কুরআনে আল্লাহর সর্বজনীন আইন কোনগুলি?

আকীদাহ ১৭ জুন ২০২০ Contributor
কুরআনে আল্লাহ
Fotoğraf: Irina Iriser-Unsplash

আমরা এবার আল্লাহর সর্বজনীন আইন নিয়ে আলোচনা করব। আল্লাহ তা’আলা কয়েকটি বিধি অনুসারে এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি করেছেন। তিনি কুরআনে বলেছেনঃ

… আপনি আল্লাহর বিধানে কোনো পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোনো রকম বিচ্যুতিও পাবেন না।”(আল কুরআন-৩৫:৪৩)

সর্বজনীন আইনগুলি ছয় বা সাত জায়গায় “সুনান” শব্দটি দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে।

কুরআনে শর্তের আইন

যখন আল্লাহ কোনো কারণ এবং কার্যকারিতা বা শর্তযুক্ত বিবৃতি দেন যেমন আরবি ভাষায় বলা হয়ে থাকে যে, ‘এটি না ঘটলে ওটি ঘটবে না’। উদাহরণ স্বরূপঃ

“…প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ কোনো সম্প্রদায়ের অবস্থা পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা করে…” (আল কুরআন-১৩:১১)

…আর পাকড়াও করলাম, গোনাহগারদেরকে নিকৃষ্ট আযাবের মাধ্যমে তাদের না-ফরমানীর দরুন। (আল কুরআন-৭:১৬৫)

সুতরাং কিছু আছে যা মানুষ করে, এবং তারপরে একটি পরিণতি হয়। আল্লাহ বলেন, সর্বদাই এরকম হয়ঃ

“কোন জনপদে সতর্ককারী প্রেরণ করা হলেই তার বিত্তশালী অধিবাসীরা বলতে শুরু করেছে, তোমরা যে বিষয়সহ প্রেরিত হয়েছ, আমরা তা মানি না।” (আল কুরআন-৩৪:৩৪)

আল্লাহ উভয় জগতের জন্যই এই আইনগুলি সুসংগত করেছেনঃ প্রাকৃতিক জগত এবং মানব জগত। এই আইনগুলি সমাজের দিক থেকে কেবল মানুষের ক্ষেত্রেই নয়, একই আইন প্রকৃতির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

কুরআনে সম্প্রদায়ের আইন

আল্লাহ কুরআনে আলোচনা করেছেন, উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রদায়ের আইন। তিনি বলেছেনঃ

“আর যত প্রকার প্রাণী পৃথিবীতে বিচরণশীল রয়েছে এবং যত প্রকার পাখী দু’ ডানাযোগে উড়ে বেড়ায় তারা সবাই তোমাদের মতই একেকটি শ্রেণী। আমি কোন কিছু লিখতে ছাড়িনি। অতঃপর সবাই স্বীয় প্রতিপালকের কাছে সমবেত হবে” (আল কুরআন-৬:৩৮)

সম্প্রদায়ের এই আইন সর্বজনীন আইন; এটি কেবল মানুষের জন্যই নয়, প্রত্যেকের জন্যই।

স্নায়ুবিজ্ঞানের আলোচনায় আপনি দেখতে পাবেন যে, বেশিরভাগ স্নায়ুবিজ্ঞানী মানুষের বাইরে চেতনা বিশ্বাস করেন না। বা যদি তারা প্রাণীদের জন্য চেতনা বিশ্বাস করেন তবে তারা গাছপালার জন্য এটি বিশ্বাস করেন না।

কুরআন আমাদের জানিয়েছে যে, এ সবকিছুই আল্লাহ সম্পর্কে অবহিত; প্রাণী, উদ্ভিদ, পোকামাকড়, সামুদ্রিক জীবন… প্রত্যেকেরই আল্লাহর ইবাদত করার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। তাদের নেতৃত্ব দেওয়ার সাম্প্রদায়িক পদ্ধতি রয়েছে এবং তাদের জীবনযাপনের জন্যও সাম্প্রদায়িক পদ্ধতি রয়েছে।

কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী আদম আ’লাইহিস সালাম থেকে মানবসভ্যতার সূচনা এবং হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম পর্যন্ত সকল নবী বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিকট একত্ববাদের দাওয়াত নিয়ে গিয়েছেন। নূহ আ’লাইহিস সালাম এর সময় প্লাবনের পর থেকে আবার নতুন করে মানবসভ্যতার বিকাশ ঘটেছে।

সুতরাং, অনেকের এই দাবি যে, মানুষ বিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে এই ধারণা মোটেও সঠিক নয়। সঠিক সেটাই যেটি কুরআন আমাদেরকে বলেছে।

কুরআনে আল্লাহ আমাদের যা বলেছেন তা একটি আলাদা দর্শন। উত্তরসূরি হওয়ার দর্শন। আদম আ’লাইহিস সালাম ঐ সকল প্রাণীদের উত্তরসূরি যারা তাঁর আগে পৃথিবীতে বসবাস করত।  আল্লাহ আমাদেরকে জ্বিন সম্পর্কে বলেছেন যারা আদম আলাইহিস সালামের আগে পৃথিবীতে বাস করত।

 বিজয়ের আইন

বিজয়ের জন্যও আইন আছে, যারা যে কোনো মাত্রায় বিজয় চায়ঃ আপনার ধৈর্য্য এবং অধ্যবসায় থাকতে হবে, আপনাকে সেই বিজয়ের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

কেবল যুদ্ধের ময়দানে নয়, আপনাকে সর্বত্রই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সাফল্য এবং বিজয়কে কুরআনে ‘আল ফালাহ’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। বিজয়ের জন্য সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং এটি একটি সর্বজনীন আইন।

কুরআনে দূরদর্শিতার আইন

আল্লাহ যখন দূরদর্শিতার আইন সম্পর্কে কথা বলেছেন, তখন তিনি আমাদেরকে একটি আইন দিয়েছেন যে, আমরা যদি তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ হই, তবে তিনি আমাদেরকে আরও সরবরাহ করবেন। যদি আমরা পৃথিবীর সংস্কার ও সংশোধন করি, তবে তিনি পৃথিবীকে যথাযথ যত্ন ও লালন-পালন করবেন। তবে আমরা যদি পৃথিবীকে কলুষিত করা শুরু করি, তবে পৃথিবীও দুর্নীতির মাধ্যমে প্রতিশোধ নেবে কারণ এটিই সেই দুর্নীতি যার বীজ আমরা বপন করেছি।

সুতরাং, সর্বজনীন আইন কুরআনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং যখন আমরা কুরআন পড়ি, আমাদের উচিত এই শর্তযুক্ত বিবৃতি এবং এই পরিণতিমূলক বিবৃতি এবং এই সত্য যা আল্লাহ আমাদের দিয়েছেন তা উপলব্ধি করা।

আমরা আল্লাহর কাছে আমাদের হেদায়েতের জন্য দু’আ করি।