SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

কোন উপদেশ গ্রহণ করবেন, কোনটা বর্জন করবেন

পুরুষ ১২ মে ২০২০
উপদেশ প্রদান
ID 104808905 © Artur Szczybylo | Dreamstime.com

জীবনে চলার পথে আমাদের বাবা মা, ভাই বোন ও বড়দের আদেশ উপদেশ মেনে চলতে হয়। যখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে কোনো বিষয়ে পরামর্শ কিংবা মতামত চাওয়া হতো, তখন তিনি ওই বিষয়টি তাঁর নিজের মাঝে বাস্তবায়ন আছে কিনা তা দেখতেন। যদি নিজের মধ্যে বাস্তবায়ন থাকত, তবে সমাধান দিতেন। নতুবা সময় নিয়ে সে কাজটি আগে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতেন অতঃপর অন্যকে এ আমলের উপদেশ দিতেন কিংবা সমস্যার সমাধান দিতেন।

উপদেশ গ্রহণ করা উচিৎ কখন?

মহানবী (সা.) বলেছেন, উপদেশ গ্রহণের জন্য মৃত্যুই যথেষ্ট আর অমুখাপেক্ষিতার জন্য খোদাভীতি যথেষ্ট এবং কর্মব্যস্ততার জন্য ইবাদত যথেষ্ট। কিয়ামতই একমাত্র ভবিষ্যৎ আর আল্লাহতায়ালাই একমাত্র প্রতিদানদাতা। তিনি আরও বলেছেন, দুটি কাজের চেয়ে উত্তম কোনো পুণ্যের কাজ নেই; আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস এবং আল্লাহর বান্দাদের উপকার করা। দুটি কাজের চেয়ে জঘন্য কোনো কাজ নেই। আল্লাহর সঙ্গে শিরক করা আর আল্লাহর বান্দাদের ক্ষতি করা।

এক ব্যক্তি হজরত রাসূলুল্লাহকে (সা.) বলল, আমাকে কিছু উপদেশ দিন, যার মাধ্যমে আল্লাহতায়ালা আমার মঙ্গল করবেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, বেশি বেশি মৃত্যুকে স্মরণ করো, তা তোমাকে দুনিয়া (প্রেম) থেকে মুক্ত করবে। আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো। কারণ, তা নেয়ামতকে বাড়িয়ে দেয়।

বেশি বেশি দোয়া করো। কেননা তুমি জান না কখন তোমার দোয়া গ্রহণ করা হবে। সীমা লঙ্ঘন করো না। কারণ, আল্লাহ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, যার সীমা লঙ্ঘিত হয় আল্লাহ অবশ্যই তার সহায় হন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, হে লোকেরা! তোমাদের সীমা লঙ্ঘনের ক্ষতি তোমাদের ওপরই বর্তাবে’ (সূরা ইউনুস :২৩)। আর কোনো ধরনের প্রতারণা করো না। কারণ, আল্লাহ এরূপ নির্ধারণ করেছেন যে, ‘মন্দ প্রতারণা কেবল তার কর্তাকেই পরিবেষ্টন করে থাকে।’ -সূরা আল ফাতির : ৪৩

মহান নবী কী বলেন?

হজরত রাসূলুল্লাহর (সা.) কাছে আরজ করা হলো, কোন সঙ্গীরা উত্তম? তিনি বললেন, যখন তুমি তাকে স্মরণ করবে, সে তখন তোমাকে সাহায্য করবে; আর যখন ভুলে যাবে সে তখন তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে। আরও বলা হলো, নিকৃষ্টতম লোক কারা? বললেন, জ্ঞানী লোকেরা যখন নষ্ট হয়ে যায়।

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) আরও বলেন, আমার প্রতিপালক আমাকে ৯টি বিষয়ের উপদেশ দিয়েছেন, প্রকাশ্য ও গোপনে নিষ্ঠা অবলম্বন করা, সন্তুষ্টি আর ক্রোধের অবস্থায় ন্যায়পরায়ণ থাকা, অভাব ও প্রাচুর্যের সময় মধ্যপন্থা অবলম্বন করা, যে আমার প্রতি অত্যাচার করে তাকে ক্ষমা করা, আমার প্রতি যে কৃপণতা করে তাকে প্রদান করা, আর যে আমার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করে তার সঙ্গে যেন সম্পর্ক গড়ি, আর আমার নীরবতা যেন হয় চিন্তা-গবেষণা, আর আমার কথা যেন হয় জিকির আর আমার তাকানো যেন হয় শিক্ষা গ্রহণ।

মহানবী (সা.) বলেন, যার (মাল) চুরি হয় সে সবসময় নিরপরাধ লোকদের দোষারোপ করতে থাকে। ফলে তার অপরাধ চোরের চেয়েও বড় হয়ে যায়। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় এ অবস্থায় যে, তার তিনটি জিনিস থাকে, তবে তার ওপর দুনিয়ার নেয়ামত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। যার সকাল ও সন্ধ্যা অতিবাহিত হয় সুস্থ অবস্থায়, তার মনে প্রশান্তি থাকে, আর তার কাছে একদিনের জীবিকা থাকে। আর যদি চতুর্থ বস্তুটিও যদি তার থাকে তা হলে তার দুনিয়া ও আখিরাতের সকল নেয়ামত পূর্ণ হয়। আর সেটা হলো ইমান। আল্লাহর রাসূল (সা.) আরও বলেন, দুটি ব্যাপারে অসংখ্য মানুষ ধোঁকা খেয়ে থাকে, সুস্থতা আর অবসর (অর্থাৎ এগুলোর সদ্ব্যবহার করে না)। তিনি (সা.) আরও বলেন, ইবাদতের সাতটি অঙ্গ। তন্মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ হলো হালাল রুজি অর্জন করা।

সবসময় কি গ্রহণ করা উচিৎ?

হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষের সৌন্দর্য হলো জিহ্বায় (মুখের ভাষায় সতর্ক থাকা)। তিনি (সা.) আরও বলেছেন, জ্ঞানকে জনগণের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া যায় না; কিন্তু যতক্ষণ অবধি জ্ঞানীরা থাকে, ততক্ষণ জ্ঞানীদের অপহরণ করা হয়, ফলে আর কোনো জ্ঞানী অবশিষ্ট থাকে না; আর তখন জনগণ মূর্খদের নেতা হিসেবে গ্রহণ করে। ফতোয়া চাওয়া হয় আর তারা না জেনে ফতোয়া প্রদান করে। ফলে নিজেরাও পথভ্রষ্ট থাকে, আর অন্যদেরও পথভ্রষ্ট করে।

বিশ্বনবী (সা.) বলেছেন, মুমিনকে কোনো কাঠিন্য, অসুস্থতা ও দুঃখ স্পর্শ করলে তাতে যদি তার সামান্য কষ্টও হয়, আল্লাহ সেটির বিনিময়ে তার পাপগুলো মোচন করেন। তিনি (সা.) আরও বলেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছামতো খায়, ইচ্ছামতো পরিধান করে আর ইচ্ছামতো বাহনে আরোহণ করে, আল্লাহ তার ওপর অনুগ্রহের দৃষ্টি ফেলেন না, যতক্ষণ না সে তা হারায় কিংবা বর্জন করে (এবং তওবা করে)।

যদি ইতিবাচক, কল্যাণকর ও আপনার চাওয়া পূরণে সক্ষম হয় তবে সেই উপদেশ নেয়াই যায়। সেখানে দোষের কিছু নেই। কাঙ্খিত সাফল্যের পেছনে ছোটে অনেকেই, কিন্তু সাফল্যের দেখা মেলে না প্রায় সময়। তখন এক ধরণের হতাশা কাজ করে, জীবন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
কিন্তু জীবনের সিদ্ধান্তগুলি নিজে না নিয়ে যদি অন্যের কথা শুনে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়, তাদের মতো দুর্ভাগা বোধহয় খুব বেশী হয়না। তাই সবার উপদেশ গ্রহণ করা উচিত না। পরামর্শ করে কাজ করলে ভুল হবার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে। তবে যে উপদেশ বা পরামর্শ দিচ্ছে সে যদি সঠিকটা না দেয় তাহলে বাধে বিপত্তি। তাই বুঝেশুনেই গ্রহণ করা উচিত।