কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলতে ৪টি পরামর্শ

dreamstime_s_147103261

বর্তমান সময়ে আমরা এতটাই ব্যস্ততার মাঝে হারিয়ে গেছি যে, নিজেকে নিয়ে বসে একাকী একটু ভাবার সময় পর্যন্তও আমাদের হাতে নেই। শুধু তাই নয়, আমাদের পরিবারের সাথে সুন্দরভাবে সময় কাটানোর করার সুযোগও আমাদের হয়ে ওঠে না। বিভিন্ন দরকারী ও অদরকারী কাজের মাঝে আমরা নিজেদেরকে এতটাই ব্যস্ত করে রেখেছি যে, আমাদের জীবনটাই সংকুচিত হয়ে গেছে। নিজেদেরকে ভাবনার সময়ও আমাদের হয় না।

আত্মার খোরাক

আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে ইলেকট্রনিক পণ্যগুলো ব্যবহার করি, যেমন মোবাইল, ল্যাপটপ ইত্যাদির যেমন চার্জের প্রয়োজন হয়; তেমনি একইভাবে আমাদের আত্মারও চার্জের প্রয়োজন হয়। প্রতিনিয়ত আত্নার চার্জ হওয়ার একটা অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ঘুম। কিন্তু ঘুমের মাধ্যমে আসলে একটা নির্দিষ্ট অংশের চার্জ হয়, অথচ আত্মার প্রধান অংশ চার্জ হওয়ার জন্য অন্য খোরাকের প্রয়োজন বাকি থেকে যায়।

ঠিকমত রাতে ঘুম না হলে সকালবেলা আমাদের মাঝে যেমন ঝিমুনি ভাব আসে। আমরা ঠিকমতো যেমনিভাবে আমাদের কাজগুলোকে করতে পারি না। তেমনিভাবে আত্মাও যদি পরিপূর্ণভাবে খোরাক না পায়, তবে আমাদের নেক আমল করার ইচ্ছাও ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং নেক আমলে কষ্ট হবে।

মানুষের আত্মার খোরাক এর জন্য দরকার কুরআন পাকের তেলাওয়াত। কুরআন শুধুমাত্র একটা ধর্মীয় গ্রন্থ নয়, এটা মানবজীবনের সকল সমস্যার সমাধান। এটি সমগ্র মানবতার জন্য একটি জীবনবিধান।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে যে, আমরা শুধুমাত্র আচার-অনুষ্ঠান কিংবা কিছু বিধি-বিধানের উৎস হিসেবে কুরআনকে চিনতে শিখেছি। কিন্তু বেমালুম এটা ভুলে গেছি যে, এটা আমাদের আত্মা ও শরীরের জন্য শান্তির খোরাক। যখন আমরা কুরআন তেলাওয়াত শুনি তখন আমাদের অন্তরে এক অদ্ভুত অনুভূতি বিরাজ করে। এমনকি কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ যখন শেষ হয়, তখন সেই অদ্ভুত ভাললাগাটা আমাদের ভেতরে আরও কিছুক্ষণ স্থায়ী হয়ে কাজ করতে থাকে। সুতরাং, অসুস্থ অন্তর ও আত্মার চিকিৎসার একমাত্র উপায় হলো বেশি বেশি কুরআন পাকের তেলাওয়াত করা ও তেলাওয়াত শ্রবণ করা।

যেভাবে কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলবেন

কখনও কি নিজেকে প্রশ্ন করেছেন যে, আমি কি রোজ অন্তত কুরআনের অর্ধ পারা তেলাওয়াত করতে পারছি কিনা? যদি না পেরে থাকেন তাহলে কি উচিত নয় নিজেকে রোজ আল্লাহর কালাম তেলাওয়াতের জন্য প্রস্তুত করে তোলা?

এখানে কিছু উপায় উল্লেখ করা হল যেগুলি আপনাকে কুরআন তেলাওয়াতে অভ্যস্ত হয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

প্রথম উপায়

প্রত্যেকদিন অল্প করে হলেও কুরআন তেলাওয়াতের অভ্যাস গড়ে তুলুন। যদি নূন্যতম এক পৃষ্ঠা পড়ারও সময় বা সুযোগ না পান, তবুও অন্তত পক্ষে একটি লাইনই পড়ুন। হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন, একটি লাইন।

দ্বিতীয় উপায়

মন থেকে অন্য সমস্ত চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে শুধুমাত্র কুরআনের শব্দ গুলোর দিকে মনোযোগ নিবন্ধন করুন। প্রতিটি শব্দ পরিষ্কারভাবে উচ্চস্বরে তেলাওয়াত করুন এবঞ্জগসেদিকেই মনোযোগ নিবদ্ধ রাখুন।

তৃতীয় উপায় 

তিলাওয়াতের সাথে সাথে প্রতিটি লাইনের অর্থ যত্নসহকারে ধীরে ধীরে বুঝে বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। 

চতুর্থ উপায় 

কোনদিনও তেলাওয়াত মিস দিবেন না। ব্যাস এতটুকুই। শুধু এই চারটি কাজই আপনাকে কুরআনের প্রতি আকৃষ্ট করতে সক্ষম।

কখন কুরআন তেলাওয়াত করবেন

আপনি দিনের যেকোনো সময় কুরআন তেলাওয়াত করতে পারেন। একবার, দুবার অথবা একাধিকবার। কিন্তু মনে রাখবেন, যত গুড় তত মিষ্টতা অর্থাৎ যত বেশি তেলাওয়াত করবেন ততবেশি আপনারই উপকার হবে।

আল্লাহ বলেন, “সূর্য ঢলে পড়ার সময় থেকে রাত্রির অন্ধকার হওয়া পর্যন্ত সালাত কায়েম করুন এবং ফজরের সালাতে কুরআন পাঠের নীতি অবলম্বন করুন, নিশ্চয় ফজরের সালাতের কুরআন পাঠ (ফেরেশতাগণের) সরাসরি সাক্ষ্য হয়।” (আল কুরআন-১৭:৭৮)

আপনি যদি এই কাজগুলি শুরু করেন তবে এর ফলাফলে আপনি অবশ্যই বিস্মিত হবেন। আপনি দেখবেন অন্তর থেকে আপনি অনেক হালকা এবং সুখ অনুভব করছেন। এভাবে যদি আপনি প্রতিদিন অল্প হলেও কুরআন তেলাওয়াত জারি রাখেন, তাহলে তা আপনার শারীরিক সুস্থতারও কারণ হবে। কারণ যখন আপনার অন্তর এবং আপনার শরীর শান্তি পায়; তখন আপনার স্বাস্থ্যও ধীরে ধীরে উন্নত হতে থাকে। যদি আপনার রাতে ঘুমাতে সমস্যা হয় অথবা মনে হয় যে রাতে আপনার ঘুম টা ভাল হচ্ছেনা, তাহলে প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে অজু করুন, কুরআন খুলুন এবং তেলাওয়াত করতে থাকুন। এরপর বিছানায় যান। ইনশাআল্লাহ সকালে আপনি তরতাজা মন নিয়ে উঠবেন এবং সারাদিন প্রশান্তি অনুভব করবেন।

আল্লাহপাক আমাদেরকে আমল করার তৌফিক দান করুন। আমীন।