কেন ইফতারিতে খেজুর আবশ্যক জানেন?

dates

পবিত্র রমজান মাসের রোজাকে মহান আল্লাহ তা’য়ালা মুসলমানদের জন্য ফরজ করে দিয়েছেন। তাই রোজা রাখার ব্যাপারে কোন শ্রেণী-পেশা, ধনী-গরীব, কালো-সাদা ও পুরুষ-মহিলা নির্দিষ্ট নেই। মুসলমান তো সকলকে অবশ্যই রোজা পালন করতে হবে। যেহেতু সবাই রোজাদার। সারাদিন না খাওয়ার কারণে সাধারণত মানব দেহ একটু দূর্বল ভাবতো লাগবেই। অর্থাৎ শরীরে গ্লুকোজের  পরিমাণ কমে গিয়ে এর প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই ইফতারের সময় খেজুর খেলে কমে যাওয়া গ্লুকোজের পরিমান দ্রুত পূরণে সাহায্য করে।

রাসূল (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতারি করতেন। খেজুর দিয়ে ইফতারি করা মুস্তাহাব। এ বিষয়ে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- খেজুর দ্বারা ইফতার করা মুস্তাহাব। তারপর কোনো মিষ্টি জিনিস দ্বারা। তারপর পানি দ্বারা। (আবু দাউদ : হাদিস ২৩৫৫) আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতের পূর্বে তাজা খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি তাজা খেজুর না পাওয়া যেত তবে শুকনো খেজুর দ্বারা ইফতার করতেন। যদি শুকনো খেজুর না পাওয়া যেত তাহলে কয়েক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করতেন। (আহমদ)

রাসূল সা: ইফতারিতে শুধু খেজুর ও পানির কথা বললেন কেন? এ বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা খতিয়ে দেখেছেন। প্রমাণিত হয়েছে, খেজুর শক্তিতে ভরপুর ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ। খেজুর একটি নন্দিত ফল। বিশ্বের বেশির ভাগ দেশেই এ ফলটি পুষ্টিকর হিসেবে বেশ সমাদৃত। মহান আল্লাহ সূরা আন নাহলের ৬৭ নম্বর আয়াতে খেজুর ও আঙ্গুরের কথা উল্লেখ করেছেন। ‘খেজুর বৃক্ষ ও আঙুর ফল থেকে তোমরা উত্তম খাদ্য গ্রহণ করে থাকো, নিঃসন্দেহে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য এতে নিদর্শন রয়েছে। মক্কা ভূখণ্ডে আজওয়া নামক এক বিশেষ খেজুর সম্পর্কে মহানবী সা: বলেছেন, ‘আজওয়া জান্নাতের ফল। এর মধ্যে বিষের নিরাময় রয়েছে’ (তিরমিজি)। রাসূল সা:-এর প্রিয় সাহাবি সাআদ ইবনে আবু ওয়াক্কাস রা: বর্ণনা করেন- রাসূলে পাক সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি প্রতিদিন সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন বিষ ও জাদু তার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

খেজুর পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং প্রাকৃতিক আঁশে পূর্ণ। তাই পেটের ভেতরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্যান্সারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কওে খেজুর। আর যাঁরা নিয়মিত খেজুর খান তাদের ক্যান্সারের ঝুঁকিটাও কম থাকে। খালি পেটে খেজুর খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর হয়। খেজুর মুখের লালাকে ভালোভাবে খাবারের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করে। ফলে মানুষের বদহজম দূর হয়। খেজুর উচ্চমাত্রার শর্করা, ক্যালরি ও ফ্যাট সম্পন্ন কণ্ঠনালির ব্যথা বা ঠান্ডাজনিত সমস্যা, শ্বাসকষ্ট প্রতিরোধে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে। এছাড়া সারাদিন রোজা রাখার পর ক্লান্ত শরীরে যথেষ্ট পরিমাণ শক্তির যোগান দেয় এ খেজুর।

খেজুরের ম্যাগনেসিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এতে থাকা পটাসিয়ামের কারণে হার্ট ভালো তাকে। খেজুর স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে পারে। আমেরিকান জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, খেজুরে থাকা ম্যাগনেসিয়ামের কারণে স্ট্রোক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি ৯ শতাংশ কমে।