শরিয়াহ সম্মত ওয়েব পরিবেশ. আরওসন্ধানকরুন

কোরআন তিলাওয়াতের সাত পুরস্কার

মাহে রমজান আল-কোরআন নাজিলের মাস হওয়ায় এ সময় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের সওয়াব অপরিসীম। এ জন্য মানবজাতির হেদায়েতের উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ ঐশীগ্রন্থ আল-কোরআন তিলাওয়াত করা, এর মর্ম হৃদয়ঙ্গম করা এবং তদনুসারে নেক আমল করা প্রত্যেক রোজাদার মুসলমানের অবশ্যকর্তব্য। তাই রমজান মাসকে রোজাদারেরা বিশুদ্ধ তিলাওয়াতের মাস হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। ঐচ্ছিক ইবাদতের মধ্যে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত সর্বোৎকৃষ্ট। মাহে রমজানে আল-কোরআন তিলাওয়াতের ফজিলত সম্পর্কে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল-কোরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়, সেই সর্বোত্তম।’ (বুখারি)

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও রমজান মাসে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করতেন, কোরআন শরিফ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা ও গবেষণা করতেন। এমনকি প্রতিবছর মাহে রমজানে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) বারবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে আল-কোরআন পুনরাবৃত্তি করতেন। এ সম্পর্কে হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে, তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাসের প্রতি রাতে ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) নবী করিম (সা.)-এর খেদমতে হাজির হতেন এবং তাঁরা উভয়ই কোরআন তিলাওয়াত করে একে অপরকে শোনাতেন।’ (বুখারি)
রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর উম্মতদের রমজান মাসে বেশি বেশি কোরআন তিলাওয়াতের দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, ‘যদি কেউ আল্লাহর সঙ্গে বাক্যালাপ করার ইচ্ছা করে, তাহলে সে যেন আল-কোরআন তিলাওয়াত করে।’ নবী করিম (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআনের একটি অক্ষর পাঠ করে, সে একটি নেকি পায়, আর প্রত্যেকটি নেকি ১০টি নেকির সমান।’ (তিরমিজি)

মাহে রমজানে বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। এ জন্য মাহে রমজানে রোজাদার ব্যক্তি বেশি বেশি পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন। তাই রোজা ও কোরআন শরিফ কিয়ামতের দিন রোজাদারের জন্য আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবে এবং আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘রোজাসমূহ এবং আল-কোরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজাসমূহ বলবে, হে প্রতিপালক! আমি এ ব্যক্তিকে দিনে খাবার ও অন্যান্য কামনা-বাসনা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন। আল-কোরআন বলবে, আমি এ ব্যক্তিকে রাতের নিদ্রা থেকে ফিরিয়ে রেখেছি। আপনি আমার সুপারিশ কবুল করুন। আল্লাহ তাদের সুপারিশ কবুল করবেন।’ (বায়হাকি, মুসনাদে আহমাদ)
এ বিষয়ে হজরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কোরআন তিলাওয়াত করো। কারণ কিয়ামতের দিনে কোরআন তিলাওয়াতকারীর জন্য এটি সুপারিশ করবে কিংবা মধ্যস্থতা করবে।’ -সহিহ মুসলিম: ৮০৪
হজরত মুহাম্মদ (সা.) আরও বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে কোরআন শিখে এবং শিক্ষা দেয়।’ –সহিহ বোখারি: ৯/৬৬

কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো বিশ্বমানবতার জন্য চূড়ান্ত পথনির্দেশনা। মানুষের সঠিক পথে জীবন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে আল্লাহ এ গ্রন্থ রাসূল (সা.) এর উপর নাযিল করেছেন।
পথনির্দেশনার পাশাপাশি এর সাথে সংশ্লিষ্টতায় আল্লাহ আমাদের অতিরিক্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। এখানে সাতটি পুরস্কার সম্পর্কে সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো।

১. এক অক্ষরে দশ নেকি
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আল্লাহর কিতাবের একটি অক্ষরও পাঠ করবে, সে একটি উত্তম কাজ করবে এবং একটি উত্তম কাজে দশ নেকি দেওয়া হবে।” (তিরমিজি)

২. দুর্বলতা নিয়ে কুরআন তিলওয়াতে দ্বিগুন পুরস্কার
হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি আন্তরিকতার সাথে কুরআন তেলওয়াত করে, জান্নাতে সে সৎলোকদের সাথে থাকবে। এবং যে ব্যক্তির কুরআন তেলওয়াত করতে গিয়ে কষ্ট হবে এবং কষ্টের সাথেই তা তেলওয়াত করবে, সে দ্বিগুন পুরস্কার পাবে।” (বুখারী)

৩. সূরা ফাতিহা
হযরত আবু সাঈদ (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) একবার তাকে বলেন,
“আমি কি তোমাকে বলবোনা কুরআনের সবচেয়ে উত্তম সূরা কোনটি? এটি হলো ‘আলহামদুলিল্লাহ রাব্বিল আলামীন’ যাতে সাতটি বহুল তেলওয়াত করা আয়াত আছে।” (বুখারী)

৪. শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা
কুরআনের সূরা বাকারার ২৫৫ নং আয়াতটি আয়াতুল কুরসি হিসেবে পরিচিত।
হযরত আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রমজানে সংগ্রহীত যাকাত পাহারার দায়িত্ব পান। তখন এক ব্যক্তি সেখান থেকে কিছু চুরি করার চেষ্টা করলে তিনি তাকে ধরে ফেললেন এবং তাকে রাসূল (সা.) এর কাছে নিয়ে যেতে চাইলেন।
তখন সে ব্যক্তি তাকে রাসূল (সা.) এর কাছে নিয়ে না যাওয়ার অনুরোধ করে বললো, এর বিনিময়ে আমি তোমাকে একটি বিষয় জানাচ্ছি। যখন তুমি ঘুমাতে যাও, আয়াতুল কুরসি পাঠ কর। তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তোমার জন্য নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে এবং সকাল পর্যন্ত শয়তান তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবেনা।”
পরে রাসূল (সা.) কে এ বিষয়ে জানানো হলে তিনি বলেন,
“সে তোমাকে সত্যই বলেছে যদিও সে নিকৃষ্ট মিথ্যাবাদী। সে ছিল শয়তান।” (বুখারী)

৫. জীবনে বরকত
হযরত আবু মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
“যদি কেউ রাতে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তেলওয়াত করে, তবে এটিই তার জন্য যথেষ্ট হবে।” (বুখারী)

৬. কেয়ামতে শাফায়াতকারী
রাসূল (সা.) বলেছেন,
“কুরআন পাঠ করো। কেননা কিয়ামতের দিন এটি তার পাঠকারীর জন্য শাফায়াত করবে।” (মুসানাদে আহমদ)

৭. দাজ্জাল থেকে রক্ষা
হযরত আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেছেন,
“যে ব্যক্তি সূরা কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্ত করবে, সে দাজ্জাল থেকে নিরাপদ থাকবে।” (মুসলিম)
আল্লাহ আমাদেরকে এসকল পুরস্কার অর্জনে সক্ষম করুন।

কিছুবলারথাকলে

যোগাযোগকরুন