কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা কোর্সে ভর্তি হবেন সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ৫টি পরামর্শ

reading

কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন আর কি বিষয়ে অধ্যয়ন করবেন তার সিদ্ধান্ত নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতেই অনেক শিক্ষার্থী দ্বিধাদ্বন্দে ভোগেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কী অধ্যয়ন করবেন তা স্থির করার জন্য এখানে পাঁচটি পরামর্শ শেয়ার করা হলঃ

 ১। ইস্তিখারার সালাত আদায় করুন

এটিকে আপনি সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসাবে বিবেচনা করুন। দুই রাকা’আত সালাত আদায় করুন এবং হেদায়েতের জন্য প্রার্থনা করুন।

অনেকেই মনে করে যে, ইসতিখারার সালাত আদায়ের পর স্বপ্নে কোনো দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে। তবে এই ধারণাটি পুরোপুরি সঠিক না। ইসতিখারার সালাত আদায়ের পর আপনি স্বপ্নও দেখতে পারেন আবার আপনার মনও আপনার প্রার্থিত কাজের দিকে বা বিপরীতে ঘুরে যেতে পারে। শুধু স্বপ্নের মাধ্যমেই যে ফয়সালা জানা যাবে বিষয়টি এমন নয়।

উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি কোনো নির্দিষ্ট কোর্সে আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়মিত বাধা বিপত্তির মুখোমুখি হন, তবে এটি আপনার ইস্তিখারার একটি নেতিবাচক উত্তর হতে পারে। অন্যদিকে, যদি কোনো নির্দিষ্ট কোর্সের জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া আপনার জন্য সহজ হয়, তবে এটি আপনার ইস্তিখারার ইতিবাচক উত্তর হতে পারে।

সুতরাং, আল্লাহর ফয়সালার উপর ভরসা করুন। আল্লাহ আপনার ভাগ্যে যা লিখে রেখেছেন তার মধ্যেই আপনার মঙ্গল আছে। তাই ইস্তিখারা করার পরে আপনার মন যেদিকে ঘুরে যায় আল্লাহর উপর ভরসা করে সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে বা কোর্সে ভর্তি হয়ে যান। ইনশাআল্লাহ এতে আপনার ভাল হবে।

২। আপনার লক্ষ্য এবং আপনার স্বভাবের কথা চিন্তা করুন

আপনি নিজের ক্যারিয়ারকে কাছ থেকে দেখেছেন। আপনি কি অন্তর্মুখী, যারা নির্জনতা, শান্তভাবে কাজ করা পছন্দ করে? নাকি আপনি বহির্মুখী, যারা গ্রুপে এবং উন্মুক্তভাবে সবার সাথে কাজ করা উপভোগ করে? আপনি কি ঘরে থেকে কাজ করা পছন্দ করেন নাকি বাহিরের কোলাহলময় পরিবেশে পছন্দ করেন?

এই জাতীয় প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলে আপনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। এটি সর্বদা আপনাকে মেজাজের বিরুদ্ধে কাজ করা থেকে হেফাজত করবে। কোন ধরণের ক্যারিয়ারের পথ বেছে নেওয়া আপনার জন্য ফলদায়ক হবে তা নির্ধারণে সময় ব্যয় করুন।

৩। আপনার দুর্বলতা এবং সামর্থ্যের বিষয়গুলি চিহ্নিত করুন

আপনি স্কুলে বা কলেজে কোন ধরণের বিষয় উপভোগ করতেন? আপনি কি ইতিহাস এবং ইংরেজি এর মতো মানবিক বিষয়গুলি উপভোগ করতেন? নাকি সাইন্স এন্ড টেকনোলজিতে আপনার আগ্রহ ছিল? আপনার ক্যারিয়ারের জন্য সে পথটিই বেছে নিন যা আপনার উপভোগ্য ছিল এবং যা আপনি উপভোগ করবেন।

স্কুলে বা কলেজে কোন বিষয়গুলি সমাধান করতে আপনার বেশি শ্রম ও মেধা প্রয়োজন হত? উদাহরণতঃ গণিতে যদি আপনার দুর্বলতা হয় তবে হিসাবরক্ষক হিসাবে ক্যারিয়ার গরে তোলা নিঃসন্দেহে আপনার জন্য বোকামি হবে। রক্ত দেখে যদি আপনি দুর্বলতা বোধ করেন, তবে ডাক্তার হয়ে ওঠার স্বপ্নও আপনার জন্য বোকামি হবে।

এভাবে বিভিন্ন পয়েন্ট নিয়ে চিন্তা করুন। আপনার আগ্রহের ও সামর্থ্যের ভিতর যে বিষয়গুলি আছে সেগুলি নিয়ে ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তা করুন। আর আপনার দুর্বলতা গুলোকে চিহ্নিত করে সে বিষয়গুলি থেকে ক্যারিয়ার গঠনের চিন্তা থেকে দূরে থাকুন।

৪। আপনার পিতামাতা এবং অভিজ্ঞ কারও সাথে পরামর্শ করুন

সচেতন পিতামাতা ছোটবেলা থেকেই তাদের সন্তানদের আগ্রহ ও অনাগ্রহের বিষয়গুলি চিহ্নিত করে থাকেন। তাদের দুর্বলতা ও সবলতার বিষয়গুলির দিকেও তারা নজর রাখেন। তাই আপনার পিতামাতা যদি সচেতন হন তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যাপারে বা কোন কোর্স নেবেন সে ব্যাপারে তাদের সাথে পরামর্শ করাটাও আপনার জন্য অনেক ফলদায়ক হতে পারে। 

এক্ষেত্রে সচেতন পিতামাতারও উচিত, যে বিষয়ে সন্তান দুর্বল সে বিষয়ে তাঁকে স্বপ্ন না দেখানো বা নিজেরাও সেরূপ স্বপ্ন না দেখা। আর যদি পিতামাতার স্বপ্ন বা ইচ্ছা সন্তানের ইচ্ছার অনুকুল হয় তবে তো সে বিষয়ে কথাই নেই। নিঃসঙ্কোচে আপনি সে বিষয়টি গ্রহণ করতে পারেন।

আর আপনার পিতামাতা যদি সেরূপ সচেতন না হয় তবে আপনার উচিত এ বিষয়ে অভিজ্ঞ কারও সাথে নিজের সব অবস্থা জানিয়ে পরামর্শ করা।

৫। এটি স্মরণ রাখুন যে, আপনি সর্বদা আপনার মত পরিবর্তন করতে পারবেন

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা কোর্সের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে এটি সর্বদা মাথায় রাখুন যে, কোনো তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলে আপনি আপনার বিশ্ববিদ্যালয় বা ডিগ্রি পরিবর্তন করতে পারবেন। তাই নির্ভয়ে সিধান্ত নিন। জীবনে একবার ভুল করা মানেই সবকিছু হারিয়ে ফেলা নয়।