন অথবা পারিবারিক কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন অথবা আপনি বুঝতে পেরেছেন যে কয়েক মাস ধরে আপনি যে স্বপ্নের প্রকল্পে কাজ করছেন তা সবেমাত্র ভেঙে পড়েছে। এই সময়গুলিতে আমদের হৃদয় অনেক আহত হয় এবং এসময় আমাদের কিছু অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয়।

ক্যারিয়ার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে আপনি হয়ত ভাবতে লাগলেন যে, আমার পক্ষে কোনো কাজ করা সম্ভব নয়, আমি হয়ত আর কোনো কাজের জন্য ফিট না।

উপরের আয়াতটি এখানেই আপনার সামনে আশার আলো মেলে ধরবে। আপনার জন্য বিস্তৃত দুনিয়া পড়ে আছে; বিস্তৃত কাজের সুযোগ আপনার সামনে আছে। যেকোনো একটা সমস্যায় আপনি কেন ভেঙ্গে পড়বেন। উঠে দাড়ান এবং অন্য কোনো সুযোগের সন্ধান করুন। ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনাকে ধরা দেবেই।

মনে রাখবেন, আল্লাহই আপনার জন্য যথেষ্ট। তিনি আপনার জন্য সর্বদা ভাল ফয়সালা করেন। তাই আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করুন এবং হতাশাকে ঝেড়ে ফেলে অন্য কোনো সুযোগের সন্ধান করুন।

২-ক্ষমা:প্রথমে আপনিই শুরু করুন

“তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যার বিস্তৃতি হচ্ছে আসমান ও যমীনের সমান, যা মুত্তাকীদের জন্য তৈরী করা হয়েছে। যারা সচ্ছল ও অসচ্ছল অবস্থায় আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করে এবং যারা ক্রোধ সংবরণকারী এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল, নিশ্চয় আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন।” (৩:১৩৩-১৩৪)

বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ধরণের মানুষের সাথে লেনদেন করার সময় আমরা হয়ত অনিবার্যভাবেই ব্যক্তিগত মতবিরোধের দিকে চলে যায়। কখনও কখনও এটি হয়ত সাধারণ কিছু। আবার কখনও এটি হয়ত আমাদের জীবনে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে। এতে হয়ত আমরা অনেক বেশি আঘাত পাচ্ছি এবং কোনো সন্দেহ নেই যে, এতে আমরাও অন্যকে কষ্ট দিয়ে ফেলছি।

এই দ্বন্দগুলির কারণে সমাজে অনেকের সাথেই আমাদের রেশারেশি চলে আসছে। এখনই যদি আমরা এগুলির নিরসন না করতে পারি তবে হয়ত ভবিষ্যতে তা আরও বিরূপ আকার ধারণ করবে। আর এ সকল কারণে আমাদের মনও অশান্ত হয়; জীবনে যা বিরূপ প্রভাব ফেলে।

উপরোক্ত আয়াতে এ অবস্থা থেকে উত্তরনের পথ আমাদেরকে আল্লাহ তা’আলা জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন যারা আল্লাহকে ভয় করে সকলকে ক্ষমা করে দেবে; আল্লাহও নিজ দয়া ও অনুগ্রহে তাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন আর তাদেরকে জান্নাতের মাধ্যমে পুরষ্কৃত করবেন।

তাই আর কিসের অপেক্ষা? নিজ জীবনকে সুন্দর করতে সব বাধাকে উপেক্ষা করে আজই সবাইকে ক্ষমা করে দিন।

৩-আমাদের উদ্দেশ্য মনে রাখা

“তোমরা (সত্যকে প্রত্যাখ্যান করে) কোথায় চলেছ? এ তো শুধু বিশ্ববাসীর জন্য উপদেশ মাত্র; তোমাদের মধ্যে যারা সরল পথে চলতে চায় তাদের জন্য। আর বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত তোমরা কোনো ইচ্ছাই করতে পার না।” (৮১:২৬-২৯)

আপনি কোথায় যাচ্ছেন?

আল্লাহর কর্তৃত্ব, ক্ষমতা এবং শক্তির সামনে থেকে সবকিছুই আসহায়।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, আমরা কোথাও আটকা পড়েছি এবং আমাদের নিজের জীবনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই, বরং এটি একটি অনুস্মারক। যখনই আপনি মনে করবেন যে, আপনি কোনো কর্মের মাধ্যমে বিপথগামী হচ্ছেন বা অসহায় বোধ করছেন, তখনই আল্লাহর উপস্থিতিকে আপনার সাথে কল্পনা করুন। এটি আপনাকে যেকোনো কাজে সর্বাধিক অনুপ্রাণিত করবে।