কোন পরিস্থিতে সংঘঠিত হয়েছিল বদরের যুদ্ধ?

640px-Battle_of_Badr

পর্ব ০১ 

ইসলামের ইতিহাসে যতগুলো স্মরণীয় যুদ্ধ হয়েছে বদরের যুদ্ধ তাদের মধ্যে অন্যতম। এই যুদ্ধটি মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে ২ হিজরি ১৭ রমজান (১৭ মার্চ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) সংঘটিত হয়। এই ঐতিহাসিক যুদ্ধে জয়ের ফলে মুসলিমদের সমতা পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়। অবশ্য এই যুদ্ধের পূর্বে অর্থাৎ ৬২৩ থেকে ৬২৪ সনের ভেতরে বেশকিছু খণ্ডযুদ্ধ হয় মুসলিম ও কুরাইশদের ভেতরে। এরই ধারাবাহিকতায় দুই বাহিনীর মধ্যে প্রথম সবচেয়ে বড় আকারের যুদ্ধ ছিল বদরের যুদ্ধ। এই যুদ্ধে আবু জাহল মুসলিমদের প্রধান প্রতিপক্ষ ছিল। এবং তিনি এই যুদ্ধে নিহত হন। এই যুদ্ধে বিজয়ের ফলে নেতা হিসাবে মুহাম্মদ (সাঃ) এর অবস্থান আরও দৃঢ় হয় এবং অন্যদের কাছে বার্তা পৌছায় যে মুসলিমরা আরবের নতুন শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

নবীজি ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করার পর থেকে তার বিরোধিতা করে আসছিল কুরাইশরা। নবীজি কুরাইশদের পক্ষ থেকে নানা ধরনের বিরোধিতার সম্মুখীন হন। নির্যাতনের একপর্যায়ে মুসলিমরা মদিনায় হিজরত করেন। এমনকি নবীজীর নিজেও একপর্যায়ে মদিনায় হিজরত করেন। হিজরতের পরে কোরআনের আয়াত অবতীর্ণ হয় এবং মুসলমানদেরকে অস্ত্র ধারণের অনুমতি দেয়া হয়। মুহাম্মদ (সাঃ) মদীনায় আসার পর তিনটি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
১. মদিনায় অবস্থিত গোত্র গুলির সাথে তিনি শান্তিচুক্তি স্থাপন করেন।
২. তিনি গোয়েন্দা নিযুক্ত করেন যাতে কুরাইশ এবং তাদের মিত্রদের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা যায়।
৩. মদিনার ওপর দিয়ে যাওয়া সিরিয়া গামী মক্কার বাণিজ্য কাফেলায় অভিযান চালানো হয়।

কুরাইশদের যেসব বাণিজ্য কাফেলা সিরিয়ার পথে যাতায়াত করতো তাদের ওপর বেশ কয়েকটি অভিযান চালানো হয়।
নবীজি মুজে সিরিয়ার অভিমুখী মক্কার একটি বড় বাণিজ্যিক কাফেলার বিরুদ্ধে অভিযানের নেতৃত্ব দেন ৬২৩ সালের নভেম্বর অথবা ডিসেম্বর মাসের দিকে। কাফেলায় কুরাইশদের বিভিন্ন মূল্যবান দ্রব্যসামগ্রী ছিল। ৩০ টি উট এবং ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি মুসলিম বাহিনী ছিল। নবীজি তাদেরকে সাথে নিয়ে যুল উশাইরাহ পর্যন্ত গ্রহণ হয়েছিল। কুরাইশরা এই পথ ধরে মুসলমানদের পৌঁছানোর কয়েকদিন পূর্বে চলে যাওয়ার কারণে মুসলমানরা তাদের পথরোধ করতে পারেনি। গাজওয়ায়ে উশাইরা নামে পরিচিত এই অভিযানটি। মুহাম্মদ (সা:) বারোজন মুহাজিরকে অভিযানে পাঠান ৬২৪ সালের জানুয়ারিতে (২ হিজরির রজম মাস) । এই অভিযানে যাওয়ার জন্য একটি উঠে দুইজন করে আরোহন করছিল। এই বাহিনীর নেতা আবদুল্লাহ ইবনে জাহশকে একটি চিঠি প্রদান করেন নবীজি। এবং বলে দেন দুই দিনের পথ অতিক্রম করার পর এই চিঠিটি যেন করা হয়। নবীজির নির্দেশ মোতাবেক আব্দুল্লাহ ইবনে জাহশ দুইদিন অতিক্রম করার পর চিঠিটি পড়েন। চিঠিতে এই নির্দেশনা দেয়া ছিল যে, চিঠি পড়ার পর তারা যাতে অগ্রসর হয়ে মক্কা ও তায়েফের মধ্যবর্তী নাখোলায় পৌঁছায়। এবং এরপর তারা যেন অপেক্ষা করতে থাকে কাফেলার (কুরাইশদের) আগমনের জন্য। আর তাদের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে মদিনায় অবহিত করা হয়। চিঠির নির্দেশনা পড়ার পর তাঁরা সেই অনুযায়ী অগ্রসর হন। সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস এবং উতবা ইবনে গাজওয়ান রাস্তায় তাদের উট হারিয়ে ফেলায় তারা পিছিয়ে পড়েন। বাহিনী না খোলা পৌঁছে দেখল একটি কুরাইশ কাফেলাতে আবদুল্লাহ ইবনে মুগিরার দুই ছেলে উসমান ইবনে আবদুল্লাহ ও নওফাল ইবনে আবদুল্লাহ এবং মুগিরার মুক্তপ্রাপ্ত দাস আমর ইবনে হাদরামি ও হাকিম ইবনে কাইসান ছিলেন। রজব মাসের শেষ দিন ছিল ওই দিনটি। রজব যুদ্ধ নিষিদ্ধ মাস তাই এই মাসে আক্রমণ করা উচিত ছিল না। আবার অন্যদিকে মাস শেষ হওয়ার পর্যন্ত অপেক্ষা করলে কাফেলাটি মক্কার হারাম সীমানায় প্রবেশ করে ফেলবে তখন তাদের উপরে আর আক্রমণ করাও সম্ভব হয়ে উঠবে না। এমন সমীকরণে বাহিনীটি কাফেলার আক্রমণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমর ইবনে হাদরামি তীরের আঘাতে নিহত হন আক্রমণের শুরুতেই। মুসলিম বাহিনীটি উসমান ইবনে আব্দুল্লাহ এবং হাকিম ইবনে কাইসানকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। আর নফল ইবনে আব্দুল্লাহ সেখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

(চলবে)