কেন খাবেন ভূমধ্যসাগরের ভেষজ উদ্ভিদ পার্সলে?

parsley
ID 148553580 © Fromourlittlebubble | Dreamstime.com

“আল্লাহ তায়ালা, যা কিছু রয়েছে তিনিই সৃষ্টি করেছেন, কিছু সৃষ্টি করেছেন তোমাকে ছায়া দিতে, করেছেন তোমার আশ্রয়ের ব্যবস্থা, তোমাকে উত্তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য দিয়েছেন পোশাক এবং রক্ষা করে চলেছেন পারস্পরিক সহিংসতা থেকে। এভাবে তিনি তোমাদেরকে তাঁর অনুগ্রহ দিয়ে পূর্ণ করেছেন, যাতে তোমরা তাঁর ইচ্ছার (ইসলামের) সামনে অবনত হও । ”(সুরত আন-নাহল ১৬:৮১)

আল্লাহ তাআলা গাছ এবং এর ফুল ফল সৃষ্টি করেছেন আমাদের আশ্রয় ও রোগ বালাই থেকে নিরাময়ের জন্য।

তিনি পবিত্র কুরআনে বলেন, “হে পুরুষগণ! এই পৃথিবীতে যা কিছু আছে তা থেকে হালাল ও উত্তম জিনিস খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করো এবং শয়তানের অনুগামী হইয়ো না,; নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। ‘ (সুরত আল বাকারা ২: ১৬৮8)।

পার্সলে হল তেমনি একটি হালাল ও উত্তম খাবার যা সহজেই পাওয়া যায় এবং ব্যবহার করা যায়। পৃথিবীর সব জায়গাতেই আপনি এটা পাবেন। অন্যদিকে, এটা চাষ করা অনেক সহজ আর যেকোনো আবহাওয়াতে এটি ফলানো সম্ভব। সাধারণত, বছরে দু’বার এটি চাষ করা হয়ে থাকে। ভারতীয় উপমহাদেশে সাধারণত আগস্ট থেকে অক্টোবর পার্সলে চাষ হয়। মূলত, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল, আলজিরিয়া, তিউনিশিয়া, ইতালী, গ্রীসের মতো দেশে পার্সলে পাতার চাষ বেশি লক্ষণীয়। পশ্চিমা দেশগুলোতে খাবারকে লোভনীয় ভাবে সাজিয়ে তুলতে পার্সলে ব্যবহার করা হয়।

মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা বহু আগেই আবিষ্কার করেছিল যে পার্সলের বেশ কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে। তাই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পার্সলে ঔষধি হিসেবে ব্যাপক প্রচলিত।

এই পাতা পাতা মূলত সার্ডাইগেন গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এটি গ্রীক শব্দ পেট্রোসোলিনন বা পেট্রোসেলিম সাতিভুম নামেও পরিচিত, যার অর্থ “পাথর পাতা”। এখন পর্যন্ত পার্সলের চল্লিশটি প্রজাতি পাওয়া গিয়েছে কিন্তু ঘরের রান্নাবান্নার কাজে সাধারণত কার্লড-পাতা এবং প্লেইন-পাতা (বা ইতালিয়ান) পার্সলি এই দুটি প্রজাতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ১৯৭৮ সালে নতুন এক ধরনের পার্সলে সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল যাকে বলা হতো সামুদ্রিক পার্সলে। এটা দেখতে অনেকটা লাল সামুদ্রিক শৈবাল এর মত। বিজ্ঞানীরা গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন যে এতে প্রায় প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এবং অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে।

হিপোক্রেটিস বলেছিলেন, “আপনার ডায়েটটি আপনার ওষুধ হোক।” বিশ্বজুড়ে ভেষজবিদরা পার্সলেকে ঔষধি খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পরামর্শ দিয়ে থাকেন, কেননা এটি আমাদেরকে জীবনীশক্তি দিয়ে উজ্জীবিত । “লিভিং ফর হেলথ (ম্যাককিথ, পি .২১)” গ্রন্থে ডঃ গিলিয়ান ম্যাককিথ লিখেছেন, “প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহের পাশাপাশি এটি আমাদের শরীরের অঙ্গগুলির শক্তিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে এবং এদের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। ”

পার্সলের পুষ্টিগুণ

মার্কিন কৃষি দফতরের (ইউএসডিএ) পরিসংখ্যান অনুসারে, এক কাপ পার্সলেতে একটি বড় গাজরের চেয়ে বেশি বিটা ক্যারোটিন, কমলার চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ ভিটামিন সি, এক কাপ দুধের চেয়ে বেশি ক্যালসিয়াম এবং যকৃতে যে পরিমাণ আয়রন পাওয়া যায় তার চেয়ে যে ২০ গুণ বেশি আয়রন এটিতে থাকে।

চলুন জেনে নেয়া যাক, পার্সলেতে থাকা খাদ্য উপাদান গুলোর উপকারিতা সম্পর্কে। এ প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য নিচে দেওয়া হলঃ

১। ভিটামিন এ বা বিটা ক্যারোটিন: এটি রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

২। ভিটামিন সি: শরীরের দূষিত পদার্থ বের করে দিতে এবং নিউরোট্রান্সমিটার সংশ্লেষণে সহায়তা করে।

৩। আয়রন: হিমোগ্লোবিন উত্পাদন করে এবং শরীরে শক্তির যোগান দেয়।

৪। ভিটামিন ই: এটি একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরের কোষকে বার্ধক্য থেকে রক্ষা করে।

৫। ভিটামিন কে: রক্ত জমাট বাঁধা এবং লিভারের প্রোটিন সংশ্লেষ করতে ব্যবহৃত হয়।

৬। ম্যাঙ্গানিজ: শরীরকে ভিটামিন সি শোষণ করতে সহায়তা করে, যৌন হরমোন বৃদ্ধি এবং মায়ের দুধ উত্পাদন করে।

৭। ক্যালসিয়াম: হাড় এবং দাঁতকে মজবুত করে।

আবার, পার্সলে কিডনি, যকৃত এবং মূত্রাশয়েরের জন্য একটি পরিষ্কারক এজেন্ট হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি মহিলাদের ঋতুস্রাব এবং মেনোপজ এর জটিলতা দূর করতে ভূমিকা রাখে।

পরিশেষে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একটি হাদিস দিয়ে আজকের আলোচনা শেষ করতে চাই। তিনি বলেছেন, “আল্লাহ এমন কোন রোগ সৃষ্টি করেন নি, যার চিকিৎসা তিনি দেননি।” তাই এটি সহজে অনুমেয় যে, পার্সলে আমাদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত দরকারী।

 

 

তথ্যসূত্র

AllHealth.com।

AnyVitamins.com।

Aprifel.com

জর্জ, জো। “চিন্তার জন্য খাদ্য: গার্নিশের চেয়ে পার্সলি বেশি উপকারী” “। আগস্ট ৪, ২০০০।

পবিত্র কুরআন. ইউসুফ আলী অনুবাদ করেছেন।