SalamWebToday নিউজলেটার
Sign up to get weekly SalamWebToday articles!
আমরা দুঃখিত কোনো কারণে ত্রুটি দেখা গিয়েছে:
সম্মতি জানানোর অর্থ, আপনি Salamweb-এর শর্তাবলী এবং গোপনীয়তার নীতি মেনে নিচ্ছেন
নিউজলেটার শিল্প

ক্রোধের সময়ও মুখের ভাষা হোক সংযত

পুরুষ ০৩ মে ২০২০
ক্রোধের সময়
Mengapa sombong? © Photobeps | Dreamstime.com

গালিগালাজ করা মোটেই কোন ভালো কাজ না। গালিগালাজ করা কাম্য না। ভাষা ও শব্দ ব্যবহারে আমাদের অবশ্যই সংযমী হতে হবে। গালি দিয়ে কারও মনে কষ্ট দেওয়া ইসলাম সমর্থন করে না। অন্যকে গালি দেওয়া বা অশ্রাব্য ভাষায় কথা বলা কোনো মুমিনের কাজ হতে পারে না। মুমিন তো ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে গেলেও মার্জিত ভাষায়, ভদ্র ও সংযতভাবে প্রতিক্রিয়া দেয় কিন্তু কিছু মানুষ রাগান্বিত হলে অন্যকে অশ্লীল ও শ্রুতিকটু বাক্যবাণে নাজেহাল করে। অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। ক্রোধের সময় মুখের ভাষা পরিশীলিত রাখুন।

ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যকে গালি দেওয়া সম্পূর্ণ হারাম। আর তা যদি হয় বিনা অপরাধে, তাহলে তা আরো জঘন্য অপরাধ। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা অপরাধে ঈমানদার পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা অবশ্যই মিথ্যা অপবাদ ও স্পষ্ট অপরাধের বোঝা বহন করে। (সুরা আহজাব, আয়াত : ৫৮)

ক্রোধের সময় অশ্লীল কথা বলার বিরুদ্ধে হাদিস

সভ্য মানুষ অন্যকে গালি দেয় না। অশ্রাব্য ভাষায় কারো সঙ্গে কথা বলে না।  ইসলামে যে কোনো কারণেই হোক, কাউকে গালি দেয়ার অনুমতি নেই। হাসি-কৌতুক ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দেয়া ইসলামের দৃষ্টিতে অশোভনীয়। যার মধ্যে চারটি অভ্যাস আছে তাকে হাদিসে মুনাফিক বলা হয়েছে। এগুলোর কোনো একটি পাওয়া গেলেও সে মুনাফিক হিসেবে ধর্তব্য হবে। হাদিসের আলোকে সেগুলো হলো, ‘যখন তাকে বিশ্বাস করা হয়, সে বিশ্বাস ভঙ্গ করে। কথা বললে, মিথ্যা বলে। অঙ্গিকার করলে ভঙ্গ করে এবং বিবাদ-বিতর্কে উপনীত হলে অন্যায় পথ অবলম্বন করে। (বুখারি, হাদিস নং : ৩৪; মুসলিম, হাদিস নং : ১০৬)

অন্য এক হাদিসে আছে, ‘কবিরা গুনাহগুলোর একটি হলো নিজের বাবা-মা’কে অভিশাপ করা।’ জিজ্ঞেস করা হল, আল্লাহর রাসুল! মানুষ নিজের বাবা-মা’কে কিভাবে অভিশাপ করে?’ তিনি বললেন, ‘যখন সে অন্যের বাবাকে গালি-গালাজ করে, তখন সে নিজের বাবাকেও গালি-গালাজ করে থাকে। আর সে অন্যের মা-কে গালি দেয়, বিনিময়ে সে তার মা-কেও গালি দেয়।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৯৭৩, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯০২)
আল্লাহ তাআলা আমাদের গালমন্দ ও অশ্লীল বাক-বিনিময় থেকে রক্ষা করুন। মার্জিত ভাষা ও শ্রুতিমধুর শব্দ ব্যবহারের তাওফিক দান করুন।
গালাগালি কোন বিষয়ের সমাধান নয়, ভদ্র মানুষ কখনো কোনো কারণে গালাগালিকে হাতিয়ার হিসেবে অবলম্বন করে না, গালাগালি সমাধানের পরিবর্তে পরিস্থিতি আরো জটিল করে তুলে, আল্লাহ পাক পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের উপাসনা করে তোমরা তাদেরকে গালি দিও না। কারণ তাহলে তারাও আল্লাহ কে গালি দিবে অজ্ঞতা বশত, এতে কোন সমাধান আসবে না।’ মানুষ সামাজিক জিব।

গালিগালাজ দেবেন না,

জীবনযাপনে একজনের সাথে আরেকজনের মিল নাও হতে পারে অথবা একজন আরেকজন দ্বারা অজ্ঞতা বশত ক্ষতির স্বীকার হতে পারে, এজন্য প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে গালাগালি, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা এটা ইসলাম সমর্থন করে না, এটা ইসলামের শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এক্ষেত্রে ইসলামের নির্দেশনা হলো পারলে ক্ষমা করে দাও, এতে তোমার অনেক সওয়াব হবে। কেয়ামতের ময়দানে আল্লাহ ও তোমাকে ক্ষমা করে দিবে, আর না হয় চুপ থাক, ধৈয্যের সওয়াব পাবে। ক্রোধের সময় শান্ত থাকাই সমীচীন।

দ্বীন ইসলামের প্রচার করতে নবীরা অনেক গালিগালাজ শুনেছেন, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য অশ্লীল বাক্য ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, কখনো তারা পালটা জবাব দেননি, হাসিমুখে বরণ করেছেন।  আমাদের নবীজী সাঃ এর সারা জীবনে কাউকে কোন কারণে গালি দিয়েছেন এমন নজির কেউ দেখাতে পারবেনা। এমনকি সাহাবায়ে কেরাম গালি দিয়েছেন বলে প্রমাণ নেই।  এমনকি ইসলামের চরম দুশমন মোনাফেক কাফেররা ও তাদের হীন উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য গালি দিত না। আর যদি কিছু বলতে হয় তাহলে উত্তম কথা দ্বারা প্রতি উত্তর কর, পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন তোমরা উত্তম কথা দ্বারা প্রতিহত করো তাহলে তোমার মাঝে এবং তার মাঝে যে শত্রুতা ছিলো তা দূর হয়ে যাবে এবং অন্তরংগ বন্ধুত্ত্ব তৈরি হবে।

গালিগালাজ করা কোনো সুস্থ মানসিকতার পরিচয় নয়। মুদ্রাদোষ বা অভ্যাসবশত অনেকেই কথায় কথায় গালি দেন, অনেকেই হাসি-তামাশা ও ঠাট্টাচ্ছলেও অন্যকে গালি দিয়ে বসেন এসবের কোনোটিই ঠিক নয়। গালি সম্বন্ধে হজরত রাসুলুল্লাহ [সা.] বলেছেন, ‘এমন দুই ব্যক্তি, যারা একে অপরকে গালমন্দ করল, তখন ওই গালির পাপ সে ব্যক্তির ওপরই পতিত হবে, যে প্রথমে গালি দিয়েছে যে পর্যন্ত না নির্যাতিত ব্যক্তি সীমা অতিক্রম করে।’ এই হাদিসের আলোকে বোঝা যায় যে, গালির সূচনাকারী ব্যক্তি অত্যাচারী এবং দ্বিতীয় ব্যক্তি অত্যাচারিত। আর অত্যাচারিত ব্যক্তি ওই পরিমাণ প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারে যে পরিমাণ সে নির্যাতিত হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে গালি দ্বারা গালির প্রতিশোধ গ্রহণ না করাই উত্তম।

আশা করি সহিহ মুসলমান হলে ক্রোধের সময় মাথা শীতল রাখতে পারবেন।