কেমন বন্ধু এড়িয়ে চলবেন?

Avoid Certain Friends
ID 155273665 © Odua | Dreamstime.com

“বন্ধু “শব্দটির মাঝে লুকিয়ে আছে হাজার অর্থ। যেকোনো পরিস্থিতিতে ও কোনো কার্যসিদ্ধিতে আমরা বন্ধুকে কামনা করি। কিন্তু ওই বন্ধুর আশ্রয় কখনো কখনো আমাদের জন্য চরম ক্ষতিকর হয়ে ওঠে।

“বন্ধু” শব্দের আড়ালে লুকিয়ে থাকে হাজারো অর্থের গভীরতা। জীবনের প্রতিটা পদক্ষেপে একজন বন্ধুকে সবাই চায়,কিন্তু ভালো বন্ধু পায় কজন! কারণ হোক কিংবা অকারণ,”বন্ধু “নামক আশ্রয়টা কমবেশি সবার কাম্য। ভালো বন্ধু যেমন কাম্য, তেমনি অসৎ সঙ্গও ত্যাগ করতে হয়। যারা সামনে এক ও পিছনে অন্য কথা বলে তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে। জীবন বড়োই ছোট আর ভালো বন্ধুও বড়ো দুর্লভ।স্কুল কলেজ,আঁকার ক্লাস,নাচ-গান বা যেকোনো ক্ষেত্রে আচমকা আলাপেই বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে, কাটিয়ে ফেলি অনেকটা সময়,তারা কি সত্যিই বন্ধু হয়ে ওঠে নাকি পিছন থেকে ছুড়ি মারতে তৎপর? নিজেকে ক্ষতবিক্ষত করার থেকে খারাপ সঙ্গ বর্জনীয়।

প্রথমেই নেতিবাচক বন্ধুদের কথায় আসা যাক, যারা সবসময় এটা বলে আপনাকে বিব্রত করে–যে এটা আপনি করবেন না, এটা আপনার দ্বারা  হবে না —তাদের সঙ্গ তৎক্ষণাৎ বর্জন করা উচিত। একজন ভালো বন্ধুর গুণ যেমন আপনাকে সংক্রামিত করবে, ঠিক ততটাই খারাপ গুণগুলিও সংক্রামিত করবে। তাই অসৎ সঙ্গ ছেড়ে সৎ সঙ্গ নির্বাচন করুন।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী বন্ধু — যারা কথা দিয়ে কথা রাখেনা,তাদের সঙ্গতা আপনাকে বারংবার বিপদে ফেলবে। আজ এখানে আসতে  বলে যদি সে এখানে না আসে, আপনি ফোন করা সত্ত্বেও না তুলে আপনাকে বিপদস্থ করে-তাদের সঙ্গ অবশ্যই ত্যাগ করুন।

জাহির করা— এরা নিজেদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।এককথায় বলা যায়,নিজের ঢাক নিজেই পেটায়। কথাবার্তায় এমন ভাব দেখায় যে সে কত জানে,সবসময় নিজেকে জাহির করে  যেন সেইই সবসময় ঠিক । স্বভাবতই অন্যান্যদের কাছে নিজের ইমপ্রেশনটা খারাপ করে নিজেরাই। তাই এই সঙ্গ অবশ্যই বর্জনীয়।

পরচর্চাকারি বন্ধু –আমাদের জীবনে এমন অনেক বন্ধু আছে যাদের কাজই হচ্ছে কারোর সাথে দেখা হলেই শুরু করে অন্যের নামে সমালোচনা করা। সে শুধু লোকের কথাই বলতে থাকে নিজেরা যে একসাথে হয় নিজেদের মধ্যে সময় কাটাতে সে ভুলে যায়। এমন বন্ধু জীবনে থাকা মানে মনে আসবে নেতিবাচক  ভাবনা যা আমাদের সুস্থ  জীবনের অনেক সময় বাড়তি ঝামেলা ডেকে আনে। এমন বন্ধু থাকার থেকে না থাকা অনেক ভালো।

প্রতিযোগী বন্ধু — জীবনে সফল হতে আমরা প্রত্যেকদিন করে চলি লড়াই । এমন সময় যাকে পেলে আমাদের সব থেকে বেশি সুবিধা হয় সে সম্পর্কের নাম বন্ধু । কিন্তু যখন সেই বন্ধুই প্রতিযোগিতায়  নামে এবং এগিয়ে যাবার জন্য কাউকে তোষোমদ করতে থাকে সেই বন্ধুর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা উচিত। সে স্বার্থপর।

নিয়ন্ত্রক বন্ধু — আমাদের জীবনে এমন অনেক বন্ধু থাকে যাদের  চিন্তাভাবনা ক্ষুদ্র গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ। এরা আপনাকে বা অন্য বন্ধুদের চিন্তাধারা,সিদ্ধান্ত এমনকি কাজকর্মও তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। আপনার নিজের ভাবনা এখানে মাথা তুলতে পারে না।কখনো কখনো এমন পর্যায় আসে যেখানে আপনার ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও সেই কাজ করতে আপনি বাধ্য হবেন এবং হতাশায় ভুগবেন। তাই সময় থাকতে এইসব বন্ধুদের সঙ্গ পরিত্যাগ করুন।

আবেগপ্রবণ বন্ধু — আমাদের  জীবনে ভালো খারাপ দুটো সময় যায় কিন্তু এমন কিছু মানুষ আছে যারা সারাজীবন শুধু ভাগ্যের  দোষ দিতে থাকে। এমন লোকজন খুঁজলে আমাদের বন্ধু তালিকাতেও পাওয়া যাবে। তারা কিছুই  করবেনা শুধু ভাবে সারাদিন এমন বন্ধু আমাদের জীবনে বিষাদ আনতে পারে। তাই এদের সাথে না মেশাই ভালো।

সুবিধাবাদী  বন্ধু — আর একধরনের বন্ধু  জীবনে সবথেকে বেশি হয়তো দেখাযায় যারা মেশে শুধু তাদের স্বার্থ সিদ্ধি করতে । এরা বেশি রকম ভালো কথা বলে আমাদের । কাজ হয়ে গেলে বন্ধুর খারাপ করতে একবারও  ভাবেনা। তাদের জীবনে ঢুকতে দেওয়াই উচিত নয়।

আমাদের জীবনে সবথেকে কাছের মানুষ হয় বন্ধুরা। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এই বন্ধুদেরকেও আমাদের পরীক্ষা করতে হয়। এরা আমাদের বিপদে যেমন পাশে এসে দাঁড়ায় তেমনি সমানভাবেই ক্ষতিও করে। আশা করি আপনার জীবনে ভাল বন্ধুদের সমাগম হোক, তবে ভুলবেন না যে আপনাকেও কিছু মানুষ বন্ধু বলে ভাবে। তার প্রাপ্য মর্যাদা দেবেন।