SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কী কী ঘরোয়া উপায় অবলম্বন জরুরি?

শারীরিক স্বাস্থ্য ৩১ জানু. ২০২১
মতামত
কৃমির সমস্যা
© Tanyalev1978 | Dreamstime.com

কৃমির সমস্যা বাচ্চাদের ছোটবেলায় খুব সাধারণ একটি বিষয়। আপনার বাচ্চা যদি ঘনঘন মলদ্বারের স্থানে চুলকোয়, তার যদি বমি বা পেট ব্যথা করে, তাহলে বুঝবেন যে তার কৃমি হয়েছে। সাধারণত বাচ্চাদের যে ছোট সাদা কৃমি হয়, সেগুলি কুচোকৃমি নামেই পরিচিত। এইধরনের কৃমি মানুষের অন্ত্রে বাস করে। তবে বেশিরভাগ সময় বাচ্চারা এই পরজীবী কৃমির শিকার হলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আজকে আমরা কৃমি থেকে মুক্তি পাওয়ার ঘরোয়া উপায় নিয়ে আলোচনা করব।

কীভাবে এই কৃমির সমস্যা হয়?

এই কৃমির ডিম খুব ছোট হয়, খালি চোখে দেখা যায় না। ফলে খাবার, পানীয়, খাবারের থালা-বাসন ইত্যাদির মাধ্যমে অসাবধানে কৃমির ডিম আমাদের পেটে চলে যেতে পারে। সাধারণত বাচ্চারা যেখানে-সেখানে হাত দিয়ে সেই হাত আবার মুখে দিয়ে দেয়, তাদের হাইজিনের বোধও তৈরি হয় না। ফলে বাচ্চাদের সংক্রমণের সম্ভাবনা বেশি থাকে। কৃমির ডিম পেটে যাওয়ার পর অনুকূল পরিবেশে খুব দ্রুত এরা বংশবিস্তার করে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির পায়ুদ্বারের কাছে ঘোরাফেরা করে। কৃমির সমস্যা মোকাবিলায় ডাক্তাররা সাধারণত ওষুধ খেতে বলেন। কিন্তু আপনারা ঘরোয়া কিছু উপায়ের মাধ্যমেও কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

রসুন

রসুনের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ফাঙ্গাল গুণ রয়েছে। এছাড়া রসুন ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী। ফলে কৃমি থেকে মুক্তি পেতে রসুনকে প্রথমের সারিতে রাখা যায়। মনে করা হয় রসুন অন্ত্রে থাকা কৃমির ডিম ধ্বংস করে এবং স্ত্রী কৃমিকে ডিম পাড়া থেকে প্রতিহত করে। কৃমির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে কাঁচা রসুন চিবিয়ে খেতে পারেন। তবে অনেকেই কাঁচা রসুনের তীব্র গন্ধ এবং ঝাঁজ সহ্য করতে পারেন না। তাঁরা রান্নাতেও রসুন দিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া রাতের বেলা শোওয়ার আগে ভেসলিন জাতীয় পেট্রোলিয়াম জেলির সঙ্গে মিহি করে কুচোনো রসুন মিশিয়ে পায়ুদ্বারের কাছে লাগালেও উপকার পাবেন। তবে কাটাছেঁড়ার জায়গায় রসুন না লাগানোই ভাল।

গাজর

গাজরে থাকে ফাইবার। ফাইবার আমাদের পরিপাকে সহায়তা করে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। যার ফলে মলত্যাগের সময় অন্ত্র থেকে কৃমি সহজেই বেরিয়ে যায়। এক্ষেত্রে সাধারণত কাঁচা গাজর গ্রেট করে দিনে এককাপ করে বার দুয়েক খেতে বলা হয়। তবে কাঁচা গাজর খাওয়ার আগে ভাল করে ধুয়ে না নিলে কিন্তু হিতে বিপরীত হতে পারে।

নারকেল তেল

নারকেল তেল খুব সহজলভ্য উপাদান। নারকেল তেলের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিফাঙ্গাল গুণ সহজেই কৃমির মতো ক্ষতিকর পরজীবীকে শরীর থেকে বের করে দেয়। আপনার বা আপনার সন্তানের কৃমির সমস্যা থাকলে সকালে উঠে নিয়ম করে একচামচ নারকেল তেল খেয়ে নিন। এছাড়া প্রতি রাতে শোওয়ার আগে অল্প নারকেল তেল পায়ুদ্বারে লাগিয়ে রাখলে দ্রুত ইনফেকশন থেকে মুক্তি পাবেন।

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার বা পাতিলেবুর রস

অ্যাপল সাইডার ভিনিগার এবং পাতিলেবুর রস, দু’টি উপাদানের মধ্যেই থাকে প্রাকৃতিক অ্যাসিড। অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের মধ্যে ৬% অ্যাসেটিক অ্যাসিড এবং পাতিলেবুর মধ্যেও থাকে অ্যাসিড যা শরীরে পিএইচ-এর মাত্রাকে কমায়। ফলে শরীরের মধ্যে আম্লিক পরিবেশ তৈরি হয়, যাতে কৃমি বেঁচে থাকতে পারে না। তবে এই নিয়ে আরও গবেষণার অবকাশ রয়েছে। দু’চামচ অ্যাপল সাইডার ভিনিগার একগ্লাস পানিতে মিশিয়ে নিন, প্রয়োজনে মধু যোগ করুন। এভাবে পানিতে দিয়ে পাতিলেবুও খেতে পারেন। এর যে-কোনও একটি রোজ সকালে উঠে খেলে কৃমি থেকে দ্রুত মুক্তি পাবেন।

কুমড়ার বীজ, উচ্ছে

কুমড়ার বীজের মধ্যে থাকে কিউকারবিটাসিন। এটি অন্ত্রে বংশবৃদ্ধিকারী কৃমিদের প্যারালাইজ করে দিয়ে তাদের ধ্বংস করে। কুমড়ার কাঁচা বীজ নিয়ে হাফ কাপ বা এককাপ পানিতে দিয়ে ভাল করে ব্লেন্ড করে নিয়ে সেই পেস্টটি খালিপেটে খেলে দ্রুত সমস্যার সমাধান মিলবে। তবে এই ঘরোয়া টোটকাটি কিন্তু নিয়ম করে খাওয়া চাই। একইভাবে উচ্ছেতে থাকা কিউকারবিটাসিনও কৃমি তাড়াতে সাহায্য করে থাকে।

এসেনশিয়াল অয়েল

টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল, ক্লোভ বা লবঙ্গের এসেনশিয়াল অয়েল কৃমি ধ্বংস করে। এদের অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট পরজীবী কৃমি থেকে দ্রুত মুক্তি দেয়। ১-২ ফোঁটা টি ট্রি এসেনশিয়াল অয়েল বা ক্লোভ এসেনশিয়াল অয়েল একচামচ নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে সরাসরি পায়ুদ্বারে লাগাতে পারেন। তবে যাদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের এই মিশ্রণটি না লাগানোই ভাল।

পরিষ্কার থাকুন

যেহেতু কৃমি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বংশবিস্তার করে, ফলে বাড়ি, খাবার বাসন পরিষ্কার রাখা কিন্তু জরুরি। গরম পানিতে সাবান দিয়ে ঘরদোর ভাল করে পরিষ্কার করে নিন। খাবার আগে বাসন ভাল করে ধুয়ে তবেই খাবেন। খাবার আগে হাত ধুয়ে নেওয়া অভ্যেস করুন। নখ খাওয়ার অভ্যেস থাকলে সেটি এবার ত্যাগ করার চেষ্টা করুন। আর বাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকলে তার দিকে নজর দিন। সে যেখানে-সেখানে হাত দিয়ে মুখে হাত দিচ্ছে কিনা, বা নখ খাচ্ছে কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

উপরে বলা সবক’টি উপায়ই কৃমি তাড়াতে কাজে দিতে পারে। তবে নিয়ম করে এগুলি মেনে না চললে উপকার পাবেন না। ঘরোয়া টোটকায় সাধারণত উপকার পেতে একটু দেরি হয়। যদি মনে হয় আপনার দ্রুত সমস্যার সমাধান প্রয়োজন বা ঘরোয়া টোটকাগুলি ব্যবহার করেও সেরকম কোনও ফলাফল পাচ্ছেন না, তাহলে ডাক্তার দেখিয়ে নিন।