কেন আজকের যুবসম্প্রদায়ের কাছেও আদর্শ মহানবী (সাঃ)?

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:)। আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি সময়ে তাঁর আদর্শ অনুকরণীয় অনুসরণীয়। তিনি যেমন ছিলেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ, তেমনি ছিলেন একজন পরিপূর্ণ আদর্শ যুবক। একজন যুবকের ভেতরে এই পৃথিবীতে যতটুকু ভালো গুণ থাকা সম্ভব তার ভেতরের তাই ছিল। ফরাসি লেখক আলফ্রেড তাঁর তুর্কির ইতিহাসের প্রথম খণ্ডে লিখেছেন, ‘দার্শনিক, বক্তা, ধর্ম-প্রচারক, যোদ্ধা, আইন-রচয়িতা, ধর্মমতের ও প্রতিমাবিহীন ধর্ম-পদ্ধতির সংস্থাপক মুহাম্মদ সা:-কে মানুষের মহত্বের যতগুলো মাপকাঠি আছে তা দিয়ে মাপলে, কোনো লোক তাঁর চেয়ে মহৎ হতে পারবে না।’

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) পিতৃহীন অবস্থায় আরবের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্মগ্রহণ করেন। একা, দরিদ্র অবস্থায় অকৃত্রিম পরিবেশে লালিত-পালিত হয়ে বেড়ে ওঠেন। নানামুখী পরিবেশের ভেতর দিয়ে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত হতে থাকেন। সব শেষ হওয়ার আগেই মায়ের স্নেহ ছায়া থেকে বঞ্চিত হন। এরপর দাদা ছায়া তলে থাকলেও তা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। অবশেষে চাচা হন তার আশ্রয় স্থল।

সাধারণত যুবক বয়সে মানুষ সবচেয়ে বেশি বিপথগামী হয়ে থাকে। কিন্তু এই সময়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) গরীব ও নিপীড়িত মানুষের সাহায্য এবং তাদেরকে অত্যাচার জুলুম থেকে রক্ষার লক্ষ্যে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে একটা সংস্কারকামী সংগঠন গড়ে তুলেন। নবুয়ত লাভের পর রাসূল সা: ওই সংগঠনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলতেন, ‘ওই অঙ্গীকারের পরিবর্তে কেউ যদি আমাকে লাল রঙের উটও দিত, তবু আমি তা থেকে ফিরে আসতাম না। আজো কেউ যদি আমাকে তেমন কোনো চুক্তি সম্পাদন করতে ডাকে, তবে আমি সে জন্য প্রস্তুত।’

তিনি চাইলে তার জীবন সঙ্গী হিসেবে মক্কার সুন্দরী মেয়েদের বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি সুন্দরী মেয়েদের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করে হযরত খাদিজা (রা:) বিয়ে করেন। খাদিজা রা: ছিলেন সম্ভ্রান্ত পরিবারের একজন সতী-সাধ্বী ও সচ্চরিত্র মহিলা। বিয়ের জন্য এমন পাত্রী নির্বাচন তাঁর মানসিকতা ও স্বভাব চরিত্রের গভীরতাকেই ফুটিয়ে তোলে। যা আজকের তরুণদের কাছে এক দৃষ্টান্ত।

তরুণরা সাধারণত সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় তার বন্ধু-বান্ধব। এবং একজন তরুণের ব্যক্তিত্ব বোঝার অন্যতম উপায় হচ্ছে তার বন্ধুবান্ধব। হযরত আবু বকর এর সাথে তাঁর ছিল গভীর বন্ধুত্ব। তিনি ছিলেন তার সমবয়সী। তার আরেক বন্ধু ছিল হযরত খাদিজার চাচাতো ভাই হাকিম বিন হিজাম। হারাম শরীফের একজন খাদেম ছিলেন তিনি। তার একজন চিকিৎসক বন্ধু ছিল। যার নাম দিমাদ বিন সালাবা আযদি। সুতরাং আমরা দেখতে পাই যে তার বন্ধুমহলে জুলুমবাজ, পাপাচার, অন্যায় কারী কোন বন্ধু ছিল না।

যুবক বয়সে অর্থ উপার্জনের জন্য তিনি পবিত্র ও সম্মানজনক ব্যবসা পেশাকে বেছে নিলেন। তার সততা দেখে ওই সময়ের বড় বড় পুঁজিপতিরা তাদের ব্যবসা পরিচালনার জন্য তাকে মনোনীত করেন। যা একজন যুবকের জন্য ছিল সর্বোচ্চ সম্মানের। হজরত খাদিজা এবং আরো কয়েক ব্যক্তি একে একে তাঁর অনুপম সততার বাস্তব অভিজ্ঞতা লাভ করে এবং তারা সবাই তাঁকে একবাক্যে ‘তাজের আমিন’ বা ‘সৎ ব্যবসায়ী’ উপাধিতে ভূষিত করে।

যুবক মুহাম্মদ যখন ব্যস্ততা থেকে একটু মুগ্ধ হতেন, তখন আমোদ-ফুর্তি বিনোদনের মাধ্যমে সময় কাটাতেন না। তিনি সময় পেলে এসব কিছু পরিহার করে চেতনা ও বিবেকের নির্দেশক্রমে হেরা গুহায় একাকী আল্লাহর ইবাদত করে সময় কাটাতেন। যা বর্তমান তরুণ সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়। কারন আমরা বর্তমানে দেখেছি তরুণরা বিপথে চলে যাচ্ছে। তার অন্যতম একটি প্রধান কারণ হচ্ছে তারা সময় অপচয় করছে এমন বিষয় যা তাদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কিন্তু আমরা যদি নবীজির জীবনের দিকে তাকাই তাহলে দেখতে পাই তিনি ইহকালীন আমোদ ফুর্তির বদলে স্রষ্টার ইবাদত কেই বেছে নিয়েছেন।

মহান রাব্বুল আলামীন আমাদের যুব সমাজকে নবীজির জীবনের আদর্শ গুলোকে ধারণ করার তৌফিক দান করুন।