ক্যানসার থেকে বাঁচায় করলা

bitter gourd
ID 170291319 © Olgavolodina | Dreamstime.com

করলাকে সব্জীদের ধন্বন্তরি বললে কিছু বেশি বলা হয় না, এমনই গুণের সম্ভার এর মধ্যে। স্বাদে ভীষণ তেতো এই করলা কমাতে পারে রক্তচাপের মাত্রা, কলোস্টেরল নিয়ন্ত্রণেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, এছাড়াও ওজন কমাতে করলা বহুল প্রচলিত। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে করলার মধ্যে ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষমতা থাকতে পারে। ক্যানসার যা আজকের দিনে একটি মারণব্যাধি, তাকে উপশমের একমাত্র উপায় বিপুল খরচসাপেক্ষ চিকিৎসা। করলা কী কী ধরনের ক্যানসারে কার্যকর হতে পারে সে বিষয়েও বিজ্ঞানীরা মতামত দিয়েছেন। তাঁদের অনুমান যদি সঠিক হয় তাহলে অদূর ভবিষ্যতে ক্যানসারে করলার অবদান অবশ্যই অনস্বীকার্য বলে প্রমাণিত হবে।

করলা আসল উৎসস্থল দক্ষিণ ভারতের কেরালা। চতুর্দশ শতকে চিন প্রথমে এই সব্জীর আমদানি করে যা পরে ছড়িয়ে যায় আফ্রিকা ও ক্যারিবিয়ানে। সাম্প্রতিক কালের মিস্যুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রত্না রায় ও তাঁর সহকর্মীরা করলার ক্যানসার নিরাময়ী ক্ষমতার উপর গবেষণা করা শুরু করেন। ইঁদুরের উপর করা এই পরীক্ষায় দেখা যায় করলার রস ক্যানসারকে ছড়িয়ে পড়া থেকে প্রতিরোধ করে।

বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার কোশ যেমন, স্তন, প্রস্টেট, গলা ইত্যাদির উপর পরীক্ষানিরীক্ষা চালানো হয়। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে ফলাফল আসে একই রকম- করোলা ওই ক্যানসার কোষগুলির বৃদ্ধির হার কমিয়ে দিচ্ছে। যার থেকে বিজ্ঞানীরা ক্যানসার চিকিৎসায় আশার আলো পাচ্ছেন। আরও একটি পরীক্ষায় করোলা গাছের রস ব্যবহার করে জিভের ক্যানসার কোষে তার প্রভাব দেখা হয়। এক্ষেত্রেও ফলাফল দেখা যায় ইতিবাচক।

এর কারণ জানতে গিয়ে দেখা যায়, করলার রস সরাসরি সেই সমস্ত অণুতে গিয়ে আক্রমণ করে যা গ্লুকোজ ও ফ্যাটকে শরীরের মধ্যে চলাচল করতে সাহায্য করে। এরা পরোক্ষ ভাবে ক্যানসার কোষ গুলি খাদ্যের যোগান দেয় এবং ক্যানসারকে আরও ভয়ঙ্কর করে তোলে। করলার এই প্রতিরোধের ফলে ক্যানসার কোশের খাদ্যের যোগান বন্ধ হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ বৃদ্ধিও হ্রাস পায়, এই ঘটনা চলতে থাকলে কোষগুলি মরে যায়।

মিস্যুরি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পরীক্ষায় দেখা যায় যেকোনো ক্যানসার কোষর বৃদ্ধি করোলার প্রয়োগে ৫০% কমে যায়।

কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যানসার নিরাময়ী শাখার প্রধান রাজেশ আগরওয়াল একই রকমের গবেষণা করেন। তাঁর গবেষণায় দেখা যায়, ওই একই ভাবে গ্লুকোজের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করে, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারও নিরাময় করতে করোলা। ইঁদুরের (মাউস মডেল) উপর করা পরীক্ষায় দেখা যায়, যাদের করলার রস খাওয়ানো হয়েছিল তাদের ৬০ শতাংশই ক্যানসার কোষকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়াও বিভিন্ন গবেষণায় যকৃৎ, কলোন ও ফুসফুসের ক্যানসারে করোলা কার্যকরী হয়েছে।

আপাতত এই সমস্ত গবেষণার ফলাফলকে সামনে রেখে আরও অনেক গবেষণা চলছে। বিজ্ঞানীরা এ বিষয়ে আশাবাদী যে ভবিষ্যতে ক্যানসার নিরাময়ের মতো বিষয়ে, করোলা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।

কীভাবে খাবেন করলা?

কাঁচা করলা- স্বাদ যদি কোনো সমস্যা না হয়ে থাকে তাহলে করলা কাঁচা খাওয়া যেতে পারে। প্রয়োজন মতো একটা বা আধখানা করলা ধুয়ে মাঝামাঝি কেটে নিন। করলা ভিতরে থাকা বীজ গুলি বের করে দিয়ে, চিবিয়ে খেয়ে নেওয়া যেতে পারে।

ভাজা করলা- কাঁচার সাথে করলা ভেজে খাওয়ার চল আছে। এক্ষেত্রে করলাকে দু-আধখানা করে কেটে অল্প একটু নুন মাখিয়ে ভাজতে হবে। বেশি তেল না দেওয়াই ভালো, যতটা সম্ভব কম তেলে ভাজলে খাদ্যগুণ অটুট থাকে।

করলা সেদ্ধ- সেদ্ধ করোলাও শরীরের পক্ষে ভীষণ উপকারী। সেদ্ধ করতে গেলে প্রথমে করলার ১/৩ ভাগ চিরে নিতে হবে, যাতে ভালো ভাবে সেদ্ধ হয়। এরপর বীজগুলো বের করে নিয়ে শুধু অথবা তেল-আলু দিয়ে মেখে খাওয়া যেতে পারে।

 

করলার জ্যুস- করোলার জ্যুসের ক্ষেত্রেও বীজ প্রথমে বের করে নিতে হবে। এরপর প্রয়োজন মতো জল ও করোলা দিয়ে জ্যুসারে জ্যুস বানিয়ে নেওয়া যায়। স্বাদবৃদ্ধির জন্য বিটনুন ও অন্যকোনো মশলা ব্যবহার করা যেতে পারে।