কোন দেশে বেশি শক্তিশালী সাইবার আইন- আমেরিকা, চিন নাকি ভারত?

প্রযুক্তি Tamalika Basu
ফোকাস
Web Hosting Data Adverstising Network Provider Concept
Web Hosting Data Adverstising Network Provider Concept

সাইবার ক্রাইম হল অপরাধ জগতের এমন এক অংশ যেখানে রোজই অপরাধের নিত্য নতুন উপায় বের হয়। এগুলির চরিত্র সরল টাকা আদায়ের মতো হতে পারে, আবার জটিল অপরাধ ও ষড়যন্ত্রমূলক হতে পারে, যা বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশ্বের প্রতিটি দেশই নিজেদের মতো করে সাইবার ক্রাইমের মোকাবিলা করার জন্য সাইবার আইন তৈরি করেছে।

দেখে নেওয়া যাক, অমুসলিম কয়েকটি রাষ্ট্রের সাইবার আইন কতটা কঠোর-

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার আইন

সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বে শীর্ষ স্থানের অধিকারী। ইন্টারনেট সাইবার অপরাধের হারের ২৩% এখানে হয়, এবং ইন্টারনেট সম্পর্কিত অপরাধের ক্ষেত্রে এই দেশের উপরে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। তবে এই দেশের সাইবার আইন অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি শক্তিশালী। সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে প্রায় ৬০% মামলা রেজিস্টার করা হয়, বিচারে দোষী সাব্যস্ত করা এবং আইন অনুসারে সাজা দেওয়া হয়।

এই জাতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে প্রথম কার্যকর আইনটি চালু করা হয়েছিল ১৯৮৪ সালে, কম্পিউটার জালিয়াতি এবং অপব্যবহার আইন (সিএফএএ) নামে অভিহিত হয়েছিল এই আইনকে। তবে এই আইনে ক্ষতিকর কোড ব্যবহার করে ইচ্ছাকৃতভাবে ডিভাইসের ক্ষতি করার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বা সাধারণ মানুষের ভাষায়, ভাইরাস ব্যবহার।

এই আইনটি আরও উন্নত করার জন্য, জাতীয় তথ্য পরিকাঠামো সুরক্ষা আইন (এনআইআইএ) চালু করা হয়েছিল। এই আইনটিতে পূর্ববর্তী গোয়েন্দা আইন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল এবং তার পাশাপাশি অনুমোদন ছাড়াই কম্পিউটারের তথ্য দেখাকেও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এই আইনগুলি ছাড়াও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাইবার অপরাধের জন্য কঠোর সংজ্ঞা এবং শাস্তির বিধান ঘোষণা করেছে।

সাইবার বুলিংয়ের মতো অপরাধের জন্য বহিষ্কার থেকে শুরু করে জরিমানা পর্যন্ত হতে পারে। পরিচয় চুরি বা আইডেন্টি থেফ্ট-এর মতো অপরাধের জন্য ১৫ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। হ্যাকিং এবং কম্পিউটারের সম্পত্তির ক্ষতি করার জন্য ছয় থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আমেরিকাতে সাইবার আইন খুবই শক্তিশালী।

চিনের সাইবার আইন

চিন সাইবার আইনের ক্ষেত্রে নজির স্থাপন করেছে। যদিও এর আইনগুলি অন্যান্য দেশের কাছে স্বৈরাচারী মনে হতে পারে, কিন্তু চিন সরকারের কাছে সেগুলি অপরিহার্য। সাইবার অপরাধের স্বীকৃতি ও তার জন্য দণ্ডবিধি প্রথম তৈরি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে স্টেট কাউন্সিল কর্তৃক প্রণীত ‘কম্পিউটার তথ্য নেটওয়ার্ক এবং ইন্টারনেট সিকিউরিটি, প্রোটেকশান ও ম্যানেজমেন্ট রেগুলেশন্স’ দ্বারা। ফৌজদারি আইন অনুসারে, হ্যাকিং, ডেটা নাশকতা বা ডিজিটাল ভাইরাস তৈরি ও ছড়ানোর মতো কাজের জন্য ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সংবেদনশীল ডেটা জড়িত থাকলে অপরাধটি গুরুতর হিসেবে পরিগণিত হয়, এবং সেক্ষেত্রে সাজা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পায়।

২০১০-এর পরে, এই আইনে বলা হয়েছে, ‘চিনা ভূখণ্ডের মধ্যে ইন্টারনেট চিনের সার্বভৌমত্বের অধীনে।’ যার প্রকৃত অর্থ হল, সরকার তাঁদের সীমান্তের মধ্যে ইন্টারনেটের উপরে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। সেই কারণে, বিশ্বের বেশিরভাগ জনপ্রিয় ওয়েবসাইটই চিনে নিষিদ্ধ। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গুগল, ফেসবুক কোনওটিই চিনে ব্যবহার করা যায় না। এটি আমাদের কাছে বিপজ্জনক মনে হলেও, এই নীতির ফলে চিনের দেশীয় ই-বাণিজ্য এবং ডিজিটাল সংস্থাগুলি উপকৃত হয়েছে।

চিনের সাম্প্রতিকতম আইনটি কার্যকর হয়েছে ২০২০ সালের জুনে, এর নাম সাইবারসিকিউরিটি আইন। এই আইনে বলা হয়েছে, চিনের ভূখণ্ডে কর্মরত সমস্ত বিদেশি সংস্থাগুলিকে তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য তথ্য দেশের মধ্যেই সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে সেই কোম্পানির নেটওয়ার্ক এবং ডেটা চেক করার অনুমতিও দিতে হবে।

ভারত

বিশ্বজুড়ে মোট সাইবার-আক্রমণের মাত্র ৩% ক্ষেত্রে শিকার হয় ভারত। তবে এগুলি মোকাবেলা করার জন্য এই দেশে কঠোর আইন রয়েছে। ২০০৯ সালের তথ্য প্রযুক্তি আইন এবং এর পরবর্তী সংশোধনী হ’ল ভারতে সাইবার অপরাধের বিরুদ্ধে একমাত্র আইনসভা দ্বারা প্রণীত আইন। তবে এই আইনে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, পরিচয় চুরি বা আইডেন্টিটি থেফ্ট, কাউকে অশ্লীল উপাদান পাঠানো, শিশু পর্নোগ্রাফি এবং সাইবার সন্ত্রাসবাদের মতো বিভিন্ন অপরাধ নথিভুক্ত রয়েছে।

তবে এই আইনে সাইবার ধর্ষণ, জালিয়াতি, পাইরেসি ইত্যাদির মতো বিভিন্ন সমস্যাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এই আইনে গোপনীয়তা লঙ্ঘনের জন্য দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা এবং কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। শিশু পর্নোগ্রাফি তৈরি ও শেয়ার করার জন্য দশ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা ও পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। সাইবার সন্ত্রাসবাদের জন্য আজীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ভারতে যে আইন রয়েছে সেগুলি বেশ কঠোর কিন্তু তারপরেও অনেক গলদ রয়েছে।