কোলস্টেরল বাড়ানোতে ডিমের কোনো ভূমিকা নেই

30235304 - eggs

বাঙালি বরাবরই খাদ্যরসিক। মাছ, ডিম, মাংস ছাড়া মুখে যেন খাবার রুচি আসে না। সকালে নাস্তা থেকে শুরু করে যেকোনো সময়ই এগুলো পেলে আর দেখতে হবে না, মন মেজাজ সব খুশ।

কিন্তু অনেকের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে ডিম নিয়ে। নাস্তায় ডিম খেতে কম বেশি সবাই পছন্দ করে। অনেকে মনে করেন ডিম খেলে কোলস্টেরল বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক এমনকি হৃদ রোগের ঝুঁকি হতে পারে বলে ভাবেন তাদেরকে বলব এটা মোটেও ঠিক ধারণা  নয়। আর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সকালে নাস্তায় একটা ডিম খেলে কোনো ক্ষতিই হয় না, বরং চর্বি যুক্ত খাবার বা মিষ্টি জাতীয় খাবার খেলে রক্তে কোলস্টেরন ও ফ্যাট বেড়ে যায়। রক্তে কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে ডিম মোটেই ততটা কার্যকর নয়। একজন প্রাপ্তবয়স্ক বয়স্ক সুস্থ মানুষ দিনে প্রায় ৩০০ মিলিগ্রাম কোলস্টেরল গ্রহণ করতে পারে। আর ডিমে থাকে মাত্র ২00 মিলিগ্রাম কোলস্টেরল, ফলে কোলস্টেরল বাড়ানোতে ডিমের কোনো ভূমিকা নেই। দিনে একটি ডিম সবাইই খেতে পারে। ডিমের সাদা অংশ খেলে তো কোনো সমস্যাই হয় না, আর কুসুম যুক্ত ডিম খেলে উচ্চ রক্তচাপ, কোলস্টেরল বাড়ে না। আর সবচেয়ে মজার কথা, ডিম কোলস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে না রক্তে কোলস্টেরল জমতে দেয় না।

কোলেস্টেরল হচ্ছে একধরনের ফ্যাট যা কোষের মেমব্রেন-সহ অনেক গাঠনিক প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কম ঘনত্বের লিপো প্রোটিন বা এলডিএল হচ্ছে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল যা রক্ত নালিকার (আরটারি) দেওয়ালে জমা হয়ে স্ট্রোক বা হৃদরোগের বিপদ ডেকে আনে। অন্যদিকে বেশি ঘনত্বের লিপো প্রোটিন বা এইচডিএল হচ্ছে উপকারী কোলেস্টেরল যা প্রবাহমান ক্ষতিকর কোলেস্টেরলকে রক্ত নালিকায় জমা হতে দেওয়ার বদলে লিভারে পৌঁছে দিয়ে ধ্বংস করে দেয়।

অধিকাংশ উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত খাবারের সঙ্গে উচ্চমাত্রায় স্যাচুরেটেড (সম্পৃক্ত) চর্বি আর ট্রান্স চর্বি থাকে। এই সম্পৃক্ত চর্বি আর ট্রান্স চর্বি উভয়ই মেটাবলিক সিন্ড্রোম, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ডিম হচ্ছে উচ্চ কোলেস্টেরলযুক্ত কিন্তু কম সম্পৃক্ত চর্বি ও ট্রান্স চর্বিযুক্ত, আর এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ডায়েটরি গাইডলাইনে ডিম খাওয়া নিয়ে অতিরিক্ত সতর্কতার প্রয়োজন নেই বলে জানান হয়েছে।

ডিম পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ। কেউ শরীর খারাপ বা কোনো কারনে দুর্বল হয়ে পড়লে ডিম খেলে সু স্বাস্থ্যবান হয়ে ওঠে। শুধু কি তাই!! ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা ঠিক রাখে, তাছাড়া প্রোটিনের ঘাটতি মেটায় এই ডিম। তার পাশাপাশি ভালো রাখে চোখ ও হাড়।

ডিমে থাকে অনন্য সব মৌল উপাদান যা আমাদের শরীরকে নানা উপসর্গ থেকে রক্ষা করে। ডিমে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, সোডিয়াম, ভিটামিন বি৩, ভিটামিন বি২, টোটাল ফ্যাট, ওমোগ-৩ ফ্যাটস, ভিটামিন এ ডি ই ও কে, ক্যারোটিনয়েডস, ভিটামিন বি৫, বি৬, বি১২; ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, জিঙ্ক, কপার, আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন বি১, বায়োটিন, সোলিনিয়াম প্রভৃতি রয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে  আয়রন যা মানব কোশের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ করে ও তার পাশাপাশি  রক্তশূন্যতা দূর করে।এছাড়া হজম ক্ষমতা নিয়ে কোনো ঝঞ্ঝাট পোহাতে হয় না। ডিমে থাকা আয়রন সহজেই হজম হয়ে যায়। ভিটামিন -A উপস্থিত থাকার জন্য ডিম ত্বক ও চুলের জন্য খুবই  উপকারী ও দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে।ডিমে আছে ভিটামিন -D  যা হাড় এবং দাঁতের জন্য উপকারী। ডিমে বিদ্যমান ভিটামিন-E একধরনের অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট রূপে কাজ করে, যা শরীরকে সুস্থ ও সবল রাখে এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধক হিসেবে ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন B-12 হার্টকে ভালো রাখে। ফলে খুব তাড়াতাড়ি নতুন কোশের সৃষ্টি হয় ও রক্তস্বল্পতা সহজেই  দূর করে এবং গর্ভবতী মায়েদের গর্ভপাতের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করে। প্রোটিন পেশি, অঙ্গ, ত্বক, চুল এবং বিভিন্ন টিস্যুর জন্য প্রোটিন হরমোন, এনজাইম এবং অ্যান্টিবডি উৎপাদন করে।

কেউ আবার কাঁচা ডিম খেতে বেশ পছন্দ করেন, শুধু সেটা না তারা মনে করেন কাঁচা ডিমের পুষ্টিগুণ বেশি। এ ধারণাটাও ভ্রান্ত। বরং কাঁচা ডিম খেলে সালমোনেলা জাতীয় ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আপনার শরীর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কিডনি অকেজো হয়ে যায় বা রেনাল ফেইলরের রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিম খাবেন। কারণ, কিডনি ফেইলরে প্রোটিন কম খাওয়া উচিত। সবকিছু সবার সহ্য হয় না। অনেকের ডিম খেলে অ্যালার্জি হতে পারে,তাই এই সমস্যা হলে ডিম না খাওয়াই ভালো।এ জাতীয় সমস্যার ক্ষেত্রে  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।