কোন পরিস্থিতে সংঘঠিত হয়েছিল বদরের যুদ্ধ? (দ্বিতীয় পর্ব)

640px-Battle_of_Badr

পর্ব ০২

আক্রমণ শেষে দলটি নবীজির কাছে ফিরে আসলেন। রজব মাসে আক্রমণ করার কারণে মুসলিম দলটির উপর নবীজি ক্ষুব্ধ হন। হারাম মাসের যুদ্ধের জন্য তিনি অনুমতি দেননি, এই কথা তিনি বলেন। এই আক্রমণ থেকে অর্জিত সকল বন্ধু এবং সম্পদ গ্রহণে অসম্মতি জানান। এই মাসে আক্রমণ করার কারণে কুরাইশরা মুসলিমদের কটূক্ত করা শুরু করে। এরপর পবিত্র কোরআনের আয়াতে বলা হয় যে, পবিত্র মাস লংঘন করা হচ্ছে মক্কার লোকদের অত্যাচার আরো বেশী নিকৃষ্ট। নবীজি বন্দীদের ও কাফেলাকে গ্রহণ করে এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরে। কুরাইশরা বার্তা পাঠায় যে তারা ওসমান ও হাকিমের মুক্তি চায়। বিনিময় হিসেবে তারা পণ্য প্রদানের প্রস্তাবনা দেয়। কিন্তু যেহেতু সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস ও উতবা ইবনে গাজওয়ান পৃথিবী পূর্বে নিখোঁজ হয় এবং তারা কখনো ফিরে আসেনি তাই কুরাইশদের হাতে এই দুইজনের জীবনের আশঙ্কা থাকায় সেসময় তিনি প্রস্তাবে রাজি হননি। কিন্তু স্রস্টার কৃপা তারা দু’জনই ফিরে আসেন। আর পণ্য গ্রহণ করে বন্দীদের মুক্তি দেয়া হয়।

নবীজি তালহা ইবনে উবাইদিল্লাহ (রা:) ও সাইদ ইবনে জাইদকে (রা:) উত্তরে প্রেরণ করেন। তাদের প্রেরন করেন কুরাইশদের যে কাফেলাটি এর আগে গাজওয়ায়ে উশাইরা থেকে বেঁচে গিয়েছিল তাদের তথ্য সংগ্রহ করার জন্য। হাওরা নামক একটি স্থানে দলটি কুরাইশদের কাফেলার জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। এবং ওই স্থান দিয়েই কাফেলাটি অতিক্রম করার সময় তোরা দুজন মদিনায় ফিরে এসে ঘটনা অবহিত করেন। তারা জানান যে, কুরাইশদের এই যাত্রায় (কাফেলাটিতে) ১০০০টি উট, এবং এই উটে ৫০০০০ স্বর্ণমুদ্রা মূল্যের মালামাল ছিল। আর এগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৪০ জন রক্ষী ছিল কাফেলায়। নবীজি এ কাফেলায় আক্রমণের জন্য মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান। কিন্তু এরপর কুরাইশদের বড় বাহিনীর সামনা সামনি হতে হবে এইরকম কোন আশঙ্কা তখন ছিল না। এর ফলে এই আক্রমণে সকল মুসলমানদের অংশগ্রহণ জরুরি বলে উল্লেখ করেন নি। ফলাফলস্বরূপ অনেক মুসলিম মদিনায় থেকে যায়। আর ঘোষণার পর নবীজি যাত্রা শুরু করেন বদরের দিকে।

নবীজি হযরত মুহাম্মদ (সা:) এর সাথে মুসলিম বাহিনীতে ছিলেন, আবু বকর (রা:), উমর ইবনুল খাত্তাব (রা:), আলি ইবনে আবি তালিব (রা:), হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা:), মুসআব ইবনে উমাইর (রা:), যুবাইর ইবনুল আওয়াম (রা:), আম্মার ইবনে ইয়াসির (রা:) ও আবু যার আল-গিফারী (রা:)। উসমান ইবনে আফফান (রা:) যুদ্ধে যেতে পারেননি কারণ তার স্ত্রী তখন অসুস্থ ছিলেন। আর কখনো মুনমুনের দাস থাকায় সালমান ফারসী (রা:) এ যুদ্ধে অংশ নিতে পারেনি। ৩১৩ জন সৈনিক ছিল এই বাহিনীতে। তারা বিভিন্ন গোত্র থেকে এখানে এসেছিলেন। মুহাজির ছিলেন ৮২ জন। এবং আনসারদের মধ্যে আওস গোত্রের ছিলেন ৬১জন ও খাজরাজ গোত্রের ছিলেন ১৭০জন। ৭০টি উট ও ২টি ঘোড়া ছিল মুসলিমদের সাথে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের পায়ে হেঁটে এগিয়ে যেতে হতো। তারা পালাক্রমে দুই বা তিন জন একটি আরোহন করতেন। এই ব্যবস্থাপনার কারণেই নবীজি মুহাম্মাদ (সা:) , আলি ইবনে আবি তালিব (রা:) ও মারসাদ ইবনে আবি মারসাদের জন্য একটি

উট বরাদ্দ হয়েছিল। মুসআব ইবনে উমাইরকে একটি সাদা পতাকা প্রদান করা হয় নবীজির নেতৃত্বে। আলি ইবনে আবি তালিব (রা:) এবং সাদ ইবনে মুয়াজকে (রা:) কে একটি করে কালো পতাকা প্রদান করা হয় মুজাহিদের ও আনসারদের জন্য। বাহিনীটির দান অংশের প্রধান হিসেবে যুবাইর ইবনুল আওয়াম এবং বাম অংশের প্রধান হিসেবে মিকদাদ ইবনে আমর কে নিযুক্ত করা হয়। বাহিনীতে যে দুটি ঘোড়া ছিল সেই ঘোড়ার দুটিতে তারা আরোহন করেছিল। কায়স ইবনে আবিদকে নিয়োগ দেয়া হয় পেছনের অংশের প্রধান হিসেবে। আর সমগ্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে নেতৃত্ব দেন হযরত মুহাম্মদ (সা:)।

(চলবে)