কেন ঋণদানে উদারতা দেখাবেন?

Des Amis musulmans réunis se saluent contents
© Rawpixelimages | Dreamstime.com

কর্জ একটি আরবী শব্দ যার বাংলা অর্থ হল ঋণ। আমাদের সাধারণ প্রতিদিনের জীবনে কর্জের ভূমিকা অনস্বীকার্য।

কর্জ ২ ধরনেরঃ

১। সুদযুক্ত

২। সুদমুক্ত

সুদ বিহীন ঋণ ইসলাম সমর্থন করে। পবিত্র কোরআনের ভাষায় যাকে বলা হয়ে থাকে কর্জে হাসানা। ইসলামের অনন্য বৈশিষ্ট্য গুলোর মধ্যে আত্মত্যাগ, পারস্পরিক সহযোগিত, মমতা ভালোবাসা যেমন রয়েছে ঠিক তেমনি মানব চরিত্রের একটি অত্যন্ত উত্তম গুন হচ্ছে দানশীলতা। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআন শরীফে মহান আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ “ তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহকে ‘কর্জে হাসানা’ (অর্থাৎ উত্তম ঋণ) দেবে? আল্লাহ বহুগুণ প্রবৃদ্ধিসহ তা ফেরত দেবেন। আল্লাহই মানুষের রিজিক বা জীবনোপকরণ কমান এবং বাড়ান। তোমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে। “ (সূরা বাকারা, আয়াত ২৪৫)। এই সূরাটিতে আল্লাহকে ঋণদানের যে শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে তা রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ আল্লাহ সম্পূর্ণ অভাবমুক্ত, তিনি কখনো কারো মুখাপেক্ষী নয়।

আল্লাহর বান্দা অভাব পূরণের জন্য ঋণ দেয়া হলো কর্জে হাসানা। হযরত রাসূল (সঃ) বলেছেন, কোন মুসলমান অপর মুসলমানকে একবার ঋণ দিলে এ ঋণ দান আল্লাহর পথে দু’বার সদকা করার সমতুল্য ফজিলত। অপর এক হাদিসে হযরত রাসূল (সা.) বলেছেন, মানুষের মধ্যে উত্তম হলো সে ব্যক্তি, যে মানুষের কল্যাণ করে এবং মানুষের কল্যাণের জন্য চিন্তা ভাবনা করে। কারণ মানব কল্যাণ, মানব সেবা করা মুসলমানের সর্বোৎকৃষ্ট গুণ।

সুদ সম্পর্কিত সকল প্রকার লেনদেন, এবং এই লেনদেনের সাক্ষী হওয়া ইসলামে পরিপূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। ইসলাম সব সময় হালাল রুজির পক্ষে। হালাল রুজি ইবাদত কবুল হওয়ার একটি পূর্বশর্ত। ইবনে মাজাহ শরীফে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, মেরাজের রাত্রে আমি এমন একদল লোকের নিকট গমন করলাম, যাদের উদর একটি গৃহের ন্যায় বৃহৎ। আর তার মধ্যে বহু সংখ্যক সাপ বিদ্যমান যা বের হতে দেখা যায়। আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম, এরা কোন শ্রেণীর লোক? তিনি বললেন, এরা সুদখোর।

কারণ কারো যদি আল্লাহর প্রতি পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকে তবে সে নিজেকে সুদের সাথে কখনোই সম্পৃক্ত করবে না। সুদ হচ্ছে একটি জঘন্যতম অপরাধ। বুখারী শরীফে হযরত আবু বুরদা ইবনে মুসা (রা.) হতে বর্ণিত হযরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, হে আবু বুরদা! তুমি ব্যাপক সুদের এলাকায় বসবাস কর। অতত্রব, কারো কাছে যদি তোমার কোনরূপ প্রাপ্য থাকে, আর সে যদি তোমাকে এক বোঝা খড়-কাঠ, এক গাঠুরী যব বা এক বোঝা ঘাসও হাদিয়া স্বরূপ দান করে তুমি তা গ্রহণ করবে না। কেন না তা সুদরূপে গণ্য হবে।

একজন মুসলমানের সুখে-দুঃখে অর্থাৎ যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে দাঁড়ানোই হচ্ছে একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ। মুসলিম শরীফে হযরত আবু ইউসার (রা.) হতে বর্ণিত হযরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে অসমর্থ ঋণীকে সময় দান করবে কিংবা তার ঋণ মাফ করে দেবে, মহান আল্লাহ হাশরের মাঠে তাকে রহমতের ছায়া দান করবেন। বুখারী শরীফে হযরত আবু হোরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে হযরত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি ঋণ পরিশোধ করার নিয়ত রেখে অপরের মাল ঋণ হিসেবে গ্রহণ করে, আল্লাহপাক তাকে সাহায্য করেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ঋণদাতার মাল নষ্ট এবং আত্মসাৎ করার নিয়তে ঋণ গ্রহণ করে, আল্লাহপাক তাকে ধ্বংস করেন। মুসলিম শরীফে হযরত হুজায়ফা (রা.) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, পূর্ববর্তী যুগের এক ব্যক্তির ইন্তেকালের সময় ফিরিশতারা তার রূহ কবজ করতে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার জীবদ্দশায় কোন নেক আমল করেছ কী? প্রত্যুত্তরে সে বলল, না। ফিরিশতারা পুনরায় বললেন, স্মরণ করে দেখ তো! সে বলল, আমি মানুষকে ঋণ প্রদান করে গোলামদের নির্দেশ দিতাম তারা যেন দরিদ্র লোকদের অবকাশ দেয় এবং ধনীদের সাথে ভালো ব্যবহার করে। সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহ তায়ালা ফিরিশতাদের বললেন, তোমরাও তার সাথে সদাচরণ কর।

পরিশেষে আমরা এটা বলতে পারি যে,ইসলাম যে কাজকে হারাম করেছে বা অনুমোদন দেয়নি এসব কাজ থেকে আমাদের দূরে থাকতে হবে। যে কারো অর্থনৈতিক, মানসিক, শারীরিক বা যেকোনো প্রয়োজনে তার পাশে গিয়ে দাঁড়াতে হবে। সুদ থেকে দূরে থাকতে হবে। হালাল উপার্জনের জন্য নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। নিজের পছন্দমত বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে সুদকে হালাল করা থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকলকে হালাল পথে চলার তৌফিক দান করুক।