SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

সুলতানি আমলে ভারতের গ্রন্থাগার সমূহ কেমন ছিল?

সংস্কৃতি ২৮ জুলাই ২০২০
সুলতানি আমলে ভারতের গ্রন্থাগার
ID 83289561 © Rui Baião | Dreamstime.com

ভারতবর্ষে সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গে উল্লেখ করতে হয় সুলতানি আমলে বিস্তৃত শাসনকালকে।  এই শাসনকালের অনেকখানি জুড়ে রয়েছে গ্রন্থাগার সমূহ।  সুলতানি আমলে নির্মিত হয়েছিল একের পর এক গ্রন্থাগার। শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারে সেগুলোর বিশেষ ভূমিকা ছিল। সুলতানি আমলে ভারতের গ্রন্থাগার ও সেই ইতিহাস আমাদের শিক্ষার ভিতকে নির্দেশিত করে। ভারতের গ্রন্থাগার ও তার ইতিহাস সম্পর্কে জানার কোনও শেষ নেই।

সুলতানি আমলে শিক্ষার সূচনাঃ

এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করব সুলতান রাজিয়ার কথা। তিনি ছিলেন সুলতানি আমলের একমাত্র নারী শাসক।  ১২৩৬ থেকে ১২৪০ পর্যন্ত  দক্ষতার সঙ্গেই  শাসনকাজ সামলেছেন। ঐতিহাসিক নিজামির মতে রাজিয়া ছিলেন ইলতুতমিশের উত্তরাধিকারীদের শ্রেষ্ঠতম। শিক্ষাব্যবস্থার প্রসারের ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন প্রধান কাণ্ডারী। শাসনকালের শুরুতেই  তিনি উত্তর ভারত জুড়ে স্কুল ও গ্রন্থাগার স্থাপন করেছিলেন। বিশিষ্ট ধর্মীয় পন্ডিত মাওলানা মিনহাজ-এ-সিরাজ  রাজিয়াকে আলেম নওয়াজ উপাধিতে সম্মানিত করেছেন।

সুলতানি আমলের গ্রন্থাগারের বিবরণঃ

ত্রয়োদশ এবং চতুর্দশ শতাব্দীর প্রায় সব শাসকের সঙ্গে রাজকুমারীর রাজনৈতিক সখ্যতা ছিল। সেই সময়ে তাঁরা প্রত্যেকেই ব্যক্তিগত গ্রন্থাগার সমূহতে সময় ব্যয় করতেন।  বহু বিষয় নিয়ে তাঁরা চর্চা এবং আলোচনা হত। গ্রন্থাগার ছিল সুলতানি আমলের অন্যতম জ্ঞানপীঠ। গ্রন্থাগারের জন্য আলাদা কোনও বিল্ডিং নির্দিষ্ট করা হয়নি। এটি প্রাসাদের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হিসাবে ব্যবহৃত হত। মূলত অন্দরমহল ও বহির্মহলের যোগাযোগস্থানে স্থাপিত হত গ্রন্থাগার। কখনও কখনও মসজিদের সঙ্গেও গ্রন্থাগার যুক্ত থাকত। সুলতানি আমলে ধর্ম ও সংস্কৃতি ছিল অবিচ্ছেদ্য। 

দিল্লির ইম্পেরিয়াল গ্রন্থাগারঃ

গ্রন্থাগার স্থাপনের ব্যাপারে আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ।  সুলতান জালালউদ্দিন খিলজি (১২৯৬) দিল্লিতে ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি ছিলেন খিলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা।

সেই সময় গ্রন্থাগারিকের ভূমিকা ছিল সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সুলতান খিলজি পণ্ডিত আমির খসরুকে গ্রন্থাগারিক হিসাবে নিযুক্ত করেন।

সুফি সাধক নিজামউদ্দিন আউলিয়া  দিল্লিতে তাঁর খানকায় একটি গ্রন্থাগার স্থাপন করেছিলেন। সাধারণ মানুষের অনুদানে গড়ে উঠেছিল এই গ্রন্থাগার।

সুলতান ও রাজপুরুষদের সঙ্গে সাধারণ মানুষেরও প্রবেশ অবাধ ছিল সেখানে।  সাধক কখনও মানুষের মধ্যে ফারাক করতেন না।

সুলতানি আমলে মানুষের বৌদ্ধিক ও মানসিক উন্নতি ঠিক এই কারণে হয়েছিল।

ভারতবর্ষের ইতিহাসে শিক্ষার প্রদীপ কখনও নিভতে দেখা যায়নি। একথা বলা যায় সে সুলতানি আমলেও তা ছিল বেশ উজ্জ্বল। 

এই ঔজ্জ্বল্যই আমাদের এগিয়ে দেয় ভবিষ্যতের দিকে। অতীতের হাত ধরে আমাদের ভবিষ্যতের যাত্রা সার্থক হয়ে ওঠে।

.