শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

কোথা থেকে এল মুসলমানদের কাঙ্খিত ধ্বনি আজান?

ali-arif-soydas-uwzPks8CE3k-unsplash
Fotoğraf: Ali Arif Soydan-Unsplash

আজান আর্থ ঘোষণা বা আহ্বান। প্রতিদিন ৫বার আজান আমারা শুনে থাকি। নামাজ আদায় করার জন্য আজান গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। । কারণ আজানই মানুষকে দ্রুত নামাজের জন্য তৈরি হতে উদ্বুদ্ধ করে। আমাদের অলসতা দূর করে, আমাদেরকে উদ্যমী করে তুলে। নামাজের আদায় করারা জন্য মানুষকে আহ্বান করার একমাত্র মাধ্যম হলো আজান। পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের জন্য আজান দেওয়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ।

প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ইসলামের প্রাথমিক যুগে পবিত্র নগরী মক্কায় আজান ছাড়াই ছলাত আদায় হতো। যখন মুসলমানদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি হতে লাগলো, তখন প্রয়োজন শুরু হল নামাজের জন্য আহ্বান করা এবং নামাজের সময় জানিয়ে দেয়া। কিন্তু মুসলমানদের কিভাবে মসজিদে আহ্বান জানানো হবে?

রাসুলুল্লাহ সাল্লাহু সালাম মদীনায় আগমনের পর একটি সভা আহ্বান করলেন। তিনি সাহাবিদের কাছে পরামর্শ চাইলেন যে, কি কি উপায়ে নামাজের জন্য মানুষকে আহ্বান করা যায়। সেখানে চারটি প্রস্তাবনা উপস্থাপিত হল।

১. ঝাণ্ডা উড়ানো।

২. আগুন প্রজ্জ্বলন।

৩. শিঙ্গা বাজানো।

৪. ঢোল বাজানো।

পরামর্শ সভার চারটি প্রস্তাবনাই বাতিল হলো। এর কারণ হিসেবে বলা হলো, যদি ঝান্ডা উড়ানো হয় দূরে যাদের বাড়ি রয়েছে তারা দেখতে পাবে না। আগুন প্রজ্জ্বলন অগ্নি উপাসকদের কাজ এটিও বাতিল হয়ে গেল। তৃতীয়ত শিঙ্গা বাজানো খ্রিস্টানদের কাজ। আর চতুর্থত ঢোল বাজানো ইয়াহুদিদের কাজ। সুতরাং এই চারটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়।

সভা শেষে সকল সাহাবায়েকেরামগণ এ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে ভাবতে নিজের আবাসস্থলে চলে গেলেন। ঐ রাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রাঃ) স্বপ্নে দেখেন যে , একজন সবুজ কাপড় পরিধানকারী ব্যক্তি একটি ঘণ্টা নিয়ে যাচ্ছে। তখন স্বপ্নের মধ্যে ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি ওই ঘণ্টাটি বিক্রি করবেন? সে ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, আপনি এটা দ্বারা কী করবেন? তখন তিনি বললেন, আমি এটা দ্বারা নামাজের সময় হলে মানুষকে নামাজের প্রতি আহ্বান করব। তখন সবুজ কাপড় পরিহিত ব্যক্তি বলে উঠল, আমি কী আপনাকে এর চেয়ে উত্তম কিছু শিখিয়ে দেব? যা দ্বারা আপনি মানুষকে নামাজের প্রতি আহ্বান করতে পারেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) বললেন, হ্যাঁ তাই করুন। তখন ঘুমের মধ্যে ওই ব্যক্তি আজানের বাক্যগুলো শিখিয়ে দিলেন। এরপর সকালে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ ঘুম থেকে উঠে প্রিয় নবীর দরবারে হাজির হয়ে স্বপ্নের কথাগুলো বললেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘তোমার স্বপ্ন সত্য। তুমি বেলালকে বাক্যগুলো শিখিয়ে দাও, যাতে নামাজের সময় হলে মানুষকে নামাজের প্রতি আহ্বান করতে পারে। আজ থেকে বেলাল আজান দেবে।’ এরপর হযরত বেলাল বেলাল (রা.) কে তা শিখিয়ে দেয়া হলো । হজরত বেলাল (রা.) এর কন্ঠে হজরত ওমর (রা.) যখন আযানের শব্দ গুলো শুনতে পেলেন, তখন তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.) কে এসে বললেন,

‘হে আল্লাহর রাসুল! ঐ সত্তার শপথ যিনি আপনাকে সত্য রাসুল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। অবশ্যই আমি অবিকল এ বাক্যগুলোই স্বপ্নে দেখেছি। ‘ উল্লেখ্য যে, ঐ রাতে একই স্বপ্ন সাহাবিদের মধ্য থেকে ১৪ জনই দেখেন যার মাধ্যমে নিয়মিত হজরত বেলাল (রাঃ) আনহু নামজের জন্য আজান দিতেন। এভাবেই সুমধুর আজানের রীতি চালু হয়। ইসলামের ইতিহাসে প্রথম আযান প্রদান করেন হযরত বেলাল (রাঃ)।

তিনিই প্রথম হেরাম শরীফ-এর উপরে উঠে মক্কাবাসীদের জন্য আজান দেন। তার অত্যন্ত সুমিষ্ট আযানের ধ্বনি শুনে মদীনাবাসী একত্র হয়ে মসজিদ-এ-নববীতে আসেতেন সালাত আদায় করার জন্য।

এখানে ফজরের আজানের বাড়তি বাক্য ( ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম’ ) নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। এসম্পর্কে যতদূর জানা যায় যে, একদিন ফজরের সময় হযরত বেলাল (রাঃ) আযান দিতে আসলেন, এসে তিনি জানতে পারলেন যে রাসুলুল্লাহ (সা.) ঘুমিয়ে আছেন। তখন হযরত বেলাল (রাঃ) তার সুমিষ্ট কন্ঠে ঘোষণা করলেন ‘আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম। অর্থাৎ ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।’ হজরত সাঈদ ইবনে মুসায়্যিব বলেছেন, ‘পরে ফজরের আজানের সঙ্গে এ বাক্যটি শমিল করে দেয়া হয়।’

এভাবেই প্রচলিত হল আজান। যা সারা বিশ্বে মুসলমানদের জন্য কাঙ্খিত ধ্বনি। যাতে ঘোষণা করে আল্লাহর মহিমা। আর আহ্বান করে আল্লাহর পথে শামিল হওয়ার জন্য।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন