কেন হবেন ইলমের বাতিঘর?

dreamstime_xs_178786475
Ibadah Ramadan yang pelbagai © Yunusmalik | Dreamstime.com

মনে করুন আপনি কোনো অন্ধকার পথে হাটছেন; কিন্তু আপনার কাছে আলো নেই। তাহলে আপনার অবস্থাটা কেমন হবে? কতটা বিপদের সম্ভাবনা আপনার সামনে থাকবে। এই একই অবস্থা ইলমশূন্য কোনো ব্যক্তির।

কারণ, ইলম হল মানুষের জীবন চলার পথের আলো। আর মূর্খতা হল অন্ধকার। আলো ছাড়া অন্ধকারে যেমন কেউ পথ চলতে পারে না, তেমনি ইলম ছাড়াও প্রকৃত মানুষ হিসেবে জীবনযাপন করা যায় না; জীবনের উদ্দেশ্যই অনুধাবন করা যায় না।

ঈমানদার ব্যক্তি জ্ঞানী হবে-এটাই ঈমানের দাবি। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াতে জ্ঞানার্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদীসের বিশুদ্ধ যত কিতাব রয়েছে তার সবগুলোতে কিতাবুল ইলম্ বা জ্ঞানার্জন বিষয়ক অধ্যায় রয়েছে।

ইসলামী আইন শাস্ত্রের যত গ্রন্থ রয়েছে তার সবগুলোতে জ্ঞানার্জন বিষয়ক অধ্যায় কিতাবের অগ্রভাগে সন্নিবেশিত হয়েছে। পবিত্র কুরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘‘পাঠ করুন আপনার প্রভুর নামে যিনি সৃষ্টি করেছেন” (আল কুরআন-৯৬:১)

জ্ঞানী ব্যক্তিদের প্রশংসায় আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেন, “আর এসব দৃষ্টান্ত আমি মানুষের জন্য পেশ করি; আর জ্ঞানী লোকেরা ছাড়া কেউ তা বুঝে না।” (আল কুরআন-২৯:৪৩)

মহান আল্লাহ আরও এরশাদ করেন, ‘‘আপনি বলুন, যারা জ্ঞানী এবং যারা জ্ঞানী নয় তারা কি সমান হতে পারে?” (আল কুরআন-৩৯:৯)

কুরআনের অপর স্থানে ইলম ও অজ্ঞতা সম্পর্কে এভাবেই পার্থক্য নির্ণয় করা হয়েছে, “হে নবী আপনি বলে দিন, অন্ধ ও চক্ষুষ্মান মানুষ কি সমান হতে পারে? আলো ও অন্ধকার কি সমান হতে পারে?” (আল কুরআন-১৩:১৬)

জ্ঞানী লোকদেরকে আল্লাহ তা’আলা উচ্চ মর্যাদা দান করবেন। যেমন এরশাদ হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যারা ঈমানদার এবং যাদের ইলম দান করা হয়েছে আল্লাহ তাদের সুউচ্চ মর্যাদা দান করবেন।” (আল কুরআন-৫৮:১১)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, “আল্লাহ যার কল্যান চান, তাকে দ্বীনের গভীর ইলম দান করেন।” (আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব)

ইলম অর্জন সম্পর্কে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেছেন, “প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ইলম অর্জন করা ফরজ” (ইবনে মাজাহ)

উল্লেখ্য, এখানে ইলম বলতে ইসলামী জ্ঞান বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, একজন মুসলমানের ওপর আল্লাহর কি কি হুকুম রয়েছে, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিয়ম অনুযায়ী কিভাবে পালন করা যায় তা জানতে হবে। না জানলে গুণাহ হবে।

আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর পবিত্র মুখ থেকে আরও উচ্চারিত হয়েছে, ‘‘রাতের কিছু সময় ইলম চর্চা করা পূর্ণ রাত্রি ইবাদতে কাটানো অপেক্ষা উত্তম।” (দারেমী)

আরেকটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, “যার মৃত্যু এমন সময় এসে পৌঁছেছে যখন সে ইসলামকে সমুন্নত রাখার প্রয়াসে ইলম চর্চায় লিপ্ত; বেহেশতে তার ও নবীদের মাঝে মাত্র এক ধাপ পার্থক্য থাকবে।” (দারেমী)

বিখ্যাত সাহাবী হযরত আনাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত, প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইলম অনুসন্ধানে বের হয়েছে সে আল্লাহর রাস্তায় রয়েছে; যে পর্যন্ত না ফিরে আসবে” (তিরমিযী)। অর্থাৎ, ইলম চর্চায় লিপ্ত থাকা আল্লাহর রাস্তায় থাকারই নামান্তর।

ইলম অর্জনের মর্যাদা সম্পর্কে আল্লাহর নবী আরও বলেন, “জ্ঞানী ব্যক্তির মর্যাদা (ইলমহীন) ইবাদতকারীর ওপর এরূপ যেরূপ আমার মর্যাদা তোমাদের সবার ওপর।” অতপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, “যে ব্যক্তি মানুষকে ভাল কথা শিক্ষা দিয়ে থাকে তার জন্য স্বয়ং আল্লাহ তালা, তাঁর ফেরেশতাগণ, আসমানবাসী, জমিনবাসী, এমনকি গর্তের পিপীলিকা পর্যন্ত দোয়া করে” (তিরমিযী)

বিখ্যাত হাদীসগ্রন্থ মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে একটি দীর্ঘ হাদীস বর্ণিত হয়েছে, নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “যে ব্যক্তি ইলম লাভের উদ্দেশে কোনো পথ অবলম্বন করলো আল্লাহ তায়ালা এর দ্বারা তার বেহেশতের পথ সহজ করে দিবেন।

যখনি কোনো একটি দল আল্লাহর ঘরসমূহের কোনো একটি ঘরে (মসজিদ, মাদ্রাসায়) একত্রিত হয়ে আল্লাহর কিতাব পাঠ করতে থাকে এবং তা পরস্পর আলোচনা করতে থাকে তখনি আল্লাহর পক্ষ হতে তাদের ওপর স্বস্তি ও শান্তি অবতীর্ণ হতে শুরু করে, আল্লাহর রহমত তাদের ঢেকে ফেলে, ফেরেশতারা তাদের ঘিরে ফেলে এবং আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের কাছে এসব বান্দার আলোচনা (প্রশংসা) করেন।” (মুসলিম)

হযরত মুআবিয়া (রাযিঃ) বলেন, আমাকে প্রিয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “আল্লাহ তা’আলা যার কল্যাণ কামনা করেন তাকে দ্বীনের (ইসলামের) সুষ্ঠু ইলম দান করেন।” (বুখারী, মুসলিম)

মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের সবাইকে ইলম অর্জন করে আলোকিত হওয়ার তৌফিক দান করুন। আমীন।